পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার মগরায় ২২ বছর বয়সী কনটেন্ট ক্রিয়েটর সায়নী চক্রবর্তীর ঝুলন্ত দেহ পাওয়া গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে মগরা থানার পুলিশ দেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে পাঠায়। সায়নীর অকাল ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক ও আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান এটি আত্মহত্যা ঘটনার সম্ভাব্যতা রয়েছে, তবে তারা মৃত্যুর সব দিকে খুঁটিনাটি তদন্ত করছে। হুগলি গ্রামীণ পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি; ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।
আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি, তবে পরিবার শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও পুলিশকে জানানো হয়েছে।
পুলিশি এবং স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, সায়নীর সঙ্গে ত্রিবেণীর এক যুবকের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল এবং সম্প্রতি সেই সম্পর্কেই টানাপোড়েন দেখা দিয়েছিল। তদন্তকারীরা সম্পর্কজনিত চাপ-ক্ষোভ এবং সায়নীর মানসিক অবসাদ—এই সব সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখছেন। পুলিশ জানিয়েছে, সায়নী কিছুদিন ধরেই মানসিকভাবে খারাপ অবস্থায় ছিল; তা কি এই চরম সিদ্ধান্তের কারণ হয়েছে, সেটিও তারা যাচাই করছে।
সায়নী কেবল আইনের শিক্ষার্থীই ছিলেন না, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় ৩ লাখেরও বেশি ফলোয়ার রাখতেন। মা মলি চক্রবর্তীর সঙ্গোনুকরণে বানানো তাঁর দৈনন্দিন জীবনের সরল ভিডিওগুলো দর্শকপ্রিয়তায় লক্ষণীয় ছিল। দর্শকদের মন জেতার অন্যতম বিষয় ছিল তাঁর পোষ্য গরু ‘সুন্দরী’কে নিয়ে খুনসুটি ও আদর—এমন একটি ভিডিও তিনি মৃত্যুর প্রায় ২৪ ঘণ্টা আগেও পোস্ট করেছিলেন।
তার ভিডিওগুলোর আরেকটি আকর্ষণ ছিল বাইক চালানো—ঐতিহ্যবাহী শাড়ি বা আধুনিক জিনসে বাইক চালানোর রিলগুলো বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। তিনি ব্রাইডাল মডেল হিসেবেও কাজ করতেন; ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা তাঁর শেষ ভিডিওটি ছিল বিয়ের সাজে কনে সেজে এক পুরনো বাংলা গানের সঙ্গে লিপ-সিঙ্ক করা একটি ক্লিপ।
পুলিশ ঘটনার প্রতিটি দিকই খতিয়ে দেখছে এবং ময়নাতদন্ত রিপোর্টের পরই পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পরিবার ও অনুরাগীরা শোকাহত; সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই শ্রদ্ধা জানিয়ে মন্তব্য করছেন। তদন্তে নতুন কোনো তথ্য সামনে এলে তা জানানো হবে।