1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
এবারের ঈদে প্রায় এক কোটি পশু কুরবানি হবে: প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ঈদে সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করছে বিদ্যুৎ বিভাগ ঈদে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে বিদ্যুৎ বিভাগ প্রাণিসম্পদমন্ত্রী: এবারের ঈদে প্রায় ১ কোটি পশু কুরবানি হবে মক্কায় হজে আরও তিন বাংলাদেশির মৃত্যু সন্ত্রাসীদের কোনো অভয়ারণ্য থাকবে না, নির্মূল করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একদিনে ৬ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭ জনের মৃত্যু লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন আরও ১৭০ বাংলাদেশি লিবিয়ার বেনগাজি থেকে ফিরলেন আরও ১৭০ বাংলাদেশি ইউনিসেফ সাতবার রিমাইন্ডার দিলেও টিকা নেনি পূর্ববর্তী সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরানের দক্ষিণে মার্কিন হামলা, শান্তি আলোচনা অনিশ্চিত

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন বাহিনী, যা চলমান যুদ্ধবিরতির ওপরই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, আক্রমণগুলো ‘আত্মরক্ষামূলক’ উদ্দেশ্যে করা হয়েছে এবং ইরানি বাহিনীর সম্ভাব্য হুমকি থেকে মার্কিন সৈন্যদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।

সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেছেন, যুদ্ধবিরতির চলমান পরিস্থিতিতেও মার্কিন বাহিনী সতর্কতা বজায় রেখে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। হামলার লক্ষ্য হিসেবে তারা দক্ষিণাঞ্চলের বান্দার আব্বাসের কাছে কিছু স্থাপনা ও নৌযানকে উল্লেখ করেছে; দাবি করা হয়েছে, সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপন এবং মাইন মজুদ বা স্থাপন করার চেষ্টা চালানো হচ্ছিল। বান্দার আব্বাস হচ্ছে হরমুজ প্রণালীর তীরে অবস্থিত একটি কৌশলগত নৌঘাঁটি — তাই এই এলাকায় সংঘর্ষের সম্ভাব্য প্রভাব বেশি।

নিউইয়র্ক টাইমসসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পরে ইরানি কর্মকর্তারা স্থানীয় ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন। তবে ইরান কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়নি; এর ফলে চলমান আলোচনা ও সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ওপর এই অভিযানের কী প্রভাব পড়বে, তা অনিশ্চিত রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সাংবাদিকদের বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু এখনই কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, ‘‘আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে আমরা অগ্রসর হয়েছি, তবে চূড়ান্ত চুক্তি এখনও হয়নি।’’

এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পর্যায়ের কিছু আবেদন-ঘোষণা এসেছে: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, দুই পক্ষ সমঝোতার কাছাকাছি এসেছে এবং তিনি আলোচকদের তাড়াহুড়া না করতে বলেছেন। কেউ কেউ, যেমন সিনেটর মার্কো রুবিও, মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন যে সমস্যা না এলে সোমবারের মধ্যে কোনো সমঝোতার ম্যাটেরিয়াল হতে পারে — তবে এসব বক্তব্যও সময়ভিত্তিক আনুমানিক ইঙ্গিত।

সংবাদে বলা হয়েছে, আলোচনার খসড়া চুক্তিতে রয়েছে—৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী স্তরে আরও আলোচনার আয়োজন। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা ইরানি তহবিল মুক্ত করা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার মতো বিতর্কিত বিষয়গুলো সম্মতিতে আনা কঠিন হবে এবং পরে বিস্তারিতভাবে আলোচনা হবে।

মার্কিন গণমাধ্যম ও কূটনৈতিক সূত্রের একটি অংশ বলেছে যে, ইরানের শীর্ষ পর্যায়ে যোগাযোগের জটিলতা দেখা দিয়েছে এবং কিছু নেতার অবস্থান গোপন থাকতে পারে; এসব দাবিকে এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

পটভূমি হিসেবে উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারি শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একটি ব্যাপক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বৃদ্ধি পায়—যার জবাবে ইরান ও স্থলীয় কোনো পক্ষ প্রতিক্রিয়া হিসেবে আঘাত করে এবং কিছু সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালি কাজে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে; এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার মতো প্রভাব পড়েছিল। পক্ষগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে; তবু সামুদ্রিক ও কৌশলগত এলাকা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টানাপোড়েন চলছে, এবং এই নতুন হামলা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

ওভারঅল, চলমান হামলা ও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অভাবে শান্তি আলোচনার ভবিষ্যত ধোঁয়াশায় রয়েছে। পরিস্থিতি কিভাবে বদলাবে তা নির্ভর করছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপগুলোর ওপর।

সূত্র: বিবিসি, নিউইয়র্ক টাইমস ও মার্কিন সরকারি বিবৃতি

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo