1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
একদিনে ৬ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭ জনের মৃত্যু লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন আরও ১৭০ বাংলাদেশি লিবিয়ার বেনগাজি থেকে ফিরলেন আরও ১৭০ বাংলাদেশি ইউনিসেফ সাতবার রিমাইন্ডার দিলেও টিকা নেনি পূর্ববর্তী সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী পদ্মা সেতুতে ১২ ঘণ্টায় ২১ হাজার ৩৯৮ যান পারাপার, টোল আদায় ২ কোটি ৪১ লাখ ৮০ হাজার ৪৫০ টাকা সন্ত্রাসীরা যতই ঝামেলা করুক, আমরা প্রতিহত করব: এসপি মাসুদ শিশু রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল ও স্ত্রীর বিরুদ্ধ অভিযোগ গঠনের শুনানি ১ জুন শিশু রামিসা হত্যা: সোহেল ও 그의 স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ১ জুন পাসপোর্টে ফের যুক্ত হচ্ছে ‘একসেপ্ট ইসরায়েল’, গুরুত্ব পাবে জাতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ঈদে ছয় দিন: মহাসড়কে লরি, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চলাচল বন্ধ

একদিনে ৬ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭ জনের মৃত্যু

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬

দেশের ছয় জেলায় সোমবার (২৫ মে) বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ২৭ জন নিহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা এই মর্মান্তিক ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল টাঙ্গাইলে ঘটে যাওয়া একটি ট্রাক উল্টে পড়ার ঘটনা।

টাঙ্গাইল

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিহাতির সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় ভোর চারটার দিকে রডবোঝাই একটি ট্রাক খাদে উল্টে ১৫ জন নিহত হন। নিহতরা সবাই ট্রাকে চড়ে উত্তরবঙ্গ যাওয়ার পথে ছিলেন—জ্ঞাত কারণে ভাড়াবাঁচাতে যাত্রীরা সাধারণ পরিবহনে ওঠার বদলে মালবাহী ট্রাকে উঠে যান। ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে ট্রাকের ওপর থাকা যাত্রীরা রডের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই ১৫ জনের মৃত্যু হয় এবং কমপক্ষে ছয়জন আহত হন। দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে যান। কালিহাতি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ইনচার্জ আতাউর রহমান ঢাকা পোস্টকে খবর নিশ্চিত করেন।

স্থানীয় জেলা প্রশাসন নিহত প্রত্যেক পরিবারের জন্য ২৫ হাজার টাকা ও আহতদের জন্য ১৫ হাজার টাকা অনুদান ঘোষণা করেছে। উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয়রা অংশ নেন; মরদেহগুলো আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গোপালপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফৌজিয়া হাবিব খান বলেন, মালবাহী ট্রাকে যাত্রী পরিবহনে নিরন্তর ঝুঁকি আছে এবং ঘটনার যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বগুড়া

বগুড়ায় চারজন নিহত হয়েছেন। বিকেলে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে কাহালু উপজেলার কাজীপাড়া এলাকায় বাস ও অটোরিকশার সংঘর্ষে মা ও মেয়ের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতরা হলেন বাবুল তালুকদারের স্ত্রী জেসমিন খাতুন (৪৫) ও তাদের মেয়ে তণু আক্তার (২০)। সংঘর্ষে অটোরিকশার চালক শাওন মিয়া (১৮) গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তিনি স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি।

আরেকটি পৃথক ঘটনায় সকাল সাড়ে ছয়টায় শাজাহানপুর উপজেলার বনানী এলাকায় অজ্ঞাত একটি যানবাহন মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিলে মোটরসাইকেল চালক আনিছুর রহমান ও তার চারবছর বয়সী কন্যা পুষ্প ঘটনাস্থলেই মারা যান; নিহতের স্ত্রী আয়েশা বেগম গুরুতর আহত এবং শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আনিছুর রহমান রংপুরে একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। অজ্ঞাত যানবাহনটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে একটি পিকআপভ্যানের ধাক্কায় একটি মোটরসাইকেলে থাকা পরিবারের তিন সদস্য—মনির হোসেন (৩৫), তার স্ত্রী মুন্নি আক্তার (৩০) ও ছেলে আয়ান (৬)—মৃত্যুবরণ করেন। তারা মোটরসাইকেলে করে বাড়ি যাচ্ছিলেন। ঘটনার পর পিকআপটি পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা গাড়িটি আটক করে। মিঠামইন থানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সিরাজগঞ্জ

শাহজাদপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় মোট তিনজন প্রাণ হারান। সোমবার বেলা এগারোটার দিকে বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়কের দিলরুবা বাসস্ট্যান্ড ও মশিপুর এলাকায় সংঘটিত সংঘর্ষে আট বছর বয়সী সারা খাতুন ও সাত বছরের আহম্মদ নামের শিশু নিহত হন। পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, একটি যাত্রীবাহী সিএনজির সঙ্গে লবণবোঝাই ভটভটির সংঘর্ষ ও এক সময় সিমেন্টবোঝাই ট্রাক পথচারীর উপর দিয়ে গেলে এসব প্রাণহানি ঘটে। ঘটনার পরে গৃহীত আইনি প্রক্রিয়া ও আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

মানিকগঞ্জ

মানিকগঞ্জ-হেমায়েতপুর আঞ্চলিক সড়কের কিটিংচর এলাকায় বিকেলে একটি নম্বরবিহীন মোটরসাইকেল ও সিএনজি অটোরিকশার সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক মো. কাউসার আহম্মেদ (১৮) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আরেক আরোহী মো. আরাফাতকে (১৮) গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত কাউসারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

গোপালগঞ্জ

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সোনাশুর এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে দুপুরে যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস ও একটি প্রাইভেটকারের ত্রিমুখী সংঘর্ষে মাইক্রোবাস চালক নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা এলাকাবাসীর সহায়তায় হতাহতদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান; গুরুতর ১৩ জন ভর্তি রয়েছেন। দুর্ঘটনার কারণে ওই সড়কে আনুমানিক দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।

এই একদিনে ছয় জেলায় ঘটে যাওয়া এ ঝড়ো ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত ও আহতদের চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও জেলা প্রশাসন নিহতদের পরিবারকে সহায়তা ও আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জনগণকে অনুরোধ করেছে—অনুচিতভাবে মালবাহী যানবাহনে চড়ে ভ্রমণ করা ও ট্রাফিকের নিয়ম না মেনে ওভারটেকিং করলে প্রাণহানি বাড়তে পারে, তাই সীমিত চলাচলে সচেতন হওয়ার।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo