চলতি বছরের আরাফাতের দিনে পৃথিবী একটি বিরল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনার সাক্ষী হবে — দুপুরের সময় পবিত্র কাবা শরীফের ঠিক উপরে অবস্থান করবে সূর্য। এই মুহূর্তে মক্কায় কাবার আশপাশে ছায়া পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যাবে। গালফ নিউজের রোববার (২৪ মে) করা প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন ঘটনাটি আগামী ২৭ মে দুপুরে ঘটবে। ভৌগোলিক কারণে সাধারণত বছরে দুবার সূর্য কাবার ওপর সরাসরি অবস্থান করে; মক্কার উত্তর অক্ষাংশ প্রায় ২১.৪ ডিগ্রী হওয়ায় সূর্যের কৌণিক অবস্থান নির্দিষ্ট সময়ে মককার অক্ষাংশের সঙ্গে মিলে গেলে এ ধরনের দৃশ্য দেখা যায়। আরাফাতের দিনের সঙ্গে এ মিল হওয়ায় বছরের এই মুহূর্তটি বিশেষ করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন বিরল সমাপতন প্রতি আনুমানিক ৩৩ বছর পরপর ঘটে — হিজরি চান্দ্র ক্যালেন্ডার ও গ্রেগরিয়ান সৌর ক্যালেন্ডারের তফাৎ ও তাদের আলাদা চক্রের কারণে এ সময় ব্যবধান তৈরি হয়। সর্বশেষ পৃথিবীব্যাপী এ ধরনের মিল দেখা গিয়েছিল ১৯৯৩ সালে।
সৌদি আরবের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র এবারে যে ঘটনাটি ঘটতে যাচ্ছে তা প্রাকৃতিক ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পুনরাবৃত্তি বলেও জোর দিয়ে জানিয়েছে। কেন্দ্রের সরকারি মুখপাত্র হুসেইন আল কাহতানি বলেন, এ ঘটনার ফলে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়বে—এমন দাবি ভিত্তিহীন। তাপমাত্রা কেবল সূর্যের অবস্থার ওপর নির্ভর করে না; আর্দ্রতা, মেঘ, বায়ুপ্রবাহ ও অন্যান্য জলবায়ুগত উপাদানও তা প্রভাবিত করে।
তিনি আরও বলেন, আবহাওয়ার তথ্য ও তাপমাত্রার ওপর নির্ভুল রিপোর্ট নিশ্চিত করতে কেন্দ্রটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, আধুনিক প্রযুক্তি ও সংখ্যাসূচক পূর্বাভাস মডেলসমূহ ব্যবহার করে। তিনি গুজব ও অসত্য প্রচারের বদলে সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের ওপর নির্ভর করার আহ্বানও জানিয়েছেন।
এমন বিরল দৃশ্য তাবলীগী, তীর্থযাত্রী ও জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীদের জন্য এক মনোমুগ্ধকর অভিজ্ঞতা হবে। তবে বিজ্ঞানের বিচারে এ কেবল একটি নিয়মিত মহাজাগতিক সমাপতন, যা পর্যবেক্ষণ করে ঐতিহ্য ও বিজ্ঞান—দুটি দিকেই কৌতূহল জাগানো সম্ভব।