সর্বদা শান্তিপূর্ণ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই অভিবাসনের প্রতি বিশ্বাসী বাংলাদেশ—এমন শব্দে শুরু করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে রোহিঙ্গা সংকটের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট এখন জটিল ও সংবেদনশীল একটি ইস্যুতে পরিণত হয়েছে এবং এটি দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য স্পষ্ট হুমকিস্বরূপ।
শনিবার (২৩ মে) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনাইককে সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৈঠকে তিনি রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।
দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা সংকট নিরসন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়ন, এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ শুরু থেকেই রোহিঙ্গা ইস্যুকে বিশ্বসংঘের মনোযোগের কেন্দ্রে রেখেছে—এটি প্রশংসনীয় এবং আশাব্যঞ্জক। তবে এই মানবিক ও নিরাপত্তাজনিত সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশের পক্ষে এককভাবে সব দায় স্বীকার করা সম্ভব নয়। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও ব্যাপক সমর্থন এবং পর্যাপ্ত তহবিলের গুরুত্ব তিনি তুলে ধরেন।
সালাহউদ্দিন আরও জানান, বর্তমানে কিছু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের জন্য মানবিক প্রকল্প চলমান আছে, কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে প্রয়োজনীয় কাজ ত্বরান্বিত করতে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়াতে হবে।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশের বিশাল সংখ্যক সদস্যও নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে, যা দেশের সম্মান ও মর্যাদা আরও উজ্জ্বল করেছে।
মন্ত্রী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সমর্থনকে বিশেষভাবে স্বাগত জানান এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমে জাতিসংঘের দৃশ্যমান ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন—অসূর ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা আরও গভীর ও কার্যকর হবে।
আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনাইক বলেন, জাতিসংঘ বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও জনগণের কল্যাণের অংশীদার হিসেবে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে সংস্থার সম্পর্ক আরও কার্যকর করার কৌশলগত ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করতে মন্ত্রীর মতামত ও পরামর্শ চান।
ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনাইক বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের উদারতা, সংহতি ও মানবিক দায়িত্ববোধের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং স্বীকার করেন—এত বিশাল সংখ্যক শরণার্থীর দীর্ঘমেয়াদী বোঝা বাংলাদেশ একা বহন করতে পারবে না। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও মনোযোগ, কার্যকর চাপ ও দৃশ্যমান সমর্থনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের সহায়তা কামনা করে জানান, বাংলাদেশের এসডিজি অর্জনে জাতিসংঘের তৎপরতা ও ঘনিষ্ট সহযোগিতা অপরিহার্য। বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী আবাসিক সমন্বয়কারীকে দেশে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান; আবাসিক সমন্বয়কারী মন্ত্রীর নতুন পোর্টফোলিওতে শুভেচ্ছা জানান।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘ আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়ের হেড অব অফিস লুইস বারবার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান ও উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।