নারায়ণগঞ্জের একটি অ্যালবিনো মহিষের বিরল চেহারা ভিডিও-ছবির মাধ্যমে দেশের বাইরেও আলোচনায় এসেছে। মাথার চুলের স্টাইল এবং মোটামুটি মিল থাকার কারণে স্থানীয়ভাবে মহিষটির নাম রাখা হয় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’—যা এখন গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও জায়গা পেয়েছে।
এই আলোচনায় এবার যোগ দিয়েছে ইরানও। রাশিয়ায় অবস্থিত ইরানের দূতাবাস তাদের আনুষ্ঠানিক এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে মহিষটির একটি ভিডিও পোস্ট করে রসিকতা করে; ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘বেচারা! ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তুলনা করায় বাংলাদেশি মহিষটির মন খারাপ হয়ে গেছে।’ পোস্টে তারা রুশ সংবাদমাধ্যম আরটির একটি রিপোর্টও সংযুক্ত করে, যেখানে বলা হয় দর্শকদের ভিড় এত বেড়ে যাওয়ায় মহিষটির খাওয়াদাওয়া কমে গেছে।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, প্রায় ১,৫০০ পাউন্ড (প্রায় ৬৮০ কেজি) ওজনের এই মহিষটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক অদ্ভুত তারকা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভিড়ে প্রতিদিনই মানুষ মহিষটিকে দেখতে ছুটে আসে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি-ও মহিষটির ছবি প্রকাশ করেছে এবং খবরটি সরবরাহ করেছে।
মহিষটির মালিক ৩৮ বছর বয়সী জিয়া উদ্দিন মৃধা বলেন, ঢাকার কাছের নারায়ণগঞ্জে তার খামারে থাকা এই চার বছরের মহিষটির বিশেষ ধরনের চুলের স্টাইল দেখে তার ছোট ভাইই নামটি দিয়েছে। তিনি জানান, মে মাস জুড়ে খামারে কৌতূহলী মানুষের ভিড় লেগেই আছে—স্থানীয়রা, শিশু-কিশোর এবং সোশ্যাল মিডিয়ার অনুসারীরা সবাই মহিষটিকে একনজরে দেখতে আসছেন।
একই সঙ্গে দেশের পবিত্র ঈদুল আজহার প্রস্তুতিও চলছে। জিয়া উদ্দিন বলেন, চার বছর বয়সী এই মহিষটিকেও কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি আবেগপ্রবণভাবে বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আমি অবশ্যই মিস করব। তবে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ—আর সেটাই করতে হবে।’ জিয়া উল্লেখ করেছেন যে তিনি গত এক বছর ধরে মহিষটিকে লালন-পালন করছেন।
সামান্য হিউমার নিয়ে শুরু হওয়া এই কাহিনিটি দ্রুত আন্তর্জাতিক মনোযোগ পেয়ে সামাজিক ও সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে—আর এখন মনে হচ্ছে ছোট্ট সেই মহিষটিই দেশের এক অনूठা প্রবৃত্তি হয়ে উঠেছে।