মিডল ইস্ট আই-এর বরাতে জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলা স্থগিত রেখেছেন। উপসাগরীয় কয়েকটি মিত্র দেশ এবং তার নিজের কর্মকর্তারা হজের সময় আনুযুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি না করার পরামর্শ দিলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
দুইজন জ্যেষ্ঠ উপসাগরীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছিল যে হজ চলাকালীন ইরানের ওপর হামলা হলে বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে এবং লক্ষাধিক হাজি আটকা পড়ার সম্ভাবনা থাকবে। এ ছাড়াও মুসলিম বিশ্বের কাছে আমেরিকার ভাবমূর্তি ঈদুল আজহার আগে এই পবিত্র সময়ে আক্রমণ করলে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে তাদের আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয়েছিল।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ আলোচনার সঙ্গে পরিচিত এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা এই ধরনের আলোচনা সত্যিই হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মার্কিন এড় কর্তৃপক্ষগুলো প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করেছিলেন যে এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত পুনরায় জোরদার করলে ট্রাম্পের জন্য গুরুতর সুনামহানি ঘটবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্বেও রমজান মাসে ইরানের ওপর হামলার মতো ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু হজের সময়ে আক্রমণ হলে সৌদি আরব—যা প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ বিদেশি হাজিকে আতিথেয়তা দেয়—এক বিশাল লজিস্টিক সংকটে পড়ত। এই প্রভাব শুধু সৌদি আরবে সীমাবদ্ধ থাকত না; কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো উপসাগরীয় বিমান ও পরিবহন কেন্দ্রগুলোতেও ব্যাপক বিপত্তি দেখা দিত এবং দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়া থেকে আসা হাজিদের দেশগুলিতেও সমস্যা সৃষ্টি হতো।
চলতি বছরের হজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম ২৪ মে শুরু হয়ে ছয় দিনব্যাপী চলার কথা। ইতোমধ্যে কয়েক লাখ হজপ্রত্যাশী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এসব কারণেই, সূত্রগুলো বলছে, ট্রাম্প ওই সময়ে ইরানের ওপর নির্বিচারে আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে গেছেন।