জাতীয় বাজেটে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে করব্যবস্থা আরও সরল ও যৌক্তিক করা হবে এবং অযৌক্তিক করচাপ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। এসব কথা তিনি বুধবার (২০ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড রিপোর্টিং (এফএআর) সামিট-২০২৬-এর এক ব্যবসায়িক অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে বলেন।
‘ইমপ্রুভিং ফাইন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্ট কোয়ালিটি: রোল অব সিএফওস, অ্যাকাউন্ট্যান্টস, ম্যানেজমেন্টস অ্যান্ড ওভারসাইট বডিজ’ শীর্ষক ওই অধিবেশনের আয়োজন করে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি)। সহযোগিতায় ছিলেন ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইক্যাব) ও ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)।
বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, সরকার করনীতি আরও পরিষ্কার ও বাস্তবসম্মত করলে দেশীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিনিয়োগ ও কার্যক্রম বৃদ্ধি পাবে। তবুও এর সঙ্গে কর পরিপালন বাড়ানো ও প্রতিষ্ঠানের সত্যনিষ্ঠ আর্থিক প্রতিবেদন নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চেয়ারম্যান জানান, কর্পোরেট করহার প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রায় ৫০ শতাংশ থেকে ধাপে ধাপে কমে প্রায় ২০ শতাংশের আশপাশে এসেছে, কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠান এখনও কার্যকর করের চাপে রয়েছে বলে অভিযোগ করছে। এ পরিস্থিতির একটি বড় কারণ হিসেবে তিনি নাম করেন ভুল এবং কারসাজিপূর্ণ আর্থিক রিপোর্টিংকে। এর ফলে সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতি পূরণে রাজস্ব কর্তৃপক্ষকে বেশিরভাগ সময় বিচারভিত্তিক মূল্যায়ন ও নীতিগত হস্তক্ষেপ করতে হয়।
তিনি আরও বলেন, বিক্রয়ের পরিমাণ কম দেখানো এবং নগদ লেনদেন গোপন করার অনুশীলন বর্তমানে কর্পোরেট আর্থিক প্রতিবেদনে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অনিয়ম করদাতা ও কর কর্তৃপক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি করছে এবং নিয়ম মেনে চলা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে দিচ্ছে, কারণ অনিয়মকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অনায়াসে বাড়তি সুবিধা নিয়ে যাচ্ছে।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, স্বচ্ছ ও সঠিক আর্থিক বিবরণী থাকা ন্যায্য করব্যবস্থা নিশ্চিত করা, বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা দিতে, ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। সেই কারণে আর্থিক প্রতিবেদন ব্যবস্থায় কার্যকরী নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের সক্ষমতা আরও জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনায় অংশ নেওয়া অন্যান্য বক্তারাও আর্থিক রিপোর্টিং মানোন্নয়নে আইন, প্রযুক্তি ও পেশাদার মানদণ্ড বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে। এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, প্রয়োজন হলে নীতি নির্ধারণ, তত্ত্বাবধান ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কর ব্যবস্থা সহজ ও ন্যায্য করার লক্ষ্যে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।