1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:০৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ওমরাহ করতে যাচ্ছিলো; প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের মা-ছেলে-মেয়ে নিহত সংবাদিকতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন কে সাংবাদিক, কে নয় তা নির্ধারণে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী দু’এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগরকে কুপিয়ে হত্যা ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৮ বার পেছালো সাতক্ষীরা-৪ এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে চালকের ওপর হত্যাচেষ্টার মামলা সাগর–রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৮ বার পেছাল দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপি নজরুলের আসন শূন্য হবে: ইসি

পেশোয়ারে রাজ কাপুর ও দিলীপ কুমারের পৈতৃক বাড়ি ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬

বলিউডের দুই মহাকবি—রাজ কাপুর ও দিলীপ কুমারের শিকড় পাকিস্তানের পেশোয়ারের। আজ তারা নেই, কিন্তু তাদের পৈতৃক বাড়িগুলো সেখানে রয়ে গেছে। তবে দীর্ঘ অবহেলা ও ক্ষয়ক্ষতির কারণে এই ঐতিহাসিক ভবন দুটির অবস্থা নাজুক; স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো মুহূর্তেই এগুলো ভেঙে পড়তে পারে।

স্থানীয়রা বলছেন, গত চার-পাঁচ বছর ধরে সরকারের তরফে বাড়ি দুটোর যথেষ্ট রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগও জানিয়েছে, ঝড়বৃষ্টি ও আর্দ্রতার কারণে কাঠামোগত ক্ষতি বেড়ে গেছে এবং ভবনগুলোর দেয়াল-নীরব অবস্থা দ্রুত খারাপ হচ্ছে। সাম্প্রতিক ভূমিকম্প ও কম্পন পরিস্থিতি তীব্র করে তুলেছে—অবকাঠামো আরও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, যদি সরকারের অবহেলা অব্যাহত থাকে, তাহলে কয়েক দিনের মধ্যেই এই ঐতিহ্যবাহী নিদর্শনগুলো মাটির সঙ্গে মিশে যেতে পারে। একসময় বর্তমানে জমজমাট থাকলেও আজ বাড়িগুলোকে ঘিরে গজানো আগাছা, জমে থাকা কचরা এবং ছেঁড়া-ছেঁড়া বাটিকাজ সব মিলিয়ে অবক্ষয় প্রকট।

পাকিস্তান সরকার ২০১৬ সালে এই দুটি বাড়িকে ‘জাতীয় ঐতিহ্য’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। সেই ঘোষণার পর থেকেই দুই দফায় অর্থ বরাদ্দের কথাও হয়েছে—২০২১-২২ সালে খাইবার পাখতুনখোয়া সরকার বাড়ি দু’টি কিনে জাদুঘরে রূপান্তরের জন্য প্রাথমিকভাবে ২.৩৫ কোটি পাকিস্তানি রুপি বরাদ্দ করেছিল। পরবর্তীভাবে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্রাদেশিক সরকার ঐতিহাসিক ভবনগুলোর পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণের জন্য ৩৩.৮ মিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি অনুমোদন করে।

তবুও বাস্তবে কাজ শুরু হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংরক্ষণের অনুদানের অনুমোদন থাকলেও টাকা এখনও হাতে আসেনি; আর তাই প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ কার্যকরভাবে কাজ চালাতে পারেনি। ফলে বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে এবং বাড়িগুলো ক্রমশ আরও ক্ষয়গ্রস্ত হচ্ছে।

রাজ কাপুরের বাড়িটি পেশোয়ারের খাওয়ানি বাজারে, যা রাজ কাপুরের দাদা দেওয়ান বিশ্বেশ্বরনাথ কপূর ১৯১৮ সালে নির্মাণ করেছিলেন—এই বাড়িতেই রাজ কাপুরের জন্ম। অন্যদিকে দিলীপ কুমারের বাড়িটি মহল্লা খুদাদাদ অঞ্চলে, প্রথাগত ‘পেশোয়ারি’ স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত। এক সময় এই দু’টি বাড়ি জীবন্ত ইতিহাসের নিদর্শন হিসেবে স্থানীয় ও পর্যটকদের আকর্ষণ করত।

স্থানীয়রা এখন শুধু সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছে—যত দ্রুত সম্ভব প্রকৃত অর্থ ও সরঞ্জাম নিয়ে এসে এই ভবনগুলো সংরক্ষণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এদের ইতিহাস দেখতে ও জানতে পারে। না হলে বলিউডের এই দু’টি নামও তাদের জন্মভূমির ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে গল্পে পরিণত হয়ে ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo