রাজধানীর মুগদা মান্ডা এলাকা থেকে উদ্ধার করা ৮ খণ্ডিত মরদেহের রহস্য র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) জানিয়েছে তারা উদঘাটন করেছে। র্যাব সনাক্ত করেছে, নিহত ব্যক্তি সৌদি প্রবাসী মুকাররম।
র্যাব ৩-এর উপ-পরিচালক স্কোয়াডন লিডার সাইদুর রহমান সোমবার (১৮ মে) এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে মরদেহভাগকৃত ব্যক্তিকে তার পরকীয়া প্রেমিকা ও সেই প্রেমিকার এক বান্ধবী মিলে হত্যা করেছে। র্যাবের দাবি, তারা পাঁচ লাখ টাকার বেশি আত্মসাৎ করে ওই ব্যক্তিকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে এবং তা খণ্ডিত করে ময়লার মধ্যে ফেলে রাখে।
মরদেহ প্রথমবার উদ্ধার হয়েছিল রোববার (১৭ মে) বিকেলে মুগদা মান্ডা প্রথম গলির আব্দুল করিম রোডের ২৬০/১ নম্বর ‘শাহনাজ ভিলা’-র বেজমেন্ট থেকে। তখন সেখানে দেহের সাতটি অংশ পাওয়া যায়; মাথা পাওয়া যায়নি। পরে আশপাশের ময়লার স্তূপ তল্লাশি করে মরদেহের মাথাও উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত দেহ পচাগলা অবস্থায় ছিল এবং পেট থেকে ভুঁড়ি বেরিয়ে আসছিল বলে র্যাব জানিয়েছে।
ঘটনায় স্থানীয়রা দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়—মুগদা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবু রায়হান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পরে উদ্ধার করা মাথা ও দেহের খণ্ডিত অংশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।
র্যাবের অভিযানে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। র্যাব বলেছে, আটকদের কথা ও তাদের তথ্যের ভিত্তিতেই ঘটনার রহস্য উদঘাটনের পথে তারা এসেছে। চালানো পুলিশি তদন্ত ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান কর্মকর্তারা।
র্যাবের দাবির বাইরে পুলিশের ব্যাখ্যা, তদন্তের অগ্রগতি এবং ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট বক্তব্যগুলি আরও পরিষ্কার হবে।