1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ওমরাহ করতে যাচ্ছিলো; প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের মা-ছেলে-মেয়ে নিহত সংবাদিকতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন কে সাংবাদিক, কে নয় তা নির্ধারণে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী দু’এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগরকে কুপিয়ে হত্যা ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৮ বার পেছালো সাতক্ষীরা-৪ এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে চালকের ওপর হত্যাচেষ্টার মামলা সাগর–রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৮ বার পেছাল দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপি নজরুলের আসন শূন্য হবে: ইসি

জাতি গঠনে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬

জাতি গঠন ও দেশের উন্নয়নে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সক্রিয় সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের অধ্যাপক মুজাফফর আহমদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। তিনি বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শেখারও পরামর্শ দেন, যাতে আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ১৫৬ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন; তাদের মধ্যে ১৭ জন সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বটি তাৎপর্যপূর্ণ ও ভয়েসফুল ছিল—প্রধানমন্ত্রী হাসিমুখে বেশিরভাগ প্রশ্নের উত্তর দেন এবং নানা উদ্যোগের কথা জানান।

ঢাবি চারুকলা অনুষদের অঙ্কন ও চিত্রায়ণ বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী কাবেরী আজাদ সরকারের শিল্পবাজার প্রসারের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে কাবেরীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রত্যাশা অনুযায়ী সবকিছু একদিনে হয় না; স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, ‘আপনাদের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর ভূমিকা বড়—সোশ্যাল মিডিয়া হোক বা অন্য মাধ্যম। অপিনিয়ন তৈরিতে আপনাদের অংশগ্রহণ জরুরি। রাজনীতিকে সংসদে নিয়ে আসতে হবে; শুধু রাজপথে হৈচৈ করে কিছু নির্মাণ করা সম্ভব নয়।’

শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন মোবাশেরুজ্জামান হাসান। তিনি হলে থাকার সমস্যা, চাকরির অনিয়ম, প্রশ্নফাঁস ও স্বজনপ্রীতির উদ্বেগ তুলে ধরেন। উত্তরে প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি ও অর্থপাচারের ঘটনাগুলো নির্মমভাবে তুলে ধরে বলেন, অতীতের ব্যাপক অনিয়ম ও পাচারের কারণে সরকারের সব সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব হচ্ছে না। তিনি রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের দুর্নীতি, বিভিন্ন অর্থ পাচারসহ বড় বড় অনিয়মের উদাহরণ দেন এবং জানান, ‘জিরো টলারেন্স’ বাস্তবে সহজ নয়; তবে দুর্নীতিরোধে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের অন্যান্য দিকগুলোও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে—শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক প্রবণতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক মান, লাইব্রেরি ও হলে আসন সমস্যা ইত্যাদি নিয়ে তিনি দীর্ঘ আলোচনা করেন। শিক্ষক নিয়োগে মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা ও অনুকূল পাবলিকেশন নীতির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি ভিসিকে এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার অনুরোধ করেন।

এক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতায় একটি দৃষ্টান্তবর্ণনাও ছিল—তিনি জানান, ব্রিটিশ পার্লামেন্ট দেখার সময় যে ‘গাইডেড টুল সিস্টেম’ দেখেছিলেন, সেই অনুপ্রেরণায় বাংলাদেশে স্কুল পড়ুয়াদের পার্লামেন্টে নিয়ে গিয়ে ইতিহাস, সেশন ও বিল্ডিংয়ের ঐতিহ্য প্রদর্শনের উদ্যোগ নেয়ার কথা বলেছেন। ইতিমধ্যে ঢাকার স্কুলগুলোর শিশুদের আনতে শুরু করা হয়েছে; ধীরেসুস্থে অন্যান্য জেলার শিক্ষার্থীরাও আনা হবে বলেও জানান তিনি।

দেশের ভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রশ্নে আল আমিন নামের আরেক শিক্ষার্থীর উদ্বেগের প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাষা সংরক্ষণ মূলত পরিবার ও মানসিকতার ব্যাপার। নিজের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, তার পরিবারের সদস্য বিদেশে থেকেও দেশীয় পরিচয় রাখতে পেরেছেন—এটি পারিবারিক অভ্যাস ও মানসিকতার ফল। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইংলিশ মিডিয়াম পড়ার পাশাপাশি মাতৃভাষার ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজন আছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ১৭ বছরের অন্তর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার স্মৃতি স্মরণ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসটা হাঁটতে হাঁটতে দেখার ইচ্ছে ছিল, যদিও সেই সৌভাগ্য হয়নি। অনুষ্ঠানে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উষ্ণ আলাপ চালিয়ে যান—‘আপনারা কেমন বাংলাদেশ চান, আমরা কী করতে পারি, আপনারা কী করতে পারেন’—এই প্রশ্নগুলোর ওপর ভিত্তি করে আজকের আলোচনার কথা জানান।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত “বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ” শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধন করেন। পরে বেলা পৌনে বারোটায় তিনি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মিলনায়তনে পৌঁছে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ও মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর পাশে উপস্থিত ছিলেন। শেষে উপাচার্য ও সিন্ডিকেট সদস্য প্রধানমন্ত্রীর হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo