1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ওমরাহ করতে যাচ্ছিলো; প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের মা-ছেলে-মেয়ে নিহত সংবাদিকতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন কে সাংবাদিক, কে নয় তা নির্ধারণে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী দু’এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগরকে কুপিয়ে হত্যা ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৮ বার পেছালো সাতক্ষীরা-৪ এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে চালকের ওপর হত্যাচেষ্টার মামলা সাগর–রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৮ বার পেছাল দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপি নজরুলের আসন শূন্য হবে: ইসি

ঘোড়ার মাংস বাণিজ্য নিষিদ্ধের নির্দেশ চেয়ে হাইকোর্টে রিট; আবেদনকারী জয়া আহসান

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬

ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে আবেদনকারী হিসেবে আছেন বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, এ কে খান হেলথকেয়ার ট্রাস্ট এবং অভিনেত্রী ও প্রাণী কল্যাণকর্মী জয়া আহসান।

সোমবার (১১ মে) দাখিল করা রিটের পক্ষে মামলা করেন ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব, ড. সিনথিয়া ফরিদ ও অ্যাডভোকেট সাজিদ হাসান। রিটে তারা বিশেষভাবে দাবি করেছেন যে অসুস্থ ও সংক্রমিত প্রাণীদের মাংস মানুষকে খাদ্য হিসেবে প্রতারণামূলকভাবে বাজারজাত করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য ও প্রাণীর কল্যাণের জন্য বড় হুমকি। পূর্বে মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এ কারণেই উচ্চ আদালতের আশ্রয় নেয়া হয়েছে।

রিটে আদালতকে অনুরোধ করা হয়েছে: পূর্ববর্তী অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে নির্দেশ দেওয়া, গাজীপুরে উন্মোচিত অবৈধ ঘোড়ার মাংস বাণিজ্যের একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ ও সময়সীমাবদ্ধ তদন্ত পরিচালনার নির্দেশ প্রদান এবং সেই তদন্তের প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করার নির্দেশ।

পিটিশনকারীরা আরও চেয়েছেন কর্তৃপক্ষকে ৬০ দিনের মধ্যে একটি জাতীয় নির্দেশিকা ও বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে বলা হোক, বাজেয়াপ্ত এবং অসুস্থ ঘোড়াগুলোর নিলাম অবিলম্বে বন্ধ করা হোক এবং উদ্ধারকৃত প্রাণীদের পরিচর্যা ও পুনর্বাসন ব্যবস্থা হিসেবে একটি উপযুক্ত অভয়ারণ্য (যেমন বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন) স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হোক।

রিটে উল্লেখ করা হয়েছে যে তাৎক্ষণিক বিচারিক হস্তক্ষেপ না থাকলে এই অবৈধ বাণিজ্য জনস্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করবে এবং প্রাণীর প্রতি অমানবিক আচরণ চলতেই থাকবে।

রিটে বর্ণিত ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরের প্রথম দিকে গাজীপুর জেলা প্রশাসন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১ ও পুলিশের যৌথ অভিযানে একটি কটন কারখানাকে অবৈধ জবাইখানায় রূপান্তর করে সংগঠিতভাবে ঘোড়ার মাংস বিক্রির একটি চক্র চালানোর তথ্য পাওয়া যায়। ওই অভিযানে প্রায় ৩৬টি গুরুতর অসুস্থ ঘোড়া, ৮টি জবাইকৃত ঘোড়ার মৃতদেহ এবং বড় পরিমাণে বিক্রির জন্য প্রস্তুতকৃত মাংস উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত প্রাণীগুলো অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় ছিল—প্রচণ্ড অপুষ্টি, চিকিৎসাহীন সংক্রমণ, উন্মুক্ত ক্ষত, পোকা-পরজীবী আক্রমণ, টিউমার ও অন্যান্য গুরুতর আঘাতের শিকার। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী সংক্রমণ, ছত্রাকের দূষণ ও সন্দেহভাজন যক্ষ্মার লক্ষণ ধরা পড়ে, যা প্রাণী থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

রিটে বলা হয়েছে যে এসব দূষিত মাংস মানুষকে খাদ্য হিসেবে প্রতারণামূলকভাবে বিক্রি করা হচ্ছিল, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে গরুর মাংস বলে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। কর্তৃপক্ষ সময়োচিত বন্ধের নির্দেশ ও মনিটারিং ব্যবস্থার কথা জানালেও বাস্তবে ধারাবাহিকতা নেই। পরে গাজীপুরে একটি মোবাইল কোর্ট ঘোড়ার মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পর্যাপ্ত তৎপরতা দেখা যায়নি।

অভয়ারণ্য—বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন—বারবার গাজীপুর পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিস্তারিত তথ্য ও নথি দিয়েছে। যদিও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অনুরোধে উদ্ধারকৃত কিছু ঘোড়া অভয়ারণ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে, সীমিত সক্ষমতার কারণে সংস্থাটি আরও প্রাণী নিতে পারেনি। এ সময় বাজেয়াপ্ত অসুস্থ ঘোড়াগুলো নিলামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগও উঠেছে।

সংস্থাটি সরকারি মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষকে বারবার জরুরি হস্তক্ষেপের জন্য চিঠি দিয়েছে। ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বরও অভয়ারণ্য, এ কে খান হেলথকেয়ার ট্রাস্ট এবং জয়া আহসানের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে চিঠি পাঠানো হয়; তবু কোনো সন্তোষজনক সাড়া মেলেনি—এ কারণেই জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট জারি করা হয়েছে।

রিটকারীরা আবেদন করেছেন হাইকোর্ট যেন অবিলম্বে উপযুক্ত নির্দেশনা জারি করে, জনগণের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং প্রাণীর প্রতি বর্বর আচরণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যবস্থা করতে আদেশ দেন।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo