1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৬:০১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
সংখ্যালঘুদের রক্ষায় মন্ত্রিত্ব ছাড়তে রাজি ধর্মমন্ত্রী নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণে পাঁচ দগ্ধ; একজনের মৃত্যু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা: পুলিশে চেইন অব কমান্ড ভাঙলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ফারজানা রুপা ও শাকিলের জামিন, কিন্তু মুক্তি স্থগিত অপরাধীর পরিচয় কেবল অপরাধী, রাজনীতির নয়: প্রধানমন্ত্রী এখনই শুরু টিসিবির পণ্য বিক্রি: ঈদুল আযহা উপলক্ষে বিশেষ কার্যক্রম বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ: টানা অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস পদোন্নতি বিবাদে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘাত: উপাচার্যকে ‘অবাঞ্ছিত’, ১১ মে থেকে পূর্ণ শাটডাউন চিফ প্রসিকিউটর: জুলাই‑আগস্ট দমনে শেখ হাসিনা ‘সোজা গুলি’ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন মব কালচার বন্ধে আইন সংশোধন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঘোড়ার মাংস বাণিজ্য নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে জয়া আহসানের হাইকোর্ট রিট

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬

ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার নির্দেশনা চেয়ে হাই কোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটটি দায়ের করেছেন বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, এ কে খান হেলথকেয়ার ট্রাস্ট এবং অভিনেত্রী ও প্রাণী কল্যাণ কর্মী জয়া আহসান। রিটটি করা হয়েছে সোমবার (১১ মে)।

রিটপত্রের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে রয়েছেন ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব, ড. সিনথিয়া ফরিদ ও অ্যাডভোকেট সাজিদ হাসান। রিটে দাবি করা হয়েছে, অসুস্থ ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রাণীদের মানুষকে খাদ্য হিসেবে প্রতারণামূলকভাবে বাজারজাত করা হচ্ছে; এই অনিয়ম ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি রোধে উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

পিটিশনকারীরা দেখান যে পূর্বে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ সত্ত্বেও কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই তারা হাই কোর্টকে নির্দেশ দিতে অনুরোধ করেছেন—অভিযোগগুলোর তদন্ত, অপরাধীদের সনাক্ত ও বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং গাজীপুরে উন্মোচিত অবৈধ ঘোড়ার মাংস বাণিজ্যের ব্যাপারে পুঙ্খানুপুঙ্খ ও সময়সীমাবদ্ধ তদন্ত রিপোর্ট আদালতে দাখিল করার।

রিটে আরও বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষকে ৬০ দিনের মধ্যে একটি জাতীয় নির্দেশিকা ও বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেয়া হোক, বাজেয়াপ্ত ও অসুস্থ ঘোড়াগুলো নিলামে বিক্রি বন্ধ করা হোক এবং উদ্ধারকৃত প্রাণীদের পরিচর্যা ও পুনর্বাসনের জন্য যথাযথ অভয়ারণ্য বা সুবিধা—যা বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন পরিচালনা করবে—স্থাপন করতে বলা হয়েছে।

পিটিশনকারীরা জোর দিয়ে উল্লেখ করেছেন যে স্থানীয় প্রশাসনিক উদাসীনতায় এসব অবৈধ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে তা জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে এবং প্রাণীদের ওপর চলমান নিষ্ঠুরতা বন্ধ হবে না, ফলে তাৎক্ষণিক বিচারিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

রিটে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরের প্রথম দিকে গাজীপুরে জেলা প্রশাসন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১ ও পুলিশের যৌথ অভিযানে একটি কটন (তুলা) কারখানাকে অবৈধ জবাইখানায় রূপান্তরিত করে ব্যাপক ঘোড়ার মাংস বাণিজ্য চালানোর চক্র ধরা পড়ে। ওই অভিযানে প্রায় ৩৬টি গুরুতর অসুস্থ ঘোড়া, ৮টি জবাইকৃত ঘোড়ার মৃতদেহ এবং বিপুল পরিমাণ মাংস উদ্ধার করা হয়, যা বিতরণ ও বিক্রির জন্য প্রস্তুত ছিল।

উদ্ধারকৃত প্রাণীগুলো অত্যন্ত অনুন্নত ও অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল—প্রচণ্ড অপুষ্টি, চিকিৎসাবিহীন সংক্রমণ, উন্মুক্ত ক্ষত, পোকা-পরজীবী সংক্রমণ, টিউমার ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যায়। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় উঠে এসেছে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী ও ছত্রাকজনিত দূষণ এবং সন্দেহজনক যক্ষ্মা—যেগুলো প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে। সেইসব দূষিত মাংস প্রতারণার মাত্রায় মানুষের খাদ্যবস্তু হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছিল; কখনও কখনও তা গরুর মাংস হিসেবে পরিচয় করিয়ে মানুষকে বিভ্রান্তও করা হচ্ছিল।

যদিও কর্তৃপক্ষ কয়েকবার মনিটরিং ও কড়া নির্দেশনার কথা জানিয়েছে, তবুও বাস্তবে ধারাবাহিকতা নেই—রিটে এই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। পরে একটি মোবাইল কোর্ট গাজীপুরে ঘোড়ার মাংস বিক্রয় নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও, দোষীদের শনাক্ত ও কারাগারে পাঠানোর কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভয়ারণ্য- বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন বারবার গাজীপুর পুলিশ ও জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করে তদন্তের জন্য তথ্য ও নথি জমা দিয়েছে। তবু অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। জেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর উদ্ধারকৃত ঘোড়াগুলো অভয়ারণ্য-কে হস্তান্তর করলেও সীমিত সক্ষমতার কারণে সংস্থাটি অতিরিক্ত প্রাণী গ্রহণ করতে পারেনি; পাশাপাশি জানা গেছে বাজেয়াপ্ত অসুস্থ ঘোড়াগুলো নিলামে বিক্রি করা হয়েছে—যা পিটিশনকারীরা বন্ধ করার নির্দেশ চেয়েছেন।

পিটিশনকারীরা আরও জানান, ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর তারা সংশ্লিষ্ট সরকারি মন্ত্রণালয়গুলোকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠি পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু কোনো ফলপ্রসূ সাড়া পাননি। এসব কারণ দেখিয়ে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo