যশোরের শার্শা উপজেলায় একজন যুবকের নিখোঁজের এক মাস পাঁচ দিন পর পুলিশ চাঞ্চল্যকর একটি ঘটনা উদ্ঘাটন করেছে। পরকীয়া সম্পর্ক ও পারিবারিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্রীয় করে গত মাসে নিখোঁজ হওয়া ইকরামুল কবির (২৫) নামে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ গোয়ালঘরের মাটিচাপা দেয়া অবস্থায় উঠে এসেছে। পুলিশ এ ঘটনায় সন্দেহভাজন এক দম্পতিকে আটক করেছে। নিহত ইকরামুল পুটখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ বারোপোতা গ্রামের আব্দুল রশিদের ছেলে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বসুপুর পূর্বপাড়া এলাকার আল ফুরাদের স্ত্রীর সাথে দীর্ঘদিন ধরে ইকরামুলের সম্পর্ক চলছিল, যা এলাকায় আলোচনা পৌঁছে যায়। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে মুন্নী বেগমের স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকত। এক মাস আগে, ইকরামুল তার প্রেমিকা মুন্নীর কাছে পাওনা টাকা বুঝে নিতে গেলে নিখোঁজ হয়ে যান। পরিবারের সবাই বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির করে তার কোন সন্ধান পাননি।
নিখোঁজের ব্যাপারে সন্দেহ বাড়তে থাকলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এরপর অভিযুক্ত স্বামী আলফুরাদকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার বিকেলে, পুলিশ ও অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বসুপুর গ্রামে পৌঁছায়। তারা গোয়ালঘরের মেঝে খনন করে, আসলে মাটিচাপা দেয়া অবস্থায় ইকরামুলের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।
মরদেহ উদ্ধার হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ ও উত্তেজনা তৈরি হয়। অনেক মানুষ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এক মাসের আলোর বিচ্যুত এই ঘটনার কারণে পুরো গ্রামে আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এ ঘটনা সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের জন্য তদন্ত চলছে এবং সন্দেহভাজন সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে তদন্তের স্বার্থে নিহতের মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।