বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আল মুরাদসহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। এই মামলার মূল বিষয় হলো, চর কচুড়িয়া দাখিল মাদ্রাসার নির্বাচনী তফশীল স্থগিতের ঘটনা। ভুক্তভোগী অভিভাবকরা অভিযোগ করছেন যে, এই স্থগিতাদেশ অবৈধ ও বেআইনী, যা আইননানুগ নয় এবং নীতিপন্থী।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, চর কচুড়িয়া দাখিল মাদ্রাসার এডহক কমিটির মেয়াদ আগামী ৮ জুন শেষ হচ্ছে। এরপর নতুন কমিটি গঠনের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে মনোনীত হন। কিন্তু, তার বদলীর কারণে অফিসের সহকারী হিসেবে দায়িত্বে থাকা আল মুরাদ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর তিনি ৯ এপ্রিল মাদ্রাসার নির্বাচনী তফশীল জারী করে, যা পরে তিনি স্থগিত করেন। অভিভাবকরা মনে করেন, এই স্থগিতাদেশ অনৈতিক, বেআইনী এবং ন্যায়বিরুদ্ধ।
মামলার অন্য বিবাদীরা হলেন মাদ্রাসার সুপার শেখ মোঃ বাকী বিল্লাহ, এডহক কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান, শিক্ষক প্রতিনিধি মুহাম্মদ লিয়াকত আলী, অভিভাবক সদস্য মোঃ কামরুল হাসান, ও বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রার।
আবেদনকারীরা জানাচ্ছেন, ভোটার তালিকা অনুমোদনের পরে নির্বাচনের জন্য প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগের জন্য তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন। এই আবেদন অনুযায়ী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করেন। তবে, তফশীল অনুযায়ী সব কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও, নির্বাচনের আগে ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অভিযোগ, তিনি নির্বাচনী তফশীল স্থগিত করেছেন, যা তারা অগত্যা অমান্য করেননি বলে দাবি করছেন।
শেখ মোঃ বাকী বিল্লাহ আরও জানান, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার এই সিদ্ধান্ত অবৈধ এবং অপ্রজ্ঞাত, যা তিনি আদালতে দেখিয়েছেন। অন্যদিকে, আল মুরাদ দাবি করেন, আদালত থেকে নোটিশ পেয়েছেন এবং নির্বাচনী তফশীলের স্থগিতাদেশ যথাযথভাবে কার্যকর করেছেন।
অপর দিকে, চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার বলেন, এই মামলার বিষয় সম্পর্কে তার কোনো জানাশোনা নেই এবং তিনি এখনও আদালতের নোটিশ পাননি।