1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
একদিনে দেশে ফিরল ৩৪ প্রবাসীর মরদেহ উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ওসমান হাদি হত্যা: অস্ত্র বিক্রেতা মাজেদুলের দায় স্বীকার দুই মাসে ৬০ পদক্ষেপ: মাহদী আমিনের সরকারী অর্জন উপস্থাপন অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে মার্কিন চুক্তিই জ্বালানি আমদানের বড় বাধা: ড. দেবপ্রিয় সার্ক পুনরুজ্জীবিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য: পররাষ্ট্রমন্ত্রী অন্তর্বর্তী সরকারের মার্কিন চুক্তি: হরমুজ প্রণালির চেয়ে বড় বাধা আইএমএফের ঋণ স্থগিতের খবর নাকচ করল সরকার প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ: হামের টিকা না দেওয়া ছিল পূর্ববর্তী সরকারের অপরাধ প্রতিবন্ধী যুবককে মারধরের সালিসে চাচাকেও পিটিয়ে হত্যা: সংঘর্ষের জেরে উত্তেজনা

উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শনিবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত ‘উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও উন্নত ল্যাব-পরিসেবা বেশিরভাগই ঢাকা কেন্দ্রীভূত। এই কেন্দ্রীকরণ ভেঙে জেলা ও উপজেলার হাসপাতালগুলোর মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শহর ও গ্রাম অঞ্চলের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য দূর করা এবং সেবার বিকেন্দ্রীকরণ বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। কাজটি একদিনে শেষ হবে না, তবে ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়নের পথে সরকার অগ্রসর।

প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, চিকিৎসা পেশার সমাজে বিশেষ মর্যাদা আছে। রোগে-শোকে মানুষের পাশে দাঁড়ানো চিকিৎসকদের দায়িত্ব মানবিকতার সঙ্গে মিলিয়ে চলা উচিত। একেকটি আন্তরিক পরামর্শ অনেক সময় ওষুধের থেকেও বেশি উপকার করে, তাই পেশাগত উৎকর্ষের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ বজায় রাখা জরুরি।

স্বাস্থ্যনীতির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নীতির মূলমন্ত্র হলো ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম’ — অর্থাৎ Prevention is better than cure। যদি রোগের শুরুতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া যায় তাহলে রোগের বিস্তার রোধ করা সহজ হবে। এজন্য উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিভিন্ন পরিসংখ্যান ও বিশেষজ্ঞদের মতে দেশের মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই অসংক্রামক রোগের কারণে। পরিবেশগত বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে শ্বাসকষ্ট, স্ট্রোক, হৃদরোগসহ অসংক্রামক রোগগুলোর চাপ বেড়ে চলছে, যা স্বাস্থ্যসেবায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। ফলে উপজেলা পর্যায়ে ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপের নিয়মিত স্ক্রিনিং এবং জীবনযাপন পদ্ধতি পরিবর্তন বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তারা (UHFPO) দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি। মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দরজায় পৌঁছে দিতেই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও সদস্যরা প্রথম সারির সৈনিক। হেলথ কেয়ার ম্যানেজমেন্ট ও হেলথ কেয়ার অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ম্যানেজমেন্ট—এই দুই ক্ষেত্রের সমন্বয় ছাড়া স্বাস্থ্যসেবায় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়।

স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার ক্রমান্বয়ে জিডিপির পাঁচ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি আমেরিকান পুষ্টিবিদ জ্যাক লালেনের উক্তি স্মরণ করে বলেন, ‘আজকের স্বাস্থ্যসেবা ভবিষ্যতের বিনিয়োগ’—এই দৃষ্টিকোণ থেকেই প্রতিটি উপজেলায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (NHS)-এর জেনারেল প্র্যাকটিশনার (GP) মডেল অনুসরণ করে ধাপে ধাপে প্রতিটি ইউনিয়নে স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপন এবং সারাদেশে এক লক্ষ হেলথ কেয়ারার নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যাদের ৮০ শতাংশই নারী হিসেবে নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। হেলথ কেয়ারাররা দরজায় গিয়ে প্রাথমিক সেবা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিবেন।

জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় সরকারের তৎপরতা সম্পর্কে তিনি বলেন, বিগত কয়েক বছরে কিছু এলাকায় শিশুরা ‘হামে’র টিকা না পাওয়ায় প্রাণহানি ঘটেছে যা একটি ভয়াবহ ব্যর্থতা। বর্তমান সরকার জরুরি ভিত্তিতে ভ্যাকসিনেশন দ্রুত সম্পাদনের ফলে পরিস্থিতির অবনতি রোধ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সকল চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নিহত সন্তানদের পরিবারজনের প্রতি সহানুভূতিশীল দুঃখপ্রকাশ করেন। 앞으로 এ ধরনের দুর্ঘটনা যেন আর না ঘটে, সেই নিশ্চয়তা দিতে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

ডিজিটাল স্বাস্থ্য সেবার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার শিগগিরই একটি সমন্বিত ই-হেলথ কার্ড চালু করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে প্রত্যেক নাগরিকের স্বাস্থ্যতথ্য ডিজিটালি সংরক্ষিত থাকবে এবং প্রয়োজনে দেশের যে কোনো হাসপাতাল থেকে সহজে সেবা নেওয়া যাবে। পাশাপাশি ধাপে ধাপে একটি জাতীয় স্বাস্থ্যবীমা ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে চিকিৎসা ব্যয়ের ফলে কোনো নাগরিক আর্থিকভাবে বিপন্ন না হন।

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আবাসন, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নে সরকার আন্তরিক বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নাগরিকদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হলে তাদের কর্মরতদের কল্যাণ নিশ্চিত করাও অত্যাবশ্যক, এ বিষয়ে যথাসম্ভব পদক্ষেপ নেয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

সম্মেলনের অবসানে প্রধানমন্ত্রী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রত্যেকেই তাঁর এলাকায় কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলবেন এবং নিজ কর্মস্থলকে একটি মডেল স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে রূপান্তর করার চেষ্টা করবেন। সম্মেলনের মাধ্যমে তাঁদের কার্যক্রম আধুনিকায়ন, সরকারি নির্দেশনায় অবহিতকরণ এবং মাঠপর্যায়ে সেবা পৌঁছে দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ওই সম্মেলনে উৎকর্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে উপজেলা পর্যায়ের ছয়জন চিকিৎসক—ডাঃ শোভন কুমার বশাখ, ডাঃ মনজুর আল মোর্শেদ চৌধুরী, ডাঃ মজিবুর রহমান, ডাঃ সাজিদ হাসান সিদ্দিকী, ডাঃ সুমন কান্তি সাহা এবং ডাঃ তানসিভ জুবায়ের নাদিম—কে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মানিত করেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মোঃ কামরুজ্জামান চৌধুরী ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo