1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
গুজব ঠেকাতে পিআইডির ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রম অব্যাহত: তথ্যমন্ত্রী কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটপ্রহর; সাজিদ চৌধুরী রাফি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ দুদক কমিশনার নিয়োগের জন্য পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটের আঘাতে রাফির মৃত্যু গেজেটে ঘোষণা: এক বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ (২৫ মে–২৫ মে) জিয়াউল আহসানের দেহরক্ষী ইমরুল কায়েসের দাবি: ১৫০–২০০ জনকে হত্যা করতে দেখা ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ: বহিষ্কৃত শিবির নেতা জিসান ২ দিনের রিমান্ডে বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যা: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড ধানমন্ডিতে ১০ তলা থেকে পড়ে গৃহকর্মীর মৃত্যু; পাউবো প্রকৌশলী দম্পতি দুই দিনের রিমান্ডে সিলেটের ডিসি মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার, জনপ্রশাসনে সংযুক্ত

আট মাসে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি দুই লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাল

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম আট মাসে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে তা দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই লাখ ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। এই সময়ের মধ্যে রপ্তানির তুলনায় আমদানি অনেক বেশি হয়েছে, এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানিসহ বেশির ভাগ পণ্যের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক লেনদেনের আপডেট প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সময়ের মধ্যে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ঘাটতি ১ হাজার ৬৯১ কোটি ডলার বা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর আগে গত অর্থবছরের আট মাসে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৩৭১ কোটি ডলার।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রমজান ঈদ মৌসুমে ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, ছোলা ও খেজুরসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর আমদানি বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক আমদানির হার বৃদ্ধি পায়। একই সময় রপ্তানি আয় অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ার ফলে বাণিজ্য ঘাটতি আরও বাড়ে। খাত সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, দেশের অর্থনীতি স্বাভাবিক রাখতে হলে আমদানি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রপ্তানি বৃদ্ধি করতে হবে। অন্যথায় অর্থনীতির জন্য সংকট তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পণ্য আমদানি করেছেন মোট ৪ হাজার ৬১৭ কোটি ডলার, অর্থাৎ ৪৬ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, এই সময়ে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৩০ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২ দশমিক ৬ শতাংশ কম। আগের অর্থবছরে এই সময়ে রপ্তানি ছিল ২৯ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার। এই আমদানি ও রপ্তানির ব্যবধানের কারণেই চলতি বছর প্রথম আট মাসে পণ্যে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ বেড়ে গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের পণ্যে রপ্তানি কমে যাওয়ায় এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও অন্যান্য মালামের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতিতে পড়ছে। তবে, দেশের কারেন্ট অ্যাকাউন্টের পরিস্থিতি মোটামুটি ভালো, অর্থাৎ নিয়মিত লেনদেনে দেশকে বিশেষ কোনো ঋণ করতে হচ্ছে না। তারপরও সাময়িক ঘাটতি থাকায় সরকারকে ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। বিশেষ করে এখনকার পরিস্থিতিতে, যেখানে চলতি হিসাবের ঘাটতি মোট ১০০ কোটি ডলার, আগের বছর একই সময়ে তা ছিল ১৪৭ কোটি ডলার, এটি দেশের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্যের জন্য মোটামুটি সুখকর।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, সামগ্রিক লেনদেন বা ওভারঅল ব্যালান্স এখন ভালো অবস্থায় রয়েছে। প্রথম আট মাসে দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে মোট ২ হাজার ২৪৫ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি।

বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষণীয়। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জুলাই-ফেব্রুয়ারি দেশের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ছিল ১০৬ কোটি ডলার, তবে চলতি বছর তা খানিক কমে দাঁড়িয়েছে ৮৭ কোটি ডলারে। তবে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ নেতিবাচক অবস্থায় রয়েছে, যেখানে প্রথম আট মাসে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ আগের বছরের চেয়ে ৮ কোটি ডলার কমে গেছে। এর আগে, গত অর্থবছরে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ ছিল ঋণাত্মক ৮ কোটি ডলার।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo