1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী: হরমুজ প্রণালিতে কোনও বাংলাদেশি জাহাজ আটকে থাকবে না প্রাথমিক পর্যায়ে ১১ উপজেলার ২২,০৬৫ কৃষককে কৃষক কার্ড প্রদান হবে: কৃষিমন্ত্রী দুপুরে জামিন, সন্ধ্যায় কাশিমপুর থেকে মুক্তি পেলেন শিরীন শারমিন প্রথম পর্যায়ে ১০ জেলার ১১টি উপজেলার ২২,০৬৫ কৃষক পাবেন কৃষক কার্ড: কৃষিমন্ত্রী জয় ও পলকের বিরুদ্ধে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ ১৬ এপ্রিল নির্ধারণ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার চেষ্টা জোরদার করছে সরকার: মাহদী আমিন শুধুমাত্র করোনার বিরুদ্ধে নয়, হাম ও রুবেলার বিরুদ্ধে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা জনগণের আশ্বাস দিয়েছে: তারেক রহমান স্কুলছাত্রী গণধর্ষণের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের দপ্তরি গ্রেফতার দূরপাল্লার ট্রেনে যুক্ত হচ্ছে ফ্রি ওয়াইফাই পরিষেবা

প্রাথমিক পর্যায়ে ১১ উপজেলার ২২,০৬৫ কৃষককে কৃষক কার্ড প্রদান হবে: কৃষিমন্ত্রী

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেছেন, প্রথম পর্যায়ে দেশের ১০টি জেলা ও ১১টি উপজেলায় মোট ২২,০৬৫ জন কৃষককে কৃষক কার্ড দেয়া হবে। তিনি জানান, পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।

রোববার সচিবালয়ের তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন পিআইডি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এই তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও কৃষি ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সচিব উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারে কৃষকের আর্থ-সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির ওপর জোর দেয়া হয়েছে। লক্ষ হলো আধুনিক, জলবায়ু-সহনশীল ও প্রযুক্তিভিত্তিক একটি কৃষি ব্যবস্থার দিকে যাওয়া যেখানে উৎপাদন ও বিপণন তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর হবে। কৃষককে ক্ষমতায়িত উদ্যোক্তা বানিয়ে কৃষিকাজকে জাতীয় অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

কৃষক কার্ড প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য—কৃষকদের মর্যাদা ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা এবং কৃষিক্ষেত্রে ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত কার্যপ্রণালী গঠন করা। কার্ডধারীরা সরাসরি সরকারি সহায়তা, প্রণোদনা ও বিভিন্ন সেবা পেতে পারবে।

কার্ড বিতরণে কৃষককে জমির মালিকানার ভিত্তিতে পাঁচটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে: ভূমিহীন কৃষক, প্রান্তিক কৃষক, ক্ষুদ্র কৃষক, মাঝারি কৃষক ও বড় কৃষক। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী কর্মসূচিটি ধাপে ধাপে প্রয়োগ করা হবে—প্রি-পাইলটিং, পাইলটিং ও শেষ পর্যায়ে দেশব্যাপী কার্যক্রম।

পাইলট পর্যায়ে ৮টি বিভাগের ১০টি জেলায় ১১টি উপজেলা ও ১১টি ব্লকের ফসল উৎপাদনকারী কৃষক ছাড়াও মৎস্যচাষী, মৎস্য আহরণকারী, প্রাণিসম্পদ খাতে নিয়োজিত খামারি, দুগ্ধ খামারি এবং ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শ্রেণীর কৃষকরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

প্রাক-পাইলট পর্যায়ের জন্য বাছাইকৃত জেলা ও ব্লকগুলোর নাম উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন—পঞ্চগড় সদর উপজেলার কমলাপুর ব্লক, বগুড়া শিবগঞ্জ উপজেলার উথলি ব্লক, ঝিনাইদহ শৈলকুপা উপজেলার কৃপালপুর ব্লক, পিরোজপুর নেসারাবাদ উপজেলায় রাজাবাড়ি ব্লক, কক্সবাজার টেকনাফ উপজেলার রাজারছড়া ব্লক, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার অরণ্যপুর ব্লক, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সুরুজ ব্লক, রাজবাড়ী গোয়ালনন্দ উপজেলার তেনাপঁচা ব্লক, মৌলভীবাজার জুড়ি উপজেলার ফুলতলা ব্লক, পঞ্চগড় গোদা উপজেলার পাঁচপীর ব্লক এবং জামালপুর ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ব্লক। এই ১১টি ব্লকের কৃষক, মৎস্যচাষী, প্রাণিসম্পদ খামারি ও লবণচাষীদের কাছে কার্ড বিতরণ করা হবে।

কৃষিমন্ত্রী জানান, কৃষক কার্ড হল একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড। রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় শাখাগুলোতে সংশ্লিষ্ট কৃষকদের নামে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে এবং কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন করা হবে। ১১ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত মোট ২২,০৬৫ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ভূমিহীন কৃষক ৪৬ জন, প্রান্তিক কৃষক ৯,৪৫৮ জন, ক্ষুদ্র কৃষক ৮৯৬ জন, মাঝারি কৃষক ১,৩০৩ জন ও বড় কৃষক ৫১ জন।

মন্ত্রী আরও জানান, বাছাইকৃত কৃষকদের শ্রেণিভিত্তিক ধরন অনুযায়ী—ফসল উৎপাদনকারী কৃষক ২,১৪১ জন, মৎস্যজীবী ৬৬ জন, প্রাণিসম্পদ খামারি ৮৫ জন এবং লবণচাষী ৩ জন। মোট বাছাইকৃত ২২,০৬৫ জনের মধ্যে প্রণোদনার জন্য নির্বাচিত ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের সংখ্যা ২০,৬৩১ জন, যা মোট কৃষকের ৯৩.৭ শতাংশের সমান।

পাইলট পর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের বার্ষিক সরাসরি নগদ প্রণোদনা হিসাবে প্রতিজনকে ২,৫০০ টাকা প্রদান করা হবে। কার্ডধারীরা সংশ্লিষ্ট ডিলারের কাছে পিওএস বা মুদ্রণযোগ্য সেল মেশিন ব্যবহার করে সার, বীজ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের খাদ্যসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ ক্রয় করতে পারবেন।

প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমের জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। প্রি-পাইলট সফল হলে ২০২৬ সালের মধ্যে দেশের ১৫টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে এবং পাইলট অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরবর্তী চার বছরে সারাদেশে কার্ড বিতরণ ও ডাটাবেস তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

মন্ত্রী জানান, পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইলের শহীদপুর মারুফ স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে পাক-পাইলটিং পর্যায়ে কৃষক কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করা হবে। কুমিল্লা জেলার অরণ্যপুর ব্লক ব্যতিরেকে বাকি ৯টি ব্লকে একই দিনে কার্ড বিতরণ করা হবে; কুমিল্লার অরণ্যপুর ব্লকে কার্ড বিতরণ করা হবে ১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে।

উপসংহারে মন্ত্রী বলেন, কৃষি একটি মর্যাদাপূর্ণ পেশা এবং এই কৃষক কার্ড কৃষকের মর্যাদাকে আরো উজ্জ্বল করবে। কার্ডের মাধ্যমে সময়োপযোগী নানা সেবা যুক্ত হবে এবং কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত একটি স্মার্ট ডাটাবেসের আওতায় এসে সার ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়বে, চাহিদা অনুযায়ী ফসল উৎপাদন নিশ্চিত হবে এবং কৃষকের ক্ষতিপূরণ দ্রুতভাবে সরকারের নজরে আসবে।

সূত্র: বাসস

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo