1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
গুজব ঠেকাতে পিআইডির ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রম অব্যাহত: তথ্যমন্ত্রী কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটপ্রহর; সাজিদ চৌধুরী রাফি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ দুদক কমিশনার নিয়োগের জন্য পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটের আঘাতে রাফির মৃত্যু গেজেটে ঘোষণা: এক বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ (২৫ মে–২৫ মে) জিয়াউল আহসানের দেহরক্ষী ইমরুল কায়েসের দাবি: ১৫০–২০০ জনকে হত্যা করতে দেখা ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ: বহিষ্কৃত শিবির নেতা জিসান ২ দিনের রিমান্ডে বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যা: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড ধানমন্ডিতে ১০ তলা থেকে পড়ে গৃহকর্মীর মৃত্যু; পাউবো প্রকৌশলী দম্পতি দুই দিনের রিমান্ডে সিলেটের ডিসি মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার, জনপ্রশাসনে সংযুক্ত

১৭ ব্যাংক লোকসানে; সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধে নামল

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬

২০২৪ সালের আর্থিক আচড়ের ছায়ায় দেশের ব্যাংকখাত বড় রকমের ধাক্কা খেয়েছে। চলতি বিবরণে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা অর্জন করতে পারেনি এবং বাকি ব্যাংকগুলোর আয়ও প্রত্যাশিত স্তরে পৌঁছায়নি। এর প্রকৰ্ফণে ২০২৫ সালে (জানুয়ারি–ডিসেম্বর) ব্যাংকগুলোর কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যয় প্রায় অর্ধে নেমে এসেছে — বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ রিপোর্টে এমনই তথ্য ধরা পড়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক মিলিয়ে সিএসআর খাতে ব্যয় করেছে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা। আগের বছরের তুলনায় এটি ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা কম, যা প্রায় ৪২ শতাংশের সমান। গত এক দশকে এটিই সিএসআর খাতে সর্বনিম্ন ব্যয়; ২০১৫ সালের সর্বনিম্ন রেকর্ড ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, সেই তুলনায় এবার খরচ প্রায় ১৮২ কোটি টাকা (প্রায় ৩৪.৫৭ শতাংশ) কমেছে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালে সিএসআর খাতে ব্যয় ছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা; ২০২৩ সালে এটি ছিল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ এবং ২০২২ সালে ১,১২৯ কোটি টাকা। দুই বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় কমেছে প্রায় ৫১৩ কোটি টাকা, যা শতকরা হিসেবে ৪৫ শতাংশের বেশি।

শাখা-প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকারদের তথ্য মতে, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পরবর্তী সরকার পরিবর্তন ব্যাংকিং খাতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। সূত্র ফাঁস, অনিয়ম ও অর্থপাচারের খবর প্রকাশ পেলে কাগজে-কলমে দেখানো মুনাফার তুলনায় প্রকৃত আর্থিক চিত্র সামনে আসে; খেলাপি ঋণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাস্তব লোকসানও স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে শরিয়াভিত্তিক কিছু ব্যাংক বড় চাপের মধ্যে পড়ে; অনেক ক্ষেত্রে কিছু শিল্পগোষ্ঠীর ঋণ অনিয়ম ও অর্থপাচারের প্রভাব পরিষ্কার হয়েছে। দুর্বল ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকার কয়েকটি ব্যাংক একীভূত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ব্যাংকারদের বক্তব্য, সিএসআর ব্যয় কমার আরেকটি কারণ রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। রাজনৈতিক সরকারের সময় বিভিন্ন স্তর থেকে অনুদান বা সহায়তার দাবি থাকায় ব্যাংকগুলো প্রচণ্ড চাপ অনুভব করত; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অনুষ্ঠান কিংবা বিভিন্ন প্রকল্পে চাপের ফলেই অনেক সময় সিএসআর অর্থ অনুচিতভাবে ব্যবহার হতো। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন ও আগের সরকার বদলের পর এই চাপ অনেকটাই কমেছে, ফলে ব্যাংকগুলো এখন তুলনামূলকভাবে সংযতভাবে সিএসআর ব্যয় করছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করান, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক প্রভাব বা চাপের কারণে যদি এই অর্থ অনুৎপাদনশীল কাজে ব্যয় হয়, তবে সামাজিক দায়বদ্ধতার মূল উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে হয়: তার মধ্যে ৩০ শতাংশ শিক্ষায়, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্যখাতে, ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এবং বাকি ২০ শতাংশ অন্যান্য খাতে ব্যয় করার কথা বলা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে নির্দেশনা মানা হচ্ছে না—২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি (৩৬ শতাংশ) ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ শিরোনামের কাজে, শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩ শতাংশ, পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০ শতাংশ।

রিপোর্ট অনুযায়ী ওই সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে একটাও অর্থ ব্যয় করেনি। সেই ব্যাংকগুলো হল: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

আর ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকের তালিকায় রয়েছে: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

তথ্য অনুযায়ী, এই লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে ছয়টি প্রতিষ্ঠান মুনাফা না করেও সিএসআর খাতে কিছু অর্থ ব্যয় করেছে; তারা হলেন: এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।

সংক্ষেপে, আর্থিক ক্ষত ও রাজনৈতিক পরিবর্তন ব্যাংকগুলোর CSR নীতি ও ব্যয়ের ধরনে গুরুত্বপুর্ণ প্রভাব ফেলেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সিএসআর কার্যক্রমকে পুনর্সংগঠিত করা, স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং প্রকৃত সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় নিশ্চিত করাই ভবিষ্যতে খাতের সুস্থতার জন্য জরুরি।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo