1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
গুজব ঠেকাতে পিআইডির ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রম অব্যাহত: তথ্যমন্ত্রী কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটপ্রহর; সাজিদ চৌধুরী রাফি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ দুদক কমিশনার নিয়োগের জন্য পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটের আঘাতে রাফির মৃত্যু গেজেটে ঘোষণা: এক বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ (২৫ মে–২৫ মে) জিয়াউল আহসানের দেহরক্ষী ইমরুল কায়েসের দাবি: ১৫০–২০০ জনকে হত্যা করতে দেখা ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ: বহিষ্কৃত শিবির নেতা জিসান ২ দিনের রিমান্ডে বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যা: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড ধানমন্ডিতে ১০ তলা থেকে পড়ে গৃহকর্মীর মৃত্যু; পাউবো প্রকৌশলী দম্পতি দুই দিনের রিমান্ডে সিলেটের ডিসি মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার, জনপ্রশাসনে সংযুক্ত

যদি যুদ্ধ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে, তাহলে মূল্যস্ফীতির হার ১২% ছাড়াতে পারে

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমবে এবং জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এসব কারণে ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের মূল্যস্ফীতির হার এখনকার ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ১২ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। পাশাপাশি, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে, কারণ আমদানির চাহিদা বেড়ে গেলে রিজার্ভের ব্যবহারে বৃদ্ধি হবে। বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আনুমানিক ৩১.১২ বিলিয়ন ডলার থেকে কিছুটা কমে ২৪.২৪ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ২,৪২৪ কোটি ডলারে নেমে আসতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

প্রসঙ্গত, যদি যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এই বছর প্রথম প্রান্তিকে ৭০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে অন্তত ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, তবে দেশের বাজারে দাম সামঞ্জস্য করতে হবে। এছাড়া, ডলারের বিপরীতে টাকার মান যদি ধীরে ধীরে হারায়—প্রথমত ৫ শতাংশ এবং পরে আরও ৫ শতাংশ অবমূল্যায়ন হয়—তাহলে ডিসেম্বরের মধ্যে মূল্যস্ফীতির হার ১১.৬৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এই সময়ের জন্য মূল্যস্ফীতির ভিত্তি ধরা হয়েছে ৯.৫৬ শতাংশ। একই সময়ের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে ৩ হাজার ২৭২ কোটি ডলার।

এছাড়া, যদি চলতি বছর প্রথম প্রান্তিকে ডলারের বিপরীতে টাকার মান ৫ শতাংশ অবমূল্যায়িত হয় এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে আরও ১০ শতাংশ অবমূল্যায়ন হয়, তাহলেও জ্বালানি তেলের অপ্রত্যাশিত মূল্যবৃদ্ধি হলে দেশের মূল্যস্ফীতির হার আরও বেশি বাড়তে পারে, যা কিনা ১২.২৮ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এর পাশাপাশি, রিজার্ভের পরিমাণ কমে যেতে পারে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে ২ হাজার ৪২৪ কোটি ডলার পর্যন্ত।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সব হিসাবই বিভিন্ন অনুমান ও ধারণার ভিত্তিতে প্রস্তুত, যেখানে জ্বালানি তেল ও ডলারের দামে বড় ধরনের অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন না হলে, ডিসেম্বরের মধ্যে মূল্যস্ফীতির হার ১০ শতাংশের বেশি হবে না। তবে, যদি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ে, তাহলে আমদানি খরচ বাড়বে এবং রিজার্ভে চাপ বাড়বে। এ পরিস্থিতিতে, সরকার যদি অভ্যন্তরীণভাবে রাজস্ব বাড়ায় ও জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখে, তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

প্রতিবেদনটি আরও উল্লেখ করে, যদি জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বেশি বাড়ে ও ডলারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, তবে এটি দেশের মুদ্রাবাজারে দুর্বলতা সৃষ্টি করবে। মুদ্রার বিনিময় হার দুর্বল হয়ে গেলে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন পড়বে, যার ফলে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করতে হতে পারে। এর ফলে রিজার্ভ দ্রুত কমবে, এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ন হতে পারে।

এই পরিস্থিতি এড়াতে, রিজার্ভের চাপ কমাতে ও ডলারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিনিময় হার কিছুটা নমনীয় করতে পারে বা ডলারের দাম কিছুটা বাড়ানোরও প্রয়োজন হতে পারে। একই সঙ্গে, দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সামঞ্জস্য রাখতে হতে পারে, অন্যথায় মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে।

সব মিলিয়ে, দেখা যাচ্ছে যে তেলের দাম বৃদ্ধির সাথে ডলার অবমূল্যায়নের প্রভাব সরাসরি দেশের মূল্যস্ফীতিতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে, যা ভোক্তার জন্য ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতি মোটের ওপর দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo