খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে পাশে নিয়ে একটি সমৃদ্ধ ও সুন্দর নগরী গড়াই তাদের প্রধান লক্ষ্য। প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে খুলনাকে সুন্দর করে তোলাই তার উদ্দেশ্য এবং এ কাজের জন্য ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
কেসিসি প্রশাসক গতকাল বিকেলে নগরের গল্লামারিস্থ শ্রী শ্রী হরি মন্দির ও গুরুচাঁদ ছাত্রাবাস প্রাঙ্গণে আয়োজিত মতুয়া মহাসম্মেলনের উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানটি খুলনা বিভাগীয় শ্রী শ্রী হরিমন্দির পরিচালনা কমিটি ও গুরুচাঁদ ছাত্রাবাস আয়োজিত। প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনাস্থ ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) চন্দ্রজীৎ মুখার্জি।
বক্তৃতায় নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে যাত্রা শুরু করেছেন তা হচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। তার নেতৃত্বে দীর্ঘ বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে আমরা একটি নিরাপদ, মানবিক, উদার ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই—এমন লক্ষ্য তিনি ব্যক্ত করেন। তিনি সবাইকে আন্তরিকতা ও আস্থাভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তুলে দেশের সমৃদ্ধিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং মন্দিরের চলমান সমস্যাগুলো সমাধানে নগর প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্ভব সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।
মতুয়া মহাসম্মেলনে মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডাঃ দুলাল কৃষ্ণ রায় সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন ওড়াকান্দির ইন্টারন্যাশনাল হরি-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশনের সভাপতি সুপতি ঠাকুর শিবু ও ওড়াকান্দির আন্তর্জাতিক মতুয়া প্রচার মিশনের সভাপতি সম্পদ ঠাকুর, যারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে আশীর্বাদ দেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিল্পপতি প্রফুল্ল কুমার রায়। প্রধান আলোচক ছিলেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সত্যানন্দ দত্ত এবং বিশেষ আলোচক ছিলেন ঢাকাস্থ কিশোরলাল ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক গৌতম কুমার ঢালী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মৌমি রায় এবং সঞ্চালনা করেন মন্দিরের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট অপূর্ব বৈদ্য।
সকালেও প্রশাসক নগরীর বিআইডিসি রোডে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে নিজের তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। সমাজসেবক এডভোকেট জিএম ফজলে হালিম লিটন, বিপ্লবুর রহমান কুদ্দুসসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।