ইরান এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালি দিয়ে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে চায়, তবে এর জন্য নিজের কিছু শর্তাবলি পূরণ করতে হবে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথটির উপর নির্ভর করে অনেক দেশ তাদের জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখে। তবে, ইরানের বার্তাটা স্পষ্ট—‘যুদ্ধ’ এবং ‘যুদ্ধবিরতি’ একসাথে চলতে পারে না, একে অন্যের পরিপূরক নয়। তাই এই দুই পরিস্থিতির মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে চরমভাবে জানিয়েছেন তেহরানের পক্ষ থেকে। বুধবার ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা বিবিসিকে এক সাক্ষাৎকারে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ এই বার্তা দেন। তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে হাজার বছর ধরে এই প্রণালী বন্দরে ছিল, এবং এটি কোনো আন্তর্জাতিক জলসীমার অন্তর্ভুক্ত নয়। ইরানের ভাষায়, নিরাপদ চলাচল প্রমাণ করতে হলে তেহরান ও ওমানে ‘সদিচ্ছার’ ঠিকঠাক দেখাতে হবে। তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই আগ্রাসনের থেকে সরে না এলে, প্রণালী পুনরায় খোলা হবে না। মূলত, এই বক্তব্যে ইরান লেবাননে ইসরায়েলি হামলার দিকেও আঙ্গুল তুলেছেন বলে ধারণা করা হয়। সাংবাদিক নিক রবিনসনের প্রশ্নে, তিনি জানিয়েছেন, ইরানের লক্ষ্য প্রণালিটিকে ‘শান্তিপূর্ণ’ রাখা। ইরান আন্তর্জাতিক আইন মানবে, তবে নিরাপদ চলাচল দ্বিপাক্ষিক বিষয় এবং তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজের অপব্যবহার বরদাস্ত করবে না। এর আগে যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টা পরে, ইরান অভিযোগ তোলে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গত সপ্তাহে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন হয়েছে। এর ফলে তারা আবার হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। ইরানের ভাষ্য, যে ১০ দফা শর্তের ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তার মধ্যে তিন দফা লঙ্ঘিত হয়েছে। লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকছেও নতুন করে অভিযোগে উঠেছে, ড্রোন হামলার শিকার হওয়ারও কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে অভিযোগ তুলেছে তেহরান। ফলে, ইরানের এই কার্যক্রমের কারণে বিভিন্ন দেশের তেলবাহী জাহাজরা ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সাফ বলে দিয়েছেন, ‘ইরান ও আমেরিকার যুদ্ধবিরতির শর্ত স্পষ্ট। Either যুদ্ধবিরতি থাকবে বা যুদ্ধ চালিয়ে যাবে, দুটিই একসঙ্গে চালানো সম্ভব নয়। লেবাননের হামলা বিশ্বজুড়ে নজরদারি করছে।’ তেহরানের বার্তাটি দিয়ে বোঝানো হয়, ‘এখন সময় এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে সিদ্ধান্তের অপেক্ষা।’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য তারা ইরানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি বলেছিলেন, এই প্রণালী দিয়ে চলা জাহাজগুলির কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে, এখন পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে এবং ইরানের শর্তের প্রতি গুরুত্ব দিয়েই পরিস্থিতির সমাধান খুঁজে বের করতে তৎপরতা চলছে। সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি