1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ওমরাহ করতে যাচ্ছিলো; প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের মা-ছেলে-মেয়ে নিহত সংবাদিকতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন কে সাংবাদিক, কে নয় তা নির্ধারণে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী দু’এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগরকে কুপিয়ে হত্যা ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৮ বার পেছালো সাতক্ষীরা-৪ এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে চালকের ওপর হত্যাচেষ্টার মামলা সাগর–রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৮ বার পেছাল দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপি নজরুলের আসন শূন্য হবে: ইসি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ ৫২ কর্মকর্তা নিহত

  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক সামরিক ও গোয়েন্দা অভিযানের ফলে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ব্যাপক আঘাতের মুখোমুখি হয়েছে। এই বছরগুলিতে অন্তত ৫২ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও কমান্ডার প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের প্রভাব ব্যক্তিগত ক্ষতিপূরণ ছাড়িয়ে গেছে; এটি মূলত ইরানের সামরিক কর্মকাণ্ড, কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে গুরুতর পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে।

ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিত্বদের ওপর এই আঘাত খুবই নাটকীয়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাম হলো আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, যিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এবং সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্তার দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর মৃত্যু ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামোতে অভূতপূর্ব শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। তিনি ছিলেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তদাতা, যার অভাবের ফলে দেশের সংহতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

তাঁর মৃত্যুর পর জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব হিসেবে আব্দুল্লা লারিজানি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে পরিচিত এই রাজনীতিবিদের ওপরও ইসরায়েলি হামলার মাধ্যমে আঘাত হানা হয়। একইভাবে, প্রতিরক্ষা পরিষদের সচিব আলী শামখানি ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আদর্শ ব্যক্তি। তাঁর ওপরও হামলা হয়, যা ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলোকে আরও প্রভাবিত করে।

সামরিক নেতৃত্বের ধারাবাহিক ক্ষতি দেখা গেছে। আইআরজিসি চিফ অব স্টাফ মোহাম্মদ বাঘেরিকে যুদ্ধের প্রথম দিনেই হত্যা করা হয়। তাঁর দায়িত্ব ছিল সামরিক বাহিনী, পুলিশ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় স্থাপন করা। তার পরে, এই দায়িত্বে থাকা অন্যরা দ্রুত মারা গেলে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ভেঙে পড়ে। খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের কমান্ডার গোলামালি রশিদও যুদ্ধকালীন অপারেশনের প্রধান ছিলেন, তাকে হত্যা করে ইরানের যুদ্ধ পরিকল্পনা দুর্বল হয়ে যায়।

আইআরজিসির শীর্ষ কমান্ডার হোসেইন সালামি, যিনি মার্কিন ও ইসরায়েলের অদম্য বিরোধিতার জন্য পরিচিত ছিলেন, তিনি নিহত হন। এরপর দায়িত্ব পান মোহাম্মদ পাকপোর, কিন্তু তিনিও খুব দ্রুত মারা যান। এই ধারাবাহিকতাটি ইরানের সামরিক শক্তির অঙ্গপ্রতঙ্গকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে। মহাকাশ বাহিনীর প্রধান আমির আলী হাজিজাদেহ, নৌবাহিনীর প্রধান আলিরেজা তাংসিরি এবং আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতাও এতে সহায়তা করেন। ফলে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তি, সামরিক শক্তি ও আঞ্চলিক দাপট কমে যাওয়ার আশঙ্কা দানা বাঁধে।

গোয়েন্দা বিভাগের ক্ষতি ছিল আরও মারাত্মক। গোয়েন্দা মন্ত্রী ইসমাইল খাতিব ও তার বেশ কয়েকজন সহকারী দ্রুত মারা যান। আইআরজিসির গোয়েন্দা প্রধান মোহাম্মদ কাজেমি একজন বিভ্রান্তিমূলক অপারেশনে নিহত হন, পরে দায়িত্ব নেয়া মজিদ খাদেমিও। এর ফলে বোঝা যায় যে, ইরানের গোয়েন্দা কার্যক্রমে ভেঙে পড়েছে সমন্বয় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা অনেকটাই কমে এসেছে।

প্রশ্নের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা, যাঁরা এদেরও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিলেন। মোহসেন ফাখরিজাদেহ, যাঁর ওপর হত্যাজনক অস্ত্র হামলা হয়, ছিল অন্যতম। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন বৈঠক ও নেতৃত্বও আক্রান্ত হয়। এতে বোঝা যায়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনায় থাকা ব্যক্তিদের ওপরও শত্রুপক্ষের নজরদারি ও আঘাত পরিচালিত হচ্ছে।

আঞ্চলিক প্রভাবের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। কাসেম সোলাইমানি, যিনি ইরানের মূল আঞ্চলিক নেতৃস্থানীয় ছিলেন, ২০২০ সালে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন। এর ফলে সিরিয়া, লেবানন এবং অন্যান্য অঞ্চলে ইরানের প্রতিলিপি ও নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়। মোহাম্মদ রেজা জাহেদি ও আব্বাস নিলফোরোশানসহ অন্য শীর্ষ নেতাদের ক্ষতি হয়, যা ইরানের আঞ্চলিক আধিপত্যের ওপর প্রভাব ফেলে।

অভ্যন্তরীণ দমননীতি ও নিরাপত্তাও আঘাতপ্রাপ্ত হয়। বাসিজ বাহিনী প্রধান গোলামরেজা সোলাইমানি ও তার ডেপুটি মারা যাওয়ায় দেশের ভেতরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অসুবিধায় পড়ে। এই বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে বিক্ষোভ দমন ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

এই ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ইরানে গভীরভাবে গোয়েন্দা অনুপ্রবেশ হয়েছে, যা শীর্ষ সিদ্ধান্তের স্তর পর্যন্ত ট্র্যাক করা সম্ভব। হামলাগুলো খুবই নিখুঁতভাবে পরিচালিত হয়েছে, যা আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিকল্পনামূলক আক্রমণের দিক নির্দেশ করে। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সামরিক সমন্বয় দুর্বল হয়ে পড়েছে। আঞ্চলিক শক্তি ও প্রক্সি নেটওয়ার্কের ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হত্যাকাণ্ডগুলো শুধুমাত্র সামরিক ক্ষতি নয়, বরং একটি রাষ্ট্রের ক্ষমতা ও শক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে আঘাতের বহুমাত্রিক চিত্র। এটি নিঃসন্দেহে ইঙ্গিত দেয় যে, আধুনিক যুদ্ধ এখন আর শুধু ময়দানে নয়; বরং গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তি ও লক্ষ্যবস্তু হত্যার মাধ্যমে চালানো হচ্ছে। ইরানের জন্য এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো নতুন নেতৃত্ব গঠন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্গঠন এবং অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার। তবে এই ধারাবাহিক ক্ষতির পরে সেই পথ কতটা সহজ হবে, তা সময়ই স্থির করবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo