1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৪৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ওমরাহ করতে যাচ্ছিলো; প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের মা-ছেলে-মেয়ে নিহত সংবাদিকতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন কে সাংবাদিক, কে নয় তা নির্ধারণে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী দু’এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগরকে কুপিয়ে হত্যা ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৮ বার পেছালো সাতক্ষীরা-৪ এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে চালকের ওপর হত্যাচেষ্টার মামলা সাগর–রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৮ বার পেছাল দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপি নজরুলের আসন শূন্য হবে: ইসি

২০২৪ সালে ব্যাংকখাতে লোকসান ও সিএসআরে হ্রাস

  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬

২০২৪ সালে দেশের ব্যাংক খাতের জন্য এক কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং বছর ছিল। অর্থনৈতিক অস্থিরতা, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং বিভিন্ন আর্থিক সংকটের কারণে বেশ কটি ব্যাংকই নিট মুনাফা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। সাফল্য অর্জনকারী ব্যাংকগুলোও প্রত্যাশিত মাত্রায় লাভ করতে পারেনি। এর ফলে দেশের কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতেبان্কগুলোর ব্যয় অনেকখানি কমে গেছে, যা আগের বছরের তুলনায় মাত্র অর্ধেকের কাছাকাছি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ৬১ টি ব্যাংক মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকার সিএসআর খাতে ব্যয় করেছে। এটি আগের বছর থেকে ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ কম। এই অন্তর্মুখী প্রবণতা গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে নিম্ন পর্যায়ে এসেছে। আগে ২০১৫ সালে সবচেয়ে কম ব্যয় ছিল ৫১২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এর চেয়েও এবার প্রায় ১৮২ কোটি টাকা বা ৩৪.৫৭ শতাংশ কম ব্যয় হয়েছে, যা খাতের জন্য নতুন অন্ধকারের ইঙ্গিত দেখাচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে ব্যাংকগুলো এই খাতে মোট ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয় করেছে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৩০৮ কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশ কম। ২০২৩ সালে ব্যয় ছিল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা, এবং ২০২২ সালে তা ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা। ফলে, দুই বছরের ব্যবধানে এই খাতে ব্যয়ের পরিমাণ একেছ ৫১৩ কোটি টাকার বেশি, যা প্রায় ৪৫ শতাংশেরও বেশি হ্রাস দেয়।

বিশ্লেষক ও খাত সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে করোনা-পরবর্তী অর্থনৈতিক বিপর্যয়, ছাত্র-জনতার আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রভাবে ব্যাংকিং খাতে বড় ধাক্কা লেগেছে। একই সময় বিভিন্ন ব্যাংকের মধ্যে অনিয়ম, লুটপাট, অর্থ পাচার ও ঋণ খেলাপির তথ্য প্রকাশিত হতে শুরু করে। এর ফলে কাগজে-কলমে দেখানো মুনাফার পেছনে সব সময়ের আসল আর্থিক ছবি উন্মোচিত হয়। এছাড়াও, খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় প্রকৃত ব্যাংক লোকসানের হিসাব স্পষ্ট হয়।

বিশেষ করে শরিয়া ভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। এসব ব্যাংকে বেশ কিছু শিল্পগোষ্ঠীর ঋণে অনিয়ম ও অর্থ পাচারের প্রভাব স্পষ্ট দেখা যায়। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র বিভিন্ন দুর্বল ব্যাংকের স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে কিছু ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

ব্যাংকাররা বলছেন, সিএসআর ব্যয়ের হ্রাসের পিছনে রাজনৈতিক পরিবর্তনের বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে দেখা দরকার। আগে রাজনৈতিক সরকার সময় বিভিন্ন পর্যায় থেকে অনুদান বা সহায়তার জন্য চাপ সৃষ্টি করত। শিক্ষাখাতে, স্বাস্থ্যখাতে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বা অন্যান্য দানশীল কার্যক্রমে ব্যাংকগুলোকে অর্থ ব্যয় করতে বলা হত। অনেক সময় এই ব্যয়গুলো প্রকৃত সিএসআরের আওতার বাইরে চলে যেত। কিন্তু ২০২৪ সালের সালে জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং আগস্টে রাজনৈতিক ক্ষমতা পরিবর্তনের পর এই চাপ অনেক চাপ কমে গেছে। এখন ব্যাংকগুলো বিবেচনা করে তুলনামূলকভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যয় করছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা একান্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক প্রভাব ও চাপের কারণে অনেক সময় এই অর্থ অব্যবহারযোগ্য বা অননুমোদিত খাতে ব্যয় হয়, যা মূল উদ্দেশ্য থেকে সরিয়ে দেয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে বাধ্য। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ শিক্ষা, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্য এবং ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ব্যয় করতে বলা হয়। বাকি ২০ শতাংশ অন্য যেকোনো সামাজিক ও অর্থনৈতিক খাতে ব্যয় করা যাবে।

তবে বাস্তবে এ নিয়ম মানা হচ্ছে না বললেই চলে। ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি ৩৬ শতাংশ ব্যয় করেছে ‘অন্য’ খাতে। শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩ শতাংশ, স্বাস্থ্য খাতে তা ছিল উল্লেখযোগ্য অংশ, কিন্তু পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে মাত্র ১০ শতাংশের কিছু বেশি ব্যয় হয়েছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৪ সালে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে কোনো অর্থ ব্যয় করেনি। এগুলো হলো-জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

এছাড়া, সরেজমিনে দেখা গেছে, এই খাতে ব্যয় করা ব্যাংকের মধ্যে বেশ কিছু ব্যাংক লোকসানে চলে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক, আইসিবি ইসলামি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

অতিরিক্ত উল্লেখ্য, এসব ব্যাংকের মধ্যে ছয়টি ব্যাংক, যদিও মুনাফা অর্জনে না পারলেও সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে-এবিবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo