1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
জুনের মধ্যেই মাঠ থেকে সব সেনা প্রত্যাহার, ব্যারাকেই ফিরবে সদস্যরা নাসির-তামিমা মামলার রায় ঘোষণা ১০ জুন সরকারি বিভাগের ধীরগতি বিনিয়োগে প্রধান প্রতিবন্ধকতা: মির্জা ফখরুল মদনে শিশুধর্ষণ ও ন্যূনতম অন্তঃসত্ত্বা অভিযোগ: শিক্ষকে গৌরিপুর থেকে গ্রেপ্তার গরুর হাটে চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না: প্রতিমন্ত্রীর কড়া বার্তা এপ্রিল মাসে সড়ক, নৌ ও রেল দুর্ঘটনায় ৪৩৪ জনের মৃত্যু সেনাপ্রধানের মতে, দেশের ইতিহাসে এত সুন্দর নির্বাচন আগে হয়নি এনসিপির নুসরাত তাবাসসুম শপথ নিলেন ত্রয়োদশ সংসদে সংসদ সদস্য হিসেবে শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞ: সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল রাজসাক্ষী হতে চান ঈদুল আজহা: ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রির সময়সূচি ঘোষণা

সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ: বিসিবি এখন ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ হয়ে গেছে

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নগন্যভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে। তিনি মনে করছেন এটি শুধু একক কোনো সংস্থার নয়, দেশের সংবিধান-প্রতিষ্ঠানের গভীর সংকটের ইঙ্গিত।

বুধবার (৮ এপ্রিল) সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১১ দিনের বিকেলের সেশনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬’ উত্থাপনের পর দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর ভাষ্য, ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংক দখল করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান থেকে ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ হিসেবে পরিণত হয়েছে।

হাসনাত বলেন, বলাবলি করা হচ্ছে যে বিলটিতে ‘কমিশন’ বলতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে বুঝানো হয়েছে। বিলের সংজ্ঞায় ‘বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার’—এর মতো পর্যায়বোধগুলো আছে, যেখানে রাজনৈতিক প্রতিরোধ ও গণতান্ত্রিক পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে সংঘটিত কার্যক্রমগুলোকেও একই চিমটে ধরা হতে পারে। অর্থাৎ সংকীর্ণ বা ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত অপরাধ-মূলক কার্যক্রম ও গণতান্ত্রিক পুনরুদ্ধারমূলক কর্মসূচির মধ্যে পার্থক্য করা হলেও আইন প্রয়োগে তা অস্পষ্টভাবে দেখানো যেতে পারে।

তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সংকীর্ণ স্বার্থে সংঘটিত যে হত্যাকাণ্ড বা সহিংসতার ধারা আছে—সেগুলোকে কে কিভাবে সংজ্ঞায়িত করবে? এই দায়িত্ব পড়বে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর। চাকরিভিত্তিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি কমিশন কীভাবে নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যায়।

হাসনাত আরও উল্লেখ করেন, ওই কমিশনের উপর যে অধ্যাদেশ বা বিধান রয়েছে সেগুলো ল্যাপস করে দেওয়ার প্রস্তাব চলছে। যদি কমিশন ২০০৯ সালের মডেলে ফের ফিরে যায়, তাহলে সেটি কার্যত সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন হবে—এমনকি বিরোধী দল কিংবা অনুচিত মতকে দমনের জন্যও ব্যবহৃত হতে পারে। তিনি বললেন, এর ফলে ভিকটিম ব্লেমিং, গুম বা হত্যার ‘বৈধতা’ তৈরির মতো অনুচিত ব্যবহারও সম্ভব।

তিনি বলেন, যদি আমরা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে কোনো মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখি—বিশেষত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের—তাহলে যে অনুসন্ধানগুলো পরিচালিত হবে সেগুলো নিরপেক্ষ হবে কি না, সে বিষয়ে আমরা সন্দিহিত। তাঁদের মতে, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নিরীক্ষণ নিশ্চিত করতে হলে কমিশনকে অবশ্যই স্বায়ত্তশাসিত করে তোলা দরকার।

একদিকে তিনি জানান, যারা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত ও নিপীড়িত হয়েছেন, তারাই কমিশনকে মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখতে চায়—তাকে তারা নিরাপদ মনে করে। অন্যদিকে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘এই অজুহাতে যদি কমিশন অটোনমাস করা হয়, তাহলে তার জবাবদিহিতা কিভাবে নিশ্চিত করা হবে?’—এমন দ্ব্যর্থহীন প্রশ্নও উত্থাপিত হয়।

শেষে হাসনাত আবদুল্লাহ সতর্ক করে বলেন, বাস্তবে যদি আমরা এখনকার মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নি, তাহলে ভবিষ্যতে আমরা আবার দেখতে পারি বিসিবির মতো ‘বাপের দোয়া’ কমিশন, বাংলাদেশের মতো ব্যাংকগুলোর দলীয়করণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলতি সেই একপক্ষীয় দলীয়করণ। তাই বিল পাসের আগে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বচ্ছতা ও স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা কঠোরভাবে জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo