1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:১৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ওমরাহ করতে যাচ্ছিলো; প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের মা-ছেলে-মেয়ে নিহত সংবাদিকতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন কে সাংবাদিক, কে নয় তা নির্ধারণে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী দু’এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগরকে কুপিয়ে হত্যা ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৮ বার পেছালো সাতক্ষীরা-৪ এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে চালকের ওপর হত্যাচেষ্টার মামলা সাগর–রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৮ বার পেছাল দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপি নজরুলের আসন শূন্য হবে: ইসি

১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় অর্ধেকে নামল

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬

বংলাদেশের ব্যাংক খাত ২০২৪ সালে একটি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপে এবং অভ্যন্তরীণ ঝড়ঝাপের কারণে বছরজুড়ে ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা অর্জনে অক্ষম হয়েছে। এ ছাড়াও, বেশকিছু ব্যাংক মুনাফা করলেও তাদের আয় প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছেনি। এর ফলে, ব্যাংকগুলোকে সামাজিক দায়বদ্ধতা বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি (সিএসআর) খাতে ব্যয় কমিয়ে আনতে হয়েছে প্রায় অর্ধেকেরও বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, ২০২৫ সালের জানুয়ারী থেকে ডিসেম্বরে দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক মিলিয়ে সিএসআর খাতে মোট ব্যয় করেছে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা। যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২% কম। এই কমতি নিয়ে এরই মধ্যে বলাবলি হচ্ছে, গত এক দশকে এটিই সবচেয়ে কম ব্যয়ের রেকর্ড। এর আগে ২০১৫ সালে এই খাতে ব্যয় ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। তার মানে, এবার এই খাতে ব্যয় কমেছে প্রায় ১৮২ কোটি টাকা বা ৩৪.৫৭%।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে এই খাতে ব্যয় হয়েছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৩০৮ কোটি টাকা বা ৩৩% কম। এর আগের বছর ব্যয় ছিল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা এবং ২০২২ সালে ১,১২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ, দুই বছর ধরে এই খাতে ব্যয় প্রায় অর্ধেক কমে গেছে, যা অর্থনীতির জন্য বড় সংকেত।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা, ছাত্র-জনতার আন্দোলন, তথা সরকারে পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের ধাক্কা দেয়। পাশাপাশি, বিভিন্ন ব্যাংকে অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থ পাচারের ঘটনাও প্রকাশিত হতে থাকে। এসব কারণে, মুদ্রিত বা কাগজে-কলমে দেখানো মুনাফার পাশাপাশি প্রকৃত আর্থিক চিত্র পুনরায় উন্মোচিত হয়। বিশেষ করে, খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়তে থাকায় ব্যাংকগুলোর প্রকৃত ক্ষতির হিসাব বাইরে উঠে আসে।

বিশেষ করে শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকগুলো নতুন করে চাপের মুখে পড়ে। এসব ব্যাংকে কিছু শিল্পগোষ্ঠীর ঋণের অনিয়ম এবং অর্থ পাচারের প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যায়। পরিস্থিতি মোকাবেলায়, সরকার দফায় দফায় ব্যাংকগুলোকে একীভূত করার উদ্যোগ নেয়।

ব্যাংকারদের মতে, সিএসআর ব্যয় কমার অন্যতম কারণ হলো রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন। আগের সময়গুলোতে, রাজনৈতিক সরকারের পাশ থেকে নানা পর্যায় থেকে অনুদান বা সহায়তার জন্য চাপ থাকত। সেই সময়ে ব্যাংকগুলো অনুরোধের ভিত্তিতে বিভিন্ন খাতে অর্থ ব্যয় করত, অনেক সময় প্রয়োজনের বাইরে গিয়ে। ২০২৪ সালে জুলাইয়ের আন্দোলন এবং আগস্টের সরকার পরিবর্তনের পর সেই চাপ অনেকটাই কমে গেছে। ফলে, এখন ব্যাংকগুলো বিবেচনাপূর্ণভাবে সিএসআর ব্যয় করার সুযোগ পাচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক প্রভাব বা চাপের কারণে অনেক সময় এই অর্থ অপপ্রয়োগ হয়, যা মূল উদ্দেশ্য- সামাজিক উন্নয়ন থেকে দুরে সরায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে হয়। এর মধ্যে ৩০% শিক্ষা, ৩০% স্বাস্থ্য এবং ২০% পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। অবশিষ্ট ২০% অন্যান্য খাতে ব্যয় করতে পারলেও, বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৩৬% ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে। শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩%, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য বরাদ্দ ছিল কম।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে কোনো অর্থ ব্যয় করেনি। এর মধ্যে রয়েছে- জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। পাশাপাশি, ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে- জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামিক ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

এছাড়া, ছয়টি ব্যাংক এমনও আছে যেখানে মুনাফা না করেও সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করেছে, যেমন- এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo