২০২৫ সালের এপ্রিল—হঠাৎ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুর দুয়ারে পৌঁছেছিলেন তামিম ইকবাল। তখন দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছিল; ধীরে ধীরে ফিরে আসা সুসংবাদের মধ্যেই সবাই স্বস্তি পেয়েছিলেন। ঠিক এক বছর পর আবার এপ্রিল—ক্রিকেটার তামিম এবার দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের শীর্ষে বসে নতুন অধ্যায় শুরু করলেন।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ঘোষণার পর দুপুরের পর দায়িত্ব পান তিনি। বিকেল চারটার পর মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে বিসিবি কার্যালয়ে হাজির হয়ে দীর্ঘদিনকার পরিচিত কর্মীর ভূমিকায় এবার বোর্ডের প্রধান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন। জাতীয় দলের তৃতীয় অধিনায়ক বলে পরিচিত এই ওপেনার খেলোয়াড়ি জীবন শেষে এখন দলের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব নিয়েছেন।
প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবাল স্পষ্টভাবে বললেন—প্রাথমিক লক্ষ্য হবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ক্ষতিগ্রস্ত ভাবমূর্তিকে ফিরিয়ে আনা। গত এক-দেড় বছরে যে ধাক্কা লেগেছে, তা কাটিয়ে ওঠাই তাদের অগ্রাধিকার। তা না হলে মাঠে অর্জিত সাফল্য ও দেশের গৌরব ফিরানো সম্ভব হবে না, এমনটিই তার ভাবনা।
আদহক কমিটির ১১ সদস্যের একটি বাধ্যবাধকতা আছে—তিন মাসের মধ্যে বোর্ডের নিয়মিত নির্বাচন আয়োজন করা। তামিম জানিয়েছেন, তারা এই দায়িত্বটি সৎ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতে চাইছেন। ‘‘আমাদের ওপর যে দায়িত্ব আরোপ করা হয়েছে—ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন তিন মাসের মধ্যে আয়োজন করা—এটি আমরা যতটা সততার সঙ্গে এবং যতটা দ্রুত সম্ভব করতে চাই।’’
দৈনন্দিন কাজকর্ম মসৃণভাবে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতীকী বক্তব্যও দিয়েছেন নতুন প্রশাসক। বিশ্বকাপ সংক্রান্ত ইস্যুসহ বর্তমানে যেসব চলমান কাজ রয়েছে, সেগুলোকে তারা সঠিকভাবে এগিয়ে নিবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে সবার সম্মান ফেরানো ও বিসিবি ও দেশের ক্রিকেট নিয়ে গর্ব ফিরিয়ে আনাই তার বড় অনুশীলন হবে — কর্মকর্তারা, খেলোয়াড়রা ও সব স্টেকহোল্ডারের আত্মমর্যাদা প্রাধান্য পাবে বলেই জানিয়েছেন তিনি।
তামিম সরলভাবে মেনে নিয়েছেন—তারা ভুল করবে, কিন্তু সেই ভুল থেকে শিক্ষাও নেবে এবং উন্নতির জন্য চেষ্টা করবে। ‘‘আমরা শুধু কথা বলবো না, কাজ করব; চূড়ান্তভাবে পরিবর্তন আনব,’’ বললেন তিনি।
বৈঠক শেষে তামিম জানালেন, অ্যাডহক কমিটির সদস্য তানজিল চৌধুরীকে বোর্ডের মুখপাত্র হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে; তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত ও বোর্ডের কার্যক্রম সংবাদমাধ্যমে জানাবেন।
নতুন নেতৃত্ব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া এই মুহূর্তকে তামিম ‘বিশেষ দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন—খেলোয়াড়ি জীবনের পর প্রশাসনে এসে দেশের ক্রিকেটকে আবার গৌরবময় জায়গায় ফিরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই তিনি কাজ শুরু করেছেন।