1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ওমরাহ করতে যাচ্ছিলো; প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের মা-ছেলে-মেয়ে নিহত সংবাদিকতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন কে সাংবাদিক, কে নয় তা নির্ধারণে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী দু’এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগরকে কুপিয়ে হত্যা ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৮ বার পেছালো সাতক্ষীরা-৪ এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে চালকের ওপর হত্যাচেষ্টার মামলা সাগর–রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৮ বার পেছাল দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপি নজরুলের আসন শূন্য হবে: ইসি

১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধে নেমে এসেছে

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬

২০২৪ সাল ব্যাংক খাতের জন্য কঠিনভাবে স্মরণীয় রেকর্ড হলো—বছর জুড়ে আর্থিক চাপে পড়ে ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা করতে পারেনি। ওই বছরের ক্ষতচিত্রের ধাক্কা পরের বছরই সিএসআর খাতে স্পষ্টভাবে পড়ে: ২০২৫ সালের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সিএসআর খাতে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছে—শতকরে প্রায় অর্ধেক কম।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তুলনায় দিকগুলো দেখলে পরিষ্কার হয়, ২০২৪ সালে সিএসআর ব্যয় ছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা; ২০২৩ সালে তা ছিল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ এবং ২০২২ সালে ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ ২০২৩ থেকে ২০২4 ও ২০২5 ধারায় ধারাবাহিকভাবে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে—দুই বছরের ব্যবধানে খাতে ব্যয় প্রায় ৫১৩ কোটি টাকা বা ৪৫ শতাংশেরও বেশি কমেছে।

গত এক দশকে এটিই সিএসআর খাতে সর্বনিম্ন ব্যয়; এর আগে ২০১৫ সালে খাতটিতে সর্বনিম্ন ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ২০১৫ সালের তুলনায় এবারের খরচ প্রায় ১৮২ কোটি টাকা বা ৩৪.৫৭ শতাংশ কম, যা খাতে নতুন নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে জুন—জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলন, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পরে সরকারের পরিবর্তন ব্যাংকিং খাতকে সরাসরি প্রভাবিত করেছে। একই সময়ে কিছু ব্যাংকের অনিয়ম, লুণ্ঠন ও অর্থ পাচারের তথ্য প্রকাশ্যে আসায় কাগজে-কলমে দেখানো আর্থিক চিত্রের বদলে প্রকৃত ক্ষতচিত্র সামনে আসে। খেলাপি ঋণ বাড়ায় প্রকৃত লোকসানের পরিমান বেড়ে যায়; বিশেষত শরীয়াভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক বড় চাপের মুখে পড়ে। এসব কারণে দুর্বল ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকারের উদ্যোগে কিছু ব্যাংক একীভূত করাও শুরু হয়।

ব্যাংকারদের ভাষ্যে, রাজনৈতিক প্রভাবও সিএসআর খরচ কমার গুরুত্বপূর্ণ কারণ। রাজনৈতিক সরকারের সময় নানা পর্যায় থেকে চাপ বসে অনুদান বা সহায়তা দেয়ার জন্য; শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অনুষ্ঠানিক অনুরোধে অনেক সময় ব্যয়গুলো প্রকৃত সিএসআর কার্যক্রমের বাইরেও খরচ করা হতো। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন ও পরবর্তী সরকার বদলের পর সেই চাপ অনেকটাই কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো এখন তুলনামূলকভাবে সর্তকভাবে সিএসআর বাজেট নির্ধারণ করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি—রাজনৈতিক বা বাহ্যিক প্রভাবের কারণে অনুৎপাদনশীল খাতে অর্থ বরাদ্দ হলে সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রকৃত লক্ষ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে বলা হয়েছে: শিক্ষায় ৩০%, স্বাস্থ্যেই ৩০%, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ২০% এবং বাকি ২০% অন্যান্য খাতে ব্যয় করা যাবে। কিন্তু বাস্তবে নিয়মগুলো অনুশীলনে মানা হচ্ছে না—২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি অর্থ (৩৬%) ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে; শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩%, এবং পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০%।

প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৫ সালে ১১টি ব্যাংক একটিও টাকা সিএসআর হিসাবে ব্যয় করেনি। ওই ব্যাঙ্কগুলোর তালিকায় রয়েছে: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

আরও দেখা যায়, ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর একটি পাঁচফোঁট তালিকায়—এগুলোর মধ্যে জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান অন্তর্ভুক্ত। তাদের মধ্যে ছয়টি—এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক—মুনাফা না করেও সিএসআরে অর্থ ব্যয় করেছে।

ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা ও সিএসআর কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে খাতের দক্ষ পুনর্গঠনের ওপর এবং সিএসআর-এ জবাবদিহিতা ও লক্ষ্যভিত্তিক ব্যয়ের বিধান কতোটা কার্যকর করা যায় তার ওপর। নীতিনির্ধারকরা বলবেন—সামাজিক দায়বদ্ধতা শুধু সংখ্যা নয়; তা বাস্তবে সমাজ ও পরিবেশকে টেকসইভাবে টিকিয়ে রাখতে হবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo