1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৫৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ওমরাহ করতে যাচ্ছিলো; প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের মা-ছেলে-মেয়ে নিহত সংবাদিকতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন কে সাংবাদিক, কে নয় তা নির্ধারণে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী দু’এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগরকে কুপিয়ে হত্যা ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৮ বার পেছালো সাতক্ষীরা-৪ এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে চালকের ওপর হত্যাচেষ্টার মামলা সাগর–রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৮ বার পেছাল দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপি নজরুলের আসন শূন্য হবে: ইসি

প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের উদ্যোগে উপকূলীয় ১০ সহস্রাধিক মানুষের চোখে ফিরে এলো আলো

  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬

বেঁচে থাকলে অন্ধত্ব প্রতিরোধ—এই দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে মোংলা ও রামপালে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক বিশাল বিনামূল্যে চক্ষু শিবির। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সার্বিক সহযোগিতায় মোংলা পেড়িখালী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মোংলা, রামপালসহ পার্শ্ববর্তী উপকূলীয় অঞ্চল থেকে যোগ দেয় হাজার হাজার দরিদ্র রোগী। আয়োজকদের করা নিরীক্ষায় দিনশেষে প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে প্রাথমিক সেবা, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) সকাল ১০ টায় শুরু করে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলে দিনেরএই আই ক্যাম্প। ঢাকা মেগা সিটি লায়ন্স ক্লাবের আয়োজনে পরিচালিত এ কার্যক্রমে সেবার মান নিশ্চিত করতে ১০ জন বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসকসহ মোট ৩০ সদস্যের একটি সুদক্ষ মেডিকেল টিম রোগীদের চিকিৎসা করেছে। কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে মাঠজুড়ে ছয়টি পৃথক বুথ রাখা হয়েছিল।

ক্যাম্পে এসে রোগীদের চোখের প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ছানি (ছানি), নেট্রনালীর সমস্যা, চোখের বাড়তি মাংস বৃদ্ধি (পটেরিজিয়াম) ও ট্রাইকিয়াসিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগের রোগীদের আলাদা করে বাছাই করা হয়। শিশুরা থেকে শুরু করে শতবর্ষী বৃদ্ধ—সকলকে বিনামূল্যে লেন্স, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চশমা সরবরাহ করা হবে। জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয় তালিকা করা হয়েছে এবং তাদের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষাও সম্পন্ন করা হয়েছে।

যাদের দক্ষতাসম্পন্ন হাসপাতালে অপারেশন দরকার, তাদের ঢাকার দৃষ্টি আই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উন্নতমানের লেন্স বসানোসহ অপারেশন করে দেয়া হবে। অপারেশন ও পরে সুস্থ হয়ে ওঠা পর্যন্ত চিকিৎসা, আবাসন ও যাতায়াতের সব ব্যয় প্রতিমন্ত্রী নিজ খরচে বহন করবেন—আয়োজকদের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শরণখোলা থেকে এসেছে পরিমল বাবু; তিনি বলেন, গরিব হওয়ায় ভালো চিকিৎসা করাতে পারিনি, পার্শ্ববর্তী লোকদের পরামর্শে এখানে এসেছি, আল্লাহ চাইলে চোখ দুটো ভাল থাকুক—এমন আশা নিয়ে ডাক্তার দেখাতে এসেছি। দাকোপ থেকে আসা ৭২ বছর বয়সি ইব্রাহিম আলম বলেন, কয়েক বছর ধরে চোখে সমস্যা, সামনে কিছুই দেখা যায় না—ডাক্তার দেখালে হয়ত সুস্থ হই। মোংলার ললিতা হালদার (৬৫) বলেন, টাকার অভাবে ভালো ডাক্তার দেখাতে পারিনি, এখানে এসে আশা নিয়ে এসেছি।

এই মানবিক কর্মকাণ্ডটি দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতার অংশ; ২০০৯ সাল থেকে প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম ব্যক্তিগতভাবে এসব সেবা চালিয়ে আসছেন। গত ১৫ বছরে তাঁর এই উদ্যোগের মাধ্যমে লক্ষাধিক রোগী বিনামূল্যে আধুনিক চক্ষু চিকিৎসা ও সেবা পেয়েছেন। উপকূলীয় দরিদ্র মানুষের কাছে এই চক্ষু শিবির এখন আশার এক আলো হিসেবে পরিচিত।

প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, মানুষের সেবা করাই আমার পরম ধর্ম, আর্থিক কারণে বহু মানুষ চোখের চিকিৎসা করাতে পারে না—তারা অন্ধত্বের দিকে ধাবিত হচ্ছে। আমার লক্ষ্য এ অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের আবার পৃথিবীর আলো দেখানোর সুযোগ করে দেয়াই। যতদিন বেঁচে থাকব, ইনশাআল্লাহ এই সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এলাকার সুশীল সমাজ ও স্থানীয়রা এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তারা বলেন, নিয়মিতভাবে এমন উদ্যোগ উপকূলীয় জনপদের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে ও অন্ধত্ব নিরসনে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo