1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ১২:৪৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটপ্রহারে আহত রাফি মারা গেলেন মালয়েশিয়া সফর শেষ করে চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুজব ঠেকাতে পিআইডির ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রম অব্যাহত: তথ্যমন্ত্রী কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটপ্রহর; সাজিদ চৌধুরী রাফি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ দুদক কমিশনার নিয়োগের জন্য পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটের আঘাতে রাফির মৃত্যু গেজেটে ঘোষণা: এক বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ (২৫ মে–২৫ মে) জিয়াউল আহসানের দেহরক্ষী ইমরুল কায়েসের দাবি: ১৫০–২০০ জনকে হত্যা করতে দেখা ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ: বহিষ্কৃত শিবির নেতা জিসান ২ দিনের রিমান্ডে বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যা: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড

প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করলেন, আওয়ামী লীগ আমলে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার অর্থপাচার হয়েছে

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬

বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাংলাদেশের অর্থসম্পদের অপচয় এবং অবৈধ অর্থপ্রবাহের বিষয়ে জাতীয় সংসদে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, নিজেদের স্বগুপ্ত সিন্ডিকেট ও অপ্রতুল জবাবদিহিতার কারণে দেশের অর্থনীতি বিপদে পড়ছে এবং দেশের বাইরে কোটি কোটি ডলার অর্থ পাচার হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে প্রকাশ করেন, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থপাচার হয়েছে। এই পরিমাণ অর্থে বছরে গড় ১৬ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১ দশমিক ৮ লাখ কোটি টাকা দেশের বাইরে চলে গেছে। পাচারের অর্থ বিভিন্ন দেশের ব্যাংক ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রক্রিয়ায় স্থানান্তরিত হওয়ার কারণে তা উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাথে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ, ও আইনগত সহযোগিতা জোরদার করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে থাকেন, প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশে—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও হংকং-চীন—অর্থপাচার গন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি দেশে (মালয়েশিয়া, হংকং, সংযুক্ত আরব আমিরাত) পারস্পরিক আইনগত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বাকি সাতটির সঙ্গে চুক্তি অনুমোদনের কাজ চলমান। এই কাজে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য সংস্থা নিবিড়ভাবে কাজ করছে।

অর্থপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নেতৃত্বাধীন একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠিত হয়েছে। এই টাস্কফোರ್ಸি এখন পর্যন্ত ১১টি মামলায় পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার জন্য কার্যক্রম চালাচ্ছে। এই মামলার তদন্ত ও অনুসন্ধান চলমান। তদন্তে সহযোগিতা দেয় বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, যেমন দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ সিআইডি, এনবিআর সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল ও শুল্ক গোয়েন্দা সংস্থা।

সম্পদ জব্দের তথ্যও তুলে ধরা হয়। সংসদে জানানো হয়, আদালতের নির্দেশে দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশে ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দ ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশের বাইরে-বিদেশে মোট প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকার সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ রাখা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার ও তদন্তের জন্য ইতোমধ্যে ১৪১টি মামলায় চার্জশিট দাখিল এবং ৬টি মামলার রায় দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং ও অর্থনৈতিক অপরাধ দমনে কঠোর কৌশল গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

সর্বশেষে, প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, আওয়ামী লীগ আমলে সংঘটিত অর্থপাচার ও দুর্নীতির বিষয়ে একটি বিস্তারিত শ্বেতপত্র প্রকাশ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন। এটি সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, দেশের অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo