1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ১২:৩৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটপ্রহারে আহত রাফি মারা গেলেন মালয়েশিয়া সফর শেষ করে চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুজব ঠেকাতে পিআইডির ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রম অব্যাহত: তথ্যমন্ত্রী কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটপ্রহর; সাজিদ চৌধুরী রাফি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ দুদক কমিশনার নিয়োগের জন্য পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটের আঘাতে রাফির মৃত্যু গেজেটে ঘোষণা: এক বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ (২৫ মে–২৫ মে) জিয়াউল আহসানের দেহরক্ষী ইমরুল কায়েসের দাবি: ১৫০–২০০ জনকে হত্যা করতে দেখা ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ: বহিষ্কৃত শিবির নেতা জিসান ২ দিনের রিমান্ডে বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যা: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড

খুলনায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত

  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬

মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে খুলনায় বৃহস্পতিবার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। শতকরা নম্বর শ্রদ্ধা-ভঙ্গিমায় শহরজুড়ে জাতীয় অনুভূতি ঝুঁকে পড়েন সাধারণ মানুষ부터 প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলো পর্যন্ত।

সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে গল্লামারী শহিদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে সূচনা হয় উৎসবের। এ সময় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘোষণা করা হয়। সরকারি, আধাসরকারি, স্বশাসিত ও বেসরকারি ভবনগুলো জাতীয় পতাকা হাতে তুলে নেয়া হয় এবং শহরের প্রধান সড়ক ও দিগন্তরেখা জাতীয় পতাকা দিয়ে সজ্জিত করা হয়।

গল্লামারী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের আয়োজনেও উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ, কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক, কেএমপি কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার, পুলিশ সুপারসহ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, আনসার-ভিডিপি, কেডিএ, নৌপুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, রাজনৈতিক ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সকাল সাড়ে আটটায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ। একই স্থানে পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, বিএনসিসি, ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য বাহিনীর কুচকাওয়াজ ও সমবেত মর্যাদাপূর্ণ প্রদর্শন অনুষ্ঠিত হয় এবং তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ উপস্থিতি ও কুচকাওয়াজকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে বিভাগীয় কমিশনার সালাম গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে রেঞ্জ ডিআইজি, কেএমপি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নগর ভবনে কেসিসি আয়োজিত শিশুদের চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। কেসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান ও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা সহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিস ও পিআইডির উদ্যোগে শহিদ হাদিস পার্কে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডিটোরিয়ামে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ‘জাতির সূর্য সন্তান’ বলে অভিহিত করে তাদের ত্যাগ ও আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করছি, সরকারের দোরগোড়ায় তাদের সবসময় সেবা ও সহায়তা নিশ্চিত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।

জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকারের সভাপতিত্বে আয়োজনিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কেএমপি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান, পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি তফায়েল আহমেদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, বাংলাাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মহানগর ও জেলা ইউনিটের নেতারা এবং শহিদ সাকিব রায়হানের মাতাসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

দিবসটি উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন সিনেমা হল এবং উন্মুক্ত স্থানে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, পথশিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র, শিশু দিবাযতœ কেন্দ্র এবং অন্যান্য সামাজিক প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের মাধ্যমে সেবা নিশ্চিত করা হয়। জাতির শান্তি ও অগ্রগতির জন্য মসজিদে, মন্দিরে, গীর্জায় ও অন্যান্য পূজা স্থানে বিশেষ প্রার্থনা ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

বিআইডব্লিউটিএ রকেট ঘাটে সকাল ৯টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নৌবাহিনীর জাহাজ সাধারণ জনতার দর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি ভবন ও স্থাপনায় আলোকসজ্জা করা হয়। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা (টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, ফুটবল ও কাবাডি) অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সকল পার্ক ও বিভাগীয় জাদুঘর শিশুদের জন্য বিনামূল্যে খোলা রাখা হয়।

প্রতিদিনের মতো খুলনা বেতার বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করে এবং স্থানীয় পত্রিকাগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশের মাধ্যমে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে। রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও নানা কর্মসূচি দিয়ে দিবসটি পালনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে দেশের স্বাধীনতার শিক্ষা ও স্মৃতিকে নতুন করে জীবন্ত রেখেছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo