1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
স্বাধীনতা দিবসের শিক্ষা: দেশের কল্যাণে আত্মনিয়োগের আহ্বান দৌলতদিয়া ফেরি দুর্ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিলেন প্রতিমন্ত্রী দৌলতদিয়ায় ফেরিতে ওঠার সময় বাস নদীতে পড়ে; বহু হতাহতের আশঙ্কা মগবাজারে ‘নবী্ন’ দোকান বন্ধের ঘটনার কারণে হাতিরঝিল থানার ওসিকে আদালতে তলব ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলকে দেশের ১৮তম অ্যাটর্নি জেনারেল নিযুক্ত স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করলেন হাদি হত্যা মামলার দুই অভিযুক্ত ফয়সাল ও আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দিল্লি নিলে এনআইএ রমজানের ছুটি শেষে ১০টি শনিবার বিদ্যালয় খোলা রাখার নির্দেশ ওসমান হাদি হত্যা মামলার দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দিল্লি নিয়ে গেল এনআইএ রমজানের ছুটি শেষে পরবর্তী ১০টি শনিবার খুলবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬

আজ ২৬ মার্চ — বাঙালি জাতির গৌরব ও শ্রদ্ধার দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে বাঙালি একটি নতুন ইতিহাসের পথচলা শুরু করে। আজ আমাদের স্বাধীনতার ৫৫তম বার্ষিকী। ২৫ মার্চের মধ্যরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন সার্চলাইট’ শুরু হওয়ার পর থেকে বাঙালির সংগ্রাম ও ত্যাগের মধ্য দিয়েই মুক্তিযুদ্ধ ছিন্নভিন্ন ভূমি থেকে উঠে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা অর্জন করে। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে বিশ্বের মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে স্বাধীন বাংলাদেশ।

মতবিরোধের রাজনীতি ও শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির সেই সাহসিকতার ফলেই অর্জিত হয়েছে মহান স্বাধীনতা — তাতে শতভাগ শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয় প্রত্যেক বীর শহিদ, মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবারের প্রতি।

দিবসটি উপলক্ষে সারাদেশে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয়ভাবে সূর্যোদয়ের সাথে প্রার্থনা ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, ঢাকাসহ সব জেলায় তোপধ্বনি (একত্রিশ বার), জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবাররা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সকাল ৯টায় কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্ট অনুষ্ঠিত হবে। সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি সব ভবন আলোকসজ্জিত ও জাতীয় পতাকা-আলংকারে সজ্জিত থাকবে। ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া দিবসটিকে ঘিরে বিশেষ অনুষ্ঠান ও প্রকাশনার আয়োজন করেছে।

সংস্কৃতি ও শিক্ষাক্ষেত্রে সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলার স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমাবেশ, কুচকাওয়াজ ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা এবং ক্রীড়া আয়োজন করবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির জন্য বিশেষ প্রার্থনা ও দোয়া হবে। হাসপাতাল, জেলখানা, শিশু পরিষেবা কেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রম ও পথভ্রষ্টদের জন্য বিশেষ খাবার পরিবেশন ও সেবামূলক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও রাউন্ডঅ্যাবাউটে জাতীয় পতাকা ও ব্যানার লাগানো হবে, সরকারি ছুটি থাকবে এবং সংবাদপত্র ও পাবলিক মিডিয়ায় দিবসবিষয়ক বড় লেখালিখি প্রকাশিত হবে। একইভাবে দেশের বন্দর ও বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের জাহাজ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখার কর্মসূচি পরিকল্পিত রয়েছে। বিদেশে মূলত বাংলাদেশের দূতাবাস এবং মিশনে সমমানের স্মরণ ও অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

খুলনায় জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জেলার ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। গল্লামারী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, পুলিশ লাইনে একত্রিশবার তোপধ্বনি, খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শিক্ষার্থীদের সমাবেশ, কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হবে। পৌর ও সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক শিশু পার্ক ও কিছু সংরক্ষণকেন্দ্র বিনামূল্যে খুলে দেওয়া হচ্ছে; সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সংবর্ধনা, এবং ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের বাইরে জেলা জাদুঘর ও গণহত্যা স্মৃতিসৌধ শিশুদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

দেশব্যাপী অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রশাসনিক ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ এবং স্থানীয় স্তরে নাগরিক অংশগ্রহণে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মসূচি। বেশ কিছু বন্দর ও ঘাটে নৌবাহিনীর জাহাজ সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে এবং হাসপাতাল, জেলখানা, এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম ও অন্যান্য সুবিধা কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ খাবার ও সেবা নিশ্চিত করা হবে।

আজকের এই দিনে জাতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করবে দেশের মুক্তির জন্য আত্মদানকারী সকল শহিদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের; তাদের ত্যাগ ও আত্মত্যাগের গল্প নতুন প্রজন্মের কাছে জীবন্ত রাখতে হবে। স্বাধীনতা ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা দিয়ে আমরা স্মরণ করবো অতীতের ক্যানভাসে রাঙানো সেই সংগ্রামকে এবং অশেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করবো স্বাধীনতার জন্য প্রাণ উৎসর্গ করা প্রতিটি মানুষকে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo