ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। সোমবার (২৩ মার্চ) আল জাজিরা এবং অন্যান্য সূত্রে বলা হয়, জেরুজালেমসহ মধ্য ও দক্ষিণ ইসরায়েলে একাধিক সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে এবং বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী হামলার পর বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ ও ধ্বংসাবশেষ দেখা গেছে। কিছু প্রাথমিক তথ্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে গুচ্ছ বোমা (ক্লাস্টার মিউনিশন) ব্যবহৃত হতে পারে, যা বিস্ফোরণের সময় ছোট ছোট অংশে বিভক্ত হয়ে বিস্তার করে। মধ্য ইসরায়েলের অন্তত আটটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ বা বিস্ফোরণের আঘাত দেখা গেছে; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিও ও ছবিতে বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির চিত্রও প্রকাশিত হয়েছে।
রোববার থেকে অঞ্চলে ধারাবাহিক হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। শুধু ইরান নয়, লেবাননের সীমান্ত ঘেঁষা এলাকায় হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকেও আঘাত চালানোর ঘটনা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী তেহরানে ‘বড় ধরনের হামলা’ চালানোর ঘোষণা দিয়েছে এবং বলেছে যে সরকারি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করা হবে।
অন্যদিকে, একই ঘটনায় তেহরানেও কিছুক্ষণ আগে পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। আল জাজিরার প্রতিনিধি সুহাইব আল-আসা জানান, বিস্ফোরণের তীব্রতা নজিরবিহীন ছিল। বিস্ফোরণের পর তেহরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে, যা সাধারণত আকাশে থাকা শত্রুপক্ষের ড্রোন বা যেকোনো আক্রমণ প্রতিহত করার ইঙ্গিত দেয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ জানিয়েছে, শহীদ বাবায়ী এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন অন্তত দুটি এলাকা এবং পূর্ব উপকণ্ঠের গরমদারেহ এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। তেমনি হাফেজ ও জমহুরি স্ট্রিট সংলগ্ন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে।
পরিস্থিতি সম্পর্কে এখনো উভয় পক্ষ থেকে বিস্তৃত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা করছেন যে সাম্প্রতিক এই ঘটনার পরে পরিস্থিতি আরও জটিল ও উত্তপ্ত হতে পারে।