ব্যাংকিং খাতে ক্রেডিট কার্ড কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব করার লক্ষ্য নিয়ে নতুন গাইডলাইন জারি করা হয়েছে। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।
দৈনন্দিন জীবনে নগদ বহনের বিকল্প হিসেবে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার বেড়েছে। কার্ডের ব্যবহার ও সেবার পরিধি সম্প্রসারিত হওয়ায় বিদ্যমান নীতিমালা হালনাগাদ করে একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন করা প্রয়োজন দেখা দেয়। সেই প্রেক্ষাপটেই নতুন নির্দেশনায় বিভিন্ন দিক বিস্তারিতভাবে সংযোজিত হয়েছে।
গাইডলাইনের মূল লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করা, ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা, দায়িত্বশীল ঋণপ্রদান উৎসাহিত করা এবং নগদবিহীন আর্থিক লেনদেনের জন্য একটি স্বচ্ছ পরিবেশ তৈরি করা। একই সঙ্গে গ্রাহক অভিযোগ ও বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নতুন নীতিতে ক্রেডিট কার্ডের কার্যক্রম সম্পর্কিত বিস্তৃত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—যেটার মধ্যে রয়েছে প্রযোজ্যতা ও সংজ্ঞা, কার্ডের প্রকারভেদ, গ্রাহকের যোগ্যতার মানদণ্ড, ক্রেডিট সীমা ও সুদের হার নির্ধারণ, কার্ড ইস্যু ও বিপণন কৌশল, বিলিং ও আদায় প্রক্রিয়া, গ্রাহকের তথ্য গোপনীয়তা ও অধিকার সুরক্ষা, বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা, পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
নির্দেশনায় ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বিতরণযোগ্য সর্বোচ্চ ঋণসীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে—আগে যেখানে সর্বোচ্চ ছিল ২৫ লাখ টাকা, তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪০ লাখ টাকা। অনিরাপদ (আনসিকিওরড) ঋণের সীমাও ১০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া গ্রাহকের অভিযোগ, অনিয়ম বা জালিয়াতি, কার্ডভিত্তিক লেনদেন পরিশোধে যে জটিলতা দেখা দিচ্ছিল এবং বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া—এসব পর্যবেক্ষণ করে গাইডলাইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও নির্দেশনা যোগ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে নতুন গাইডলাইন ক্রেডিট কার্ড সেবা প্রদানে স্বচ্ছতা বাড়িয়ে গ্রাহক আস্থা ও সেবা মান উন্নত করবে।