1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১:০৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ওমরাহ করতে যাচ্ছিলো; প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের মা-ছেলে-মেয়ে নিহত সংবাদিকতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন কে সাংবাদিক, কে নয় তা নির্ধারণে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী দু’এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগরকে কুপিয়ে হত্যা ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৮ বার পেছালো সাতক্ষীরা-৪ এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে চালকের ওপর হত্যাচেষ্টার মামলা সাগর–রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৮ বার পেছাল দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপি নজরুলের আসন শূন্য হবে: ইসি

তেলবাজার নিয়ন্ত্রণে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পথে ট্রাম্প প্রশাসন

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তৃতীয় সপ্তাহে জোরালো সংঘাত চলা অবস্থায় বিশ্ব তেলবাজারে অস্থিরতা তীব্রতর হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চালানোর মধ্যেই আন্তর্জাতিক কাঁচামাল বিক্রিতে বিশাল শঠতা দেখা দিয়েছে — ব্রেন্ট ক্রুড তেল ব্যারেল প্রতি প্রায় 112 ডলার পর্যন্ত উত্থান করেছে এবং গত তিন সপ্তাহে তেলের দাম প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ রাজপথের জ্বালানি মূল্যে প্রভাব পড়েছে; গড় পেট্রল মূল্য এখন প্রায় প্রতি গ্যালন 4 ডলারের কাউলে পৌঁছেছে।

হরমুজ প্রণালী জুড়ে জাহাজ চলাচল সীমিত হওয়ায় তেলের সরবরাহে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় হোয়াইট হাউসে এক আশ্চর্যসাজন প্রস্তাব উঠে এসেছে — প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উপদেষ্টারা গোপনে পরামর্শ দিয়েছেন সমুদ্রে ভাসমান প্রায় 140 মিলিয়ন ব্যারেল ইরানি তেল মিত্র দেশগুলোর কাছে বিক্রির অনুমতি দেওয়া হোক। মূলত ভাপার তেলের এই মজুতটি ভারত, জাপান বা ভিয়েতনাম-এর মতো দেশের কাছে বিক্রি করে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বাড়ানো হতে পারে।

আশ্চর্যের বিষয়, একসময় পর্যন্ত চীনও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ওই তেল কিনতে চেয়েছিল বলে জানা যায়। এখন যুক্তরাষ্ট্রই সেই নিষেধাজ্ঞা শিথিলের কথা ভাবছে — এটা রাজনৈতিকভাবে ট্রাম্পের জন্য বিব্রতকর যে, তিনি আগে ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের বিরোধিতা করেছিলেন, আর এখন তেলের কারণে সেই সীমাবদ্ধতাগুলো শিথিলের কথা ভাবছেন।

জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলছেন, এই পদক্ষেপ বাজারে সাময়িক শিথিলতা আনতে পারলেও টেকসই সমাধি নাও হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক জ্বালানি কর্মকর্তা নীলেশ নেরুরকার বলেন, ‘‘এটি তেলবাজারের ইতিহাসের অন্যতম বড় বিপর্যয়। বর্তমানে যে পরিমাণ ঘাটতি দেখা দিয়েছে, তা মোকাবিলা করার মতো পর্যাপ্ত মজুত বা বিকল্প পথ আমরা হাতে পাইনি।’’

ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট দাবি করেছেন যে, এই তেলের অর্থ ইরান সরাসরি ব্যবহার করতে পারবে না এবং ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ বজায় রাখার নীতি অব্যাহত থাকবে। তথাপি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, 140 মিলিয়ন ব্যারেল তেলটি বিশ্ব বাজারের মাত্র প্রায় এক থেকে দেড় দিনের চাহিদার সমান — সুতরাং মজুত খোলার এই পদক্ষেপ তেলের দাম কমাতে দীর্ঘমেয়াদি ও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে কি না তা সন্দেহজনক।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন যুদ্ধ চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে শেষ হতে পারে; কিন্তু জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যতক্ষণ হরমুজ প্রণালীতে সীমাবদ্ধতা রয়ে যাবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা চলবে, ততদিন তেলের সংকট কেবল থাকবে বা বাড়তেই পারে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স সামান্য আশ্বাস দিয়েছেন যে, নির্ধারিত সামরিক লক্ষ্যগুলো পূরণ হলে তেলের মূল্য আগের চেয়েও নীচে নামতে পারে — তবে সেই লক্ষ্য কবে ও কীভাবে অর্জিত হবে, সেটির তারিখ বা বিস্তারিত এখনও স্পষ্ট নয়।

সব মিলিয়ে, রণক্ষেত্রের তীব্রতা ছয়েই নয়, তেলের অস্থিরতাও এখন হোয়াইট হাউসের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। (তথ্যসূত্র: সিএনএন)

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo