1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন সাময়িক বরখাস্ত তিস্তা বিপৎসীমার কাছাকাছি: চার জেলায় পানিবন্দি ৬ হাজার পরিবার আগামী পাঁচ দিনে দেশজুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা বিআইডব্লিউটিএ পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটপ্রহারে আহত রাফি মারা গেলেন মালয়েশিয়া সফর শেষ করে চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুজব ঠেকাতে পিআইডির ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রম অব্যাহত: তথ্যমন্ত্রী কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটপ্রহর; সাজিদ চৌধুরী রাফি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ দুদক কমিশনার নিয়োগের জন্য পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটের আঘাতে রাফির মৃত্যু

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় তেলদাম দুই বছরে সর্বোচ্চ, বিশ্ব অর্থনীতির সতর্কতা

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের দাম গত দুই বছরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে এসেছে। কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী ও কাতার এনার্জির প্রধান নির্বাহী সাদ আল-কাবি সতর্ক করে বলেছেন, উপসাগরীয় তেল ও গ্যাস রফতানিকারক দেশগুলো আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উৎপাদন বন্ধ করে দিতে পারে—যা বিশ্ববাজারে চরম ঝুঁকি তৈরি করবে।

কাবি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে ধসিয়ে দিতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে গত শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম একযোগে ৯ শতাংশের বেশি বাড়ে এবং প্রতি ব্যারেল ৯৩ ডলারের উপর উঠে যায়, যা ২০২৩ সালের শরৎকাল পর সর্বোচ্চ মূল্য।

কাতার এনার্জি জানিয়েছে, তাদের একটি এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্র সামরিক হামলার কারণে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে উৎপাদন স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে। কাবি বলেন, যুদ্ধ несколько সপ্তাহ স্থায়ী হলে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৫০ ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা আছে।

জ্বালানি বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি এই মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহের অনিশ্চয়তা বজায় থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় তা তীব্রভাবে পড়বে—পরিবহন খরচ বাড়বে, হিটিং ও খাদ্যপণ্যের দাম চড়া হবে এবং আমদানিকৃত পণ্যের মূল্যও অনেকটাই উপরে উঠবে। কলকারখানায় উৎপাদন কমলে সরবরাহ শৃঙ্খলে সংকট আরও গভীর হবে এবং সামষ্টিক জিডিপি বৃদ্ধিও থেমে যেতে পারে।

বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত সপ্তাহে ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর সেই সংকীর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধের মতো হয়ে যাওয়ায় চীন, ভারত ও জাপানসহ বড় ভোক্তা দেশগুলো কাঁচা তেল সরবরাহে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।

রাইস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষক হোর্হে লিওন এই পরিস্থিতিকে ‘বাস্তব ঝুঁকি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, আমরা এমন একoint সময়ে দাঁড়িয়ে আছি—এটি কি একটি সাময়িক ঢেউ নাকি একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সূচনা, তা স্পষ্ট নয়। সরবরাহ যদি দুই সপ্তাহের বেশি স্থবির থাকে, তাহলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়বে।

যুক্তরাজ্যের বাজার তদারকি সংস্থা সিএমএ ও জ্বালানি নিয়ন্ত্রক অফিস অফজেম পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে; ইতোমধ্যেই সেখানে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকরা মনে করান যে, যদিও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছে কয়েক সপ্তাহের মজুদ রয়েছে, মজুদ ফুরিয়ে গেলে এবং উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ববাজার সামলানো কঠিন হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারগুলো জরুরি তেল মজুত বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে—যা আগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় দেখা গিয়েছিল।

সংক্ষেপে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কেবল ঐ অঞ্চলেরই নয়, সমগ্র বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এখনই বড় সতর্ক সংকেত হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি কেমন দিকে মোড় নেবে—তা আগামী কয়েক দিনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার উপর নির্ভর করবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo