1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
নাসির ও তামিমার মামলার রায় ঘোষণার দিন—১০ জুন চীন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায় জুনের মধ্যেই মাঠ থেকে সব সেনা প্রত্যাহার, ব্যারাকেই ফিরবে সদস্যরা নাসির-তামিমা মামলার রায় ঘোষণা ১০ জুন সরকারি বিভাগের ধীরগতি বিনিয়োগে প্রধান প্রতিবন্ধকতা: মির্জা ফখরুল মদনে শিশুধর্ষণ ও ন্যূনতম অন্তঃসত্ত্বা অভিযোগ: শিক্ষকে গৌরিপুর থেকে গ্রেপ্তার গরুর হাটে চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না: প্রতিমন্ত্রীর কড়া বার্তা এপ্রিল মাসে সড়ক, নৌ ও রেল দুর্ঘটনায় ৪৩৪ জনের মৃত্যু সেনাপ্রধানের মতে, দেশের ইতিহাসে এত সুন্দর নির্বাচন আগে হয়নি এনসিপির নুসরাত তাবাসসুম শপথ নিলেন ত্রয়োদশ সংসদে সংসদ সদস্য হিসেবে

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা: তেলদাম দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ, বিশ্ব অর্থনীতি সতর্ক

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তি উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের দাম গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের নতুন সংকেত জাগিয়েছে। কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী সাদ আল-কাবি সতর্ক করে বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস রফতানিকারক দেশগুলো কয়েক দিনের মধ্যে উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হতে পারে—এমনটি ঘটলে বিশ্ববাজারে বড় ধাক্কার আশঙ্কা রয়েছে।

কাতার এনার্জির প্রধান নির্বাহী ও জ্বালানি মন্ত্রী সাদ আল-কাবি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ছয়-পাঁচের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ৯৩ ডলার ছাড়িয়েছে, যা ২০২৩ সালের শরতের পর সর্বোচ্চ মান বলে গণ্য করা হচ্ছে।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম এইভাবে বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের পকেটের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। পরিবহন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি হিটিং ও বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যাবে, এতে খাদ্য ও আমদানিকৃত কাঁচামালের দামও তীব্রভাবে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কাতার এনার্জি জানিয়েছে, তাদের এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে সামরিক হামলার কারণে কিছু উৎপাদন স্থগিত রাখতে হয়েছে। কাবি আশঙ্কা করেন, যদি যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হয় তবে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৫০ ডলারের কাছাকাছি উঠতে পারে।

কাবির বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘস্থায়ী সংকট বিশ্বজুড়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধীর করে দেবে এবং কল-কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হওয়ার ফলে নির্দিষ্ট পণ্যের তীব্র ঘাটতি দেখা দেবে।

বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। গত সপ্তাহে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল প্রতিদ্বন্দ্বিতার জেরে এই সংকীর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল ন্যূনতমে আসায় চীন, ভারত ও জাপানের মতো বড় অর্থনীতিগুলোকে সরবরাহ বিপর্যয়ের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

রাইস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষক হোর্হে লিওন এই পরিস্থিতিকে ‘বাস্তব ঝুঁকি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি যেখানে বোঝা যাচ্ছে না এটি সাময়িক বিন্দুমাত্র উত্তেজনা নাকি বৃহৎ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সূচনা। যদি সরবরাহ ব্যবস্থা দুই সপ্তাহের বেশি বন্ধ থাকে, তবে বিশ্বসমষ্টিগত অর্থনীতিতে এর মারাত্মক প্রভাব পড়বে।

যুক্তরাজ্যের বাজার তদারকি সংস্থা সিএমএ এবং জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফজেম পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ইতোমধ্যে ওই দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম গত ১৬ মাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যদিও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছাকাছি কয়েক সপ্তাহের তেল মজুদ রয়েছে, তবুও মজুদ ফুরিয়ে গেলে আর পুরোপুরি উৎপাদন চালু না হলে বিশ্ববাজারের চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়বে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেশ কিছু দেশ জরুরি তেল মজুদ বাজারে ছাড়ার উদ্যোগ নিতে পারে—করণীয় যে কৌশল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ও ব্যবহৃত হয়েছিল।

এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক সরকার, নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়িক সংস্থাগুলো উভয়ই সতর্ক অবস্থায়—অর্থনৈতিক ক্ষতি সীমিত রাখতে রাজনীতি ও কূটনীতিক পর্যায়ে দ্রুত সমাধান না হলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্তর ও সরবরাহ নিরাপত্তার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo