1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০৬:২৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
আগামী পাঁচ দিনে দেশজুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা বিআইডব্লিউটিএ পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটপ্রহারে আহত রাফি মারা গেলেন মালয়েশিয়া সফর শেষ করে চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুজব ঠেকাতে পিআইডির ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রম অব্যাহত: তথ্যমন্ত্রী কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটপ্রহর; সাজিদ চৌধুরী রাফি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ দুদক কমিশনার নিয়োগের জন্য পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটের আঘাতে রাফির মৃত্যু গেজেটে ঘোষণা: এক বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ (২৫ মে–২৫ মে) জিয়াউল আহসানের দেহরক্ষী ইমরুল কায়েসের দাবি: ১৫০–২০০ জনকে হত্যা করতে দেখা

খুলনা অঞ্চলে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দামের әсерে পাটকলের উৎপাদন বন্ধ

  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

খুলনা অঞ্চলের ইজারা দেওয়া ও বেসরকারি পাটকলগুলোতে কাঁচা পাটের মূল্যবৃদ্ধির কারণে উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। দাম বাড়ার ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বেশ কিছু মিল নিজেদের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে, যা হাজার হাজার শ্রমিকের জন্য কাজের অশান্তির মুখে ফেলে দিয়েছে। পাশাপাশি মিলগুলোর আর্থিক ক্ষতি ও বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

দৌলতপুর এলাকার দৌলতপুর জুট মিলসহ প্রায় এক ডজন মিলের প্রায় দেড় মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকরা প্রতিদিন মিলের সামনে এসে কাজের জন্য অপেক্ষা করছে, কিন্তু কাঁচা পাটের সংকটের কারণে তারা কিছুই করতে পারছেন না। শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্কিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যদি এ অবস্থা চলতেই থাকে, তবে তারা স্থায়ীভাবে কাজ হারানোর আশঙ্কায় আছেন।

দৌলতপুর জুট মিলের শ্রমিক আসাদুজ্জামান বলেন, গত দেড় মাস ধরে আমি এবং অন্য সহকর্মীরা মিল বন্ধ অবস্থায় আছি। কাঁচা পাট না থাকায় মালিকেরা মিল চালাতে পারছেন না। যদি এভাবে চলতে থাকলে, হয়তো তারা আমাদের কাজ থেকে ছাঁটাই করবে, আর আমাদের জন্য সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাবে। নতুন কোনও কাজের সন্ধানও পাবো না।

আরেক শ্রমিক হাবিবুল্লাহ বলেন, আমাদের দিয়ে কাজ করিয়ে মালিকরা দিনে দুই টাকা উপার্জন করেন, আর আমাদের দিতে হয় এক টাকা। গত তিন বছর ধরে এই মিল ভালোই চলছিল, কিন্তু গত দেড় মাস ধরে কাজ বন্ধ। মালিকরা বলছেন, যদি না বাঁচে, তবে আমাদের শ্রমিক হিসেবে রাখবেন না। কাঁচা পাটের এই সংকট সমাধানে সরকারের যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

মিল মালিকরা জানান, মৌসুমের শুরুতে কাঁচা পাটের দাম ছিল প্রতি মণ প্রায় ৩২০০ টাকা, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫২০০ টাকায়। দাম দ্বিগুণের কাছাকাছি বেড়ে গেলেও বাজারে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়নি, ফলে উৎপাদন খরচ বেড়েই চলেছে, কিন্তু লাভের রেট কমে গেছে। এর ফলে উদ্যোক্তারা উৎপাদন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

দৌলতপুর জুট মিলের উৎপাদন কর্মকর্তা মোঃ ইসরাফিল মালিকের বক্তব্যে জানা যায়, বাড়তি দামে পাট কিনে মিল চালানো এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আগে যেখানে প্রতি মণ ৩২০০ টাকা দরে পাট কিনে এক বস্তা ৮০ টাকা বিক্রি করতাম, এখন পাটের দাম দাঁড়িয়েছে ৫২০০ টাকা। বস্তা তৈরির খরচ ১২০ টাকার বেশি, অথচ বিক্রির মূল্য ততটা নয়। ফলে মিল কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রেখেছেন।

মালিকরা অভিযোগ করেছেন, কিছু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে পাট মজুত রাখছে, যার কারণে বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে এবং দাম বাড়ছে। বাংলাদেশ জুট মিল অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মোঃ জহির উদ্দিন বলেন, নতুন সরকারের কাছে বাজার নিয়ন্ত্রণ, ভর্তুকি ও তদারকি বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। কিছু অসাধু মহল অবৈধভাবে পাট মজুত করছে, যার ফলে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ব্যাংক ঋণ পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে, যা এই খাতে বড় সমস্যার সৃষ্টি করছে।

পাট অধিদফতর জানিয়েছে, তারা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন। খুলনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরজিত সরকার জানান, একজন আড়তদার এক মাসে সর্বোচ্চ ৫০০ মণ পাট মজুত করতে পারেন। কেউ যদি এই নিয়ম অমান্য করে বেশি মজুত রাখে, তা খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।মূলত, বাজারে দাম সমন্বয় রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

খুলনা অঞ্চলে ইজারাকৃত ও বেসরকারি মিল মিলিয়ে মোট ২০টি পাটকল রয়েছে। এই পাটকলগুলো মাসে প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন পণ্য উৎপাদন করে, যার বড় অংশ বিদেশে রপ্তানি হয়। তবে এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে উৎপাদন ও রপ্তানির ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo