1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
নাসির ও তামিমার মামলার রায় ঘোষণার দিন—১০ জুন চীন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায় জুনের মধ্যেই মাঠ থেকে সব সেনা প্রত্যাহার, ব্যারাকেই ফিরবে সদস্যরা নাসির-তামিমা মামলার রায় ঘোষণা ১০ জুন সরকারি বিভাগের ধীরগতি বিনিয়োগে প্রধান প্রতিবন্ধকতা: মির্জা ফখরুল মদনে শিশুধর্ষণ ও ন্যূনতম অন্তঃসত্ত্বা অভিযোগ: শিক্ষকে গৌরিপুর থেকে গ্রেপ্তার গরুর হাটে চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না: প্রতিমন্ত্রীর কড়া বার্তা এপ্রিল মাসে সড়ক, নৌ ও রেল দুর্ঘটনায় ৪৩৪ জনের মৃত্যু সেনাপ্রধানের মতে, দেশের ইতিহাসে এত সুন্দর নির্বাচন আগে হয়নি এনসিপির নুসরাত তাবাসসুম শপথ নিলেন ত্রয়োদশ সংসদে সংসদ সদস্য হিসেবে

নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর উদ্যোগ গ্রহণ করবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

নতুন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, দেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা পেছানোর জন্য নতুন সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তিনি বললেন, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ডেফার করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রথম দিনের অফিসের শুরুতেই সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার চাইছে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনকে ডেফার করা, এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিষয়টি এখন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু হয়েছে এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।

বাণিজ্য বিষয়ক সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের দাবি স্মরণ করে তিনি জানান, এলডিসি উত্তরণ পেছানোর বিষয়টিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রথম সপ্তাহে এই বিষয়ে একটি চিঠি দিতেও হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলেও, আজ থেকেই এই উদ্যোগের কাজ শুরু করেছে সরকার।

রপ্তানি ক্ষুদ্রতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো সংকুচিত। দেশের মোট রপ্তানি এর প্রায় ৮৫ শতাংশ নির্ভর করে একক একটি পণ্যের ওপর। এমন পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে, নতুন বাজার খুঁজে বের করতে হবে এবং নতুন পণ্য যুক্ত করতে হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট বেসরকারি খাতকেও কার্যকর সহযোগিতা দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

বিশ্ব বাণিজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের টি্যারিফ নীতিতে পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ একটি দরিদ্র দেশ হিসেবে খুব সীমিত সুযোগের মধ্যেই টিকে রয়েছে। তাঁর মূল্যায়নে, দেশের মার্জিন অব এরোর অনেক কম, ভুলের সুযোগ থাকলে তা খুবই সীমিত। ফলে, গত কয়েক মাসে দেখা মন্থর গতি থেকে দ্রুত উত্তরণের জন্য সরকার কৌশলী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

রমজানের বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেন, পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। রমজান মাস ও এর পরের সময়ের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং পাইপলাইনেও পর্যাপ্ত পণ্য আছে। ফলে, বাজার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে তিনি আশ্বাস দেন।

বিশেষ করে রমজান এলেই বাজারে সিন্ডিকেটের ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেন, তিনি শুধু বক্তৃতা করতে চান না, বরং কাজের মাধ্যমে ফল দেখাতে চান। তার ভাষায়, “আমি সাউন্ড বাইট দেব না, ইনশাআল্লাহ কাজ করে দেখাব।”

রমজানের শুরুতেบาง পণ্যের দাম বৃদ্ধি নিয়ে তিনি বলেন, মূলত এটি একচোট আপনিড়ির চাহিদার কারণে হয়। মানুষ সাধারণত পুরো মাসের বাজার একসঙ্গে কেনাকাটা করে, ফলে ভোগের মাত্রা বেড়ে যায় এবং এর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ে। তবে, এই দাম বৃদ্ধির স্থায়ী নয় বলে তিনি জানান।

বিদেশি ও দেশীয় বিনিয়োগ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগ আসেনা। একটি স্থিতিশীল পরিবেশ ছাড়া বিনিয়োগ সম্ভব নয়। বিনিয়োগকারীরা তখনই পদক্ষেপ নেন যখন তারা নিশ্চিত থাকেন তাদের পুঁজি ও শ্রমের বিনিময়ে ভাল ফল পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, দেশের বড় একটি শ্রমশক্তি রয়েছে, প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে যুক্ত হচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে বিনিয়োগে অবরুদ্ধ পরিস্থিতি থাকায় দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে। যদি এই পরিস্থিতি দ্রুত না কাটিয়ে ওঠা যায়, তবে কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে বড় ক্ষতি হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রমজান মাসের শুরুকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সরকারের জন্য এখন অন্যতম কাজ হচ্ছে রমজান সফলভাবে সামলানো। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সফল হওয়া একান্ত প্রয়োজন। এটা কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং দেশের স্বার্থের বিষয়। এজন্য তিনি গণমাধ্যমসহ সকল সংশ্লিষ্টের সহযোগিতা চেয়েছেন। ভুল হলে তা সমঝোতার মাধ্যমে ঠিক করারও অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo