1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
নাসির ও তামিমার মামলার রায় ঘোষণার দিন—১০ জুন চীন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায় জুনের মধ্যেই মাঠ থেকে সব সেনা প্রত্যাহার, ব্যারাকেই ফিরবে সদস্যরা নাসির-তামিমা মামলার রায় ঘোষণা ১০ জুন সরকারি বিভাগের ধীরগতি বিনিয়োগে প্রধান প্রতিবন্ধকতা: মির্জা ফখরুল মদনে শিশুধর্ষণ ও ন্যূনতম অন্তঃসত্ত্বা অভিযোগ: শিক্ষকে গৌরিপুর থেকে গ্রেপ্তার গরুর হাটে চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না: প্রতিমন্ত্রীর কড়া বার্তা এপ্রিল মাসে সড়ক, নৌ ও রেল দুর্ঘটনায় ৪৩৪ জনের মৃত্যু সেনাপ্রধানের মতে, দেশের ইতিহাসে এত সুন্দর নির্বাচন আগে হয়নি এনসিপির নুসরাত তাবাসসুম শপথ নিলেন ত্রয়োদশ সংসদে সংসদ সদস্য হিসেবে

ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬

ঢালিউডের স্বর্ণযুগের প্রখ্যাত নায়ক ও কোরিওগ্রাফার ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে সংগ্রাম করার পরে ৮২ বছর বয়সে আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান। ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন ইলিয়াস জাভেদ। পরবর্তীতে পাঞ্জাবে অবস্থান করার পর জীবনের পথে তিনি ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে আসেন।

জানা গেছে, জাভেদ দীর্ঘ দিন ক্যানসারে ভুগছিলেন এবং বিভিন্ন শারীরিক জটিলতাও ছিল। গত বছরের এপ্রিল মাসে একবার হাসপাতালে রক্ষণাবেক্ষণে ছিলেন। আজ সকালে তার শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি ঘটে এবং পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সংবাদমাধ্যমকে ইলিয়াস জাভেদের স্ত্রী ডলি চৌধুরী বলেন, ‘‘আজ সকালে তাঁর শারীরিক অবস্থা চরমভাবে খারাপ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে বাসাতেই চিকিৎসাসেবা চলছিল; হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক ও দুজন নার্স এসে কয়েকদিন ধরে দেখাশোনা করছিলেন। আজ সকালে নার্সরা জানান, তাঁর সারা শরীর ঠান্ডা। এরপর দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ডেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে চিকিৎসক মৃত্যু ঘোষণা করেন।’’

জাভেদের চলচ্চিত্রজীবন ছিল বহুমাত্রিক। ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ী জিন্দেগি’র মাধ্যমে নায়ক হিসেবে রুপালি পর্দায় অভিষেক ঘটে। কিন্তু প্রকৃত পরিচিতি মেলে ১৯৬৬ সালে ‘পায়েল’ ছবির মাধ্যমে, যেখানে তার সহঅভিনেত্রী ছিলেন শাবানা। পরিচালক মুস্তাফিজই পরবর্তীতে তাকে ‘জাভেদ’ নামে পরিচিত করেন।

নৃত্য ও অভিনয়ের যোগফলেই তিনি দর্শকদের মনে ‘ড্যান্সিং হিরো’ হিসেবে অমলিন এক স্থান করে নেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ১৯৮৪ সালে জনপ্রিয় নায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। আসল নাম ছিল রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস; কোরিওগ্রাফার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে পরে নায়ক হিসেবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন এবং শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

সত্তুর ও আশি দশকের দর্শকদের কাছে ইলিয়াস জাভেদ মানেই ছিল ঝাঁপিয়ে পড়ার মত নাচ এবং তড়িঘড়ি এক অ্যাকশন মিশ্রণ। তাঁর প্রয়াণ বাংলা চলচ্চিত্রের এক যুগের সমাপ্তি হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

জাভেদের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের তালিকায় রয়েছে — ‘মালেকা বানু’, ‘নিশান’, ‘পাপী শত্রু’, ‘রক্ত শপথ’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘কাজল রেখা’, ‘অনেক দিন আগে’, ‘আজও ভুলিনি’, ‘কঠোর’, ‘মা বাবা সন্তান’, ‘রাখাল রাজা’, ‘রসের বাইদানী’, ‘জীবন সঙ্গী’ ও ‘আবদুল্লাহ’।

দীর্ঘদিন চিহ্নিত অসুস্থতা ও নিভৃতে চিকিৎসা চলার পর বাংলা চলচ্চিত্রের এই গুণী শিল্পীর বিদায় শিল্পীসহ ভক্ত-দর্শক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo