1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৩৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ইসি অনলাইনে নয়, ম্যানুয়ালি ইস্যু করবে সাংবাদিক কার্ড নির্বাচন কমিশন: সরকারি কর্মকর্তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রচারণা চালাতে পারবেন না দুদক অনুমোদন: প্রিমিয়ার ব্যাংকের ইকবাল ও সালাম মুর্শেদীসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা নির্বাচনে নেই যারা, তাদেরকেই গণ্ডগোলের কথা বলছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ঢাকা–করাচি নন-স্টপ ফ্লাইট কাল থেকে শুরু ড. মুহাম্মদ ইউনূস না আসায় ৩৩২ নম্বর এআইকে পাঠালেন প্রধান উপদেষ্টা ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা স্থগিতের জন্য রিট দাখিল অ্যামনেস্টির মহাসচিবের খোলা চিঠি প্রধান উপদেষ্টার কাছে ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট শুরু হচ্ছে কাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেবে না: রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনস

ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদের মৃত্যু

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬

ঢালিউডের সোনালি দিনের জনপ্রিয় নায়ক ও কালজয়ী নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘ সময় ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই শেষে ৮২ বছর বয়সে আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জাভেদ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এবং গোপনে চিকিৎসা চলছিল। গত বছরের এপ্রিলেও তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

জাভেদের স্ত্রী ডলি চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে জানান, আজ সকালেই তাঁর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। কয়েকদিন ধরে বাড়িতেই ডাক্তার ও দুই নার্স এসে তার পরিচর্যা করছিলেন। সকালে নার্সরা এসে দেখতে পান তাঁর সমস্ত শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে। পরে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ডেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ইলিয়াস জাভেদের জন্ম ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়রে। প্রথমে সপরিবারে পাঞ্জাবে চলে গেলেও পরবর্তীতে তিনি ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে এসেছেন এবং সেখানে তার বদলানো পরিচয়-মুখে গড়ে ওঠে।

নাটকীয় ক্যারিয়ারের শুরু হয় নৃত্যপরিচালনা দিয়ে। নায়ক হিসেবে রুপালি পর্দায় অভিষেক ঘটে ১৯৬৪ সালের উর্দু সিনেমা ‘নয়ী জিন্দেগি’ থেকে। তবে তার ভাগ্যের ঘূর্ণি বদলে যায় ১৯৬৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পায়েল’ ছবির মাধ্যমে; এই ছবিতে তার সঙ্গে ছিলেন কিংবদন্তি নায়িকা শাবানা। পরিচালক মুস্তাফিজ তাঁকে ‘জাভেদ’ নামে খ্যাতি দেন।

পরবর্তীতে একের পর এক ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকের মনে ‘ড্যান্সিং হিরো’ নামে এক আলাদা স্থান করে নেন। ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৮৪ সালে তিনি বিয়ে করেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ডলি চৌধুরীকে। জাভেদের আসল নাম ছিল রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। জীবদ্দশায় তিনি শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

সত্তর ও আশির দশকের দর্শকদের কাছে জাভেদ মানেই ছিল ঝড়গ্রস্থ নাচ আর কঠোর একশন—এক ধরনের আকর্ষণীয় মিশ্রণ। তাঁর প্রয়াণ বাংলা চলচ্চিত্রের এক যুগের সমাপ্তি বলেই মনে করছেন অনেকে। দীর্ঘ দিন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে নিভৃতে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন এই গুণী শিল্পী।

জাভেদের অসংখ্য ছবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল: ‘মালেকা বানু’, ‘নিশান’, ‘পাপী শত্রু’, ‘রক্ত শপথ’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘কাজল রেখা’, ‘অনেক দিন আগে’, ‘আজও ভুলিনি’, ‘কঠোর’, ‘মা বাবা সন্তা্ন’, ‘রাখাল রাজা’, ‘রসের বাইদানী’, ‘জীবন সঙ্গী’ ও ‘আবদুল্লাহ’।

ইলিয়াস জাভেদের মৃত্যুতে ঢালিউড শিল্পী সমাজ ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি পর্দায় যা দিয়েছেন—উৎসবমুখর নাচ, আবেগঘন অভিনয় ও অনবদ্য উপস্থিতি—সেগুলো দীর্ঘদিন স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেই।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo