1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ওমরাহ করতে যাচ্ছিলো; প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের মা-ছেলে-মেয়ে নিহত সংবাদিকতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন কে সাংবাদিক, কে নয় তা নির্ধারণে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী দু’এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগরকে কুপিয়ে হত্যা ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৮ বার পেছালো সাতক্ষীরা-৪ এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে চালকের ওপর হত্যাচেষ্টার মামলা সাগর–রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৮ বার পেছাল দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপি নজরুলের আসন শূন্য হবে: ইসি

অ্যামনেস্টির মহাসচিবের খোলা চিঠি প্রধান উপদেষ্টার কাছে

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব আেগনেস কালামার্ড। এই চিঠিতে তিনি বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি, নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেছেন।

চিঠিটি ২৬ জানুয়ারি লেখা হয় এবং এটি সম্পূর্ণরূপে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। লেখক উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের আওয়ামী রাষ্ট্রক্ষমতা গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দাঁড়িয়ে, এই সময়টি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, সুশাসন এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন যে, অতীতে দীর্ঘসময় ধরে বিভিন্ন সরকার গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, অত্যাচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হ্রাস এবং সাংবাদিকসহ নাগরিক সমাজের ওপর নিপীড়নের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন চালিয়েছে। এসবের মাধ্যমে নাগরিক স্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

অ্যামনেস্টি আজকের বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় বলে মনে করে, যখন জাতীয় আস্থা পুনরুদ্ধার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার রক্ষার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। সংগঠনটি স্বীকৃতি দেয় যে, কিছু অগ্রগতি হয়েছে, যেমন গুম থেকে নিরাপত্তা, কিন্তু কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য সময় লাগবে এবং অর্জিত মানদণ্ড বাস্তবায়নে নানা বাধা রয়ে গেছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন দেশের জন্য একটি বিকল্পের দ্বারপ্রান্ত। এই নির্বাচন দেশের নতুন পথের সূচনা করতে পারে, যেখানে মানুষ এর অধিকার ও মর্যাদাকে সম্মাননা জানানো হবে এবং তাদের অধিকারের বিকাশ ঘটবে। যদিও বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তিগুলোর অংশ হয়ে থাকলেও, আইনী প্রক্রিয়া ও বাস্তব প্রয়োগে এখনো নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। বিশেষ করে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার এবং সংগঠনের স্বাধীনতা রক্ষায় আরও মনোযোগী হতে হবে। এসব অধিকার অযোগ্যভাবে হস্তক্ষেপ বা বিধিনিষেধ আরোপ হলে, নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা কমে যাবে।

অ্যামনেস্টি চায়, অন্তর্বর্তী সরকারতাড়াতাড়ি এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করবে, যেন অনলাইন ও অফলাইন, দুটো ক্ষেত্রেই মানুষের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত হয়। সংগঠনটি বিশেষ করে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, মানবাধিকার ও স্বাধীনতা পরিপন্থী নানা আইন অপব্যবহার বন্ধের জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানায়। বিভিন্ন আস্ফালন ও হামলার ঘটনা যেমন ২০২৫ সালে ঘটে, সেটিরও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অ্যামনেস্টি। এতে যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের উল্লেখ রয়েছে, যেখানে অনেক নিরীহ নাগরিকের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

সুতরাং, এই নির্বাচনের সময়কালে সরকারের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুতর। তাদের দায়িত্ব হলো, স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা, সাংবাদিক ও নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করা, বিরোধীদলের স্বচ্ছ অবস্থান নিশ্চিত করা এবং হামলার ঘটনার দ্রুত বিচার করা। এই সময়ে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার মান দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নের ভিত্তি রচনা করবে। অ্যামনেস্টি মনে করে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ উন্নয়নের জন্য এই সময়ের সিদ্ধান্তগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে, এমন নেতৃত্ব দেখানো যাতে দেশের সবাই স্বাধীনভাবে, নিরাপদে এবং ভয়হীনভাবে তাদের অধিকার ও দায়িত্ব পালন করতে পারে, এবং দেশের ভবিষ্যৎ গ democrতিতার পথে এগিয়ে যায়।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo