1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন সাময়িক বরখাস্ত তিস্তা বিপৎসীমার কাছাকাছি: চার জেলায় পানিবন্দি ৬ হাজার পরিবার আগামী পাঁচ দিনে দেশজুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা বিআইডব্লিউটিএ পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটপ্রহারে আহত রাফি মারা গেলেন মালয়েশিয়া সফর শেষ করে চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুজব ঠেকাতে পিআইডির ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রম অব্যাহত: তথ্যমন্ত্রী কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটপ্রহর; সাজিদ চৌধুরী রাফি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ দুদক কমিশনার নিয়োগের জন্য পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটের আঘাতে রাফির মৃত্যু

খুলনায় ৫০ বছরে সমুদ্রসদৃশ লবণাক্ততার আশঙ্কা, সুন্দরবন ও কৃষি ঝুঁকিতে

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬

চলমান তৃতীয় উপকূলীয় পানি সম্মেলনে পানি ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, আগামী ৫০ বছরের মধ্যে খুলনা শহরের পানির লবণাক্ততা সমুদ্রের পানির কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি উৎপাদনে বিপুল ক্ষতি হতে পারে।

রোববার খুলনার সিএসএস আভা সেন্টারে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে গবেষক, নীতিনির্ধারক, উন্নয়নকর্মী ও সাংবাদিকরা গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা আদানপ্রদান করেন। সম্মেলনের উদ্বোধনী প্লেনারি সেশনে বিশেষ অতিথি ড. আইনুন নিশাত এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন এবং লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে ঘটতে পারে এমন প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করেন।

ড. নিশাত উল্লেখ করেন, লবণাক্ততা বাড়লে সুন্দরবনে সুন্দরী গাছ কমে গিয়ে গরান গাছের আধিপত্য বাড়বে। এছাড়া লবণসহিষ্ণু কীটপতঙ্গসহ বিভিন্ন প্রজাতির ধারা পরিবর্তিত হবে, যা অঞ্চলটির জৈববৈচিত্র্যে বড় ধরনের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনবে। একই সঙ্গে প্রচলিত কৃষি ফসলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে — সম্ভাব্যভাবে অর্ধেকের কাছাকাছি নেমে আসার আশঙ্কাও রয়েছে।

তিনি বলেন, এই সংকট মোকাবিলায় দ্রুত উপকূল রক্ষা বাঁধ মেরামত করা এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পৃষ্ঠস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতেই হবে। পানির উৎসগুলোর সুরক্ষা না করলে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের মানুষকে টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

সম্মেলনের বিভিন্ন সেশনে ডিস্যালিনেশন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, নিরাপদ পানির প্রযুক্তি, পানি দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস ঝুঁকি, জিআইএসভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ, নগর পানি ব্যবস্থাপনা এবং নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর পানি সংকটের বাড়তি প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বক্তারা জানান, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপদ পানির সংকট ক্রমেই মানবিক ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিকল্প না থাকায় অনেক মানুষ লবণাক্ত পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক স্বাস্থ্যসমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

একই সঙ্গে সম্মেলনে পানি ন্যায়বিচারকে মৌলিক মানবাধিকারের অংশ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলা হয়, সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায়ে নীতিগত দুর্বলতা কাটিয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

তৃতীয় উপকূলীয় পানি সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয়-আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে উঠে এসেছে রাজনৈতিক সহযোগিতা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং স্থানীয় জ্ঞানকে একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে উপকূলীয় পানিসংকট মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তা।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo