1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৩৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ইসি অনলাইনে নয়, ম্যানুয়ালি ইস্যু করবে সাংবাদিক কার্ড নির্বাচন কমিশন: সরকারি কর্মকর্তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রচারণা চালাতে পারবেন না দুদক অনুমোদন: প্রিমিয়ার ব্যাংকের ইকবাল ও সালাম মুর্শেদীসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা নির্বাচনে নেই যারা, তাদেরকেই গণ্ডগোলের কথা বলছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ঢাকা–করাচি নন-স্টপ ফ্লাইট কাল থেকে শুরু ড. মুহাম্মদ ইউনূস না আসায় ৩৩২ নম্বর এআইকে পাঠালেন প্রধান উপদেষ্টা ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা স্থগিতের জন্য রিট দাখিল অ্যামনেস্টির মহাসচিবের খোলা চিঠি প্রধান উপদেষ্টার কাছে ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট শুরু হচ্ছে কাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেবে না: রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনস

ট্রাম্পের শুল্কের চেয়েও বিপজ্জনক হতে পারে চীনের বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬

২০২৬-এর কেবল দুই সপ্তাহ পার হতেই চীনের সাম্প্রতিক বাণিজ্য পরিসংখ্যান বিশ্ব অর্থনীতির মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। শুল্ক যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও ২০২৫ সালে চীনের বার্ষিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রেকর্ড করে ১.২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে—এখন পর্যন্ত ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

এই পরিসংখ্যান প্রকাশের পরই কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন কর্নেল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র ফেলো ঈশ্বর প্রসাদ। তিনি মনে করেন, মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্কের চেয়েও বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করছে চীনের এত বড় উদ্বৃত্ত।

প্রসাদের যুক্তি: চীনের সস্তা পণ্য শুধু উন্নত দেশগুলোর উৎপাদন খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলিতেও প্রতিযোগিতা কঠোর করে তুলছে। ফলে বিশ্ববাজারের নিয়ম-নীতিভিত্তিক বাণিজ্য ব্যবস্থা দুর্বল হতে পারে যখন একটি বৃহৎ অর্থনীতি অন্য দেশের ওপর নির্ভর করে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখে।

অন্যদিকে, গ্লোবাল টাইমসের সাবেক প্রধান সম্পাদক হু সিজিন উইবোতে বলছেন, এই উদ্বৃত্ত ‘ওয়াশিংটনের অভিজাত শ্রেণিকে আতঙ্কিত করেছে’। তার তর্ক—চীনের অর্থনীতি খুবই স্থিতিশীল এবং একটিভাবে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিশ্ববাজারে টিকে আছে; কোন বাণিজ্য যুদ্ধ দিয়ে একে দমন করা যাবে না। তিনি আরও যোগ করেন, চীন জোর করে কাউকে কেনাবেচায় বাধ্য করছে না; তাদের পণ্য মূলত সস্তা ও মানসম্মত হওয়ায় বাজার জয় করছে।

এই উদ্বৃত্তে কারন খুঁজতে গেলে দেখা যায়, এটা কোনো আকস্মিক ঘটনার ফল নয়—এটির পেছনে রপ্তানি প্রবাহ জোরালো এবং আমদানির প্রবৃদ্ধি দুর্বল থাকা মুখ্য। ২০২৫ সালে চীনের মোট আমদানির বার্ষিক বৃদ্ধি ছিল মাত্র ০.৫ শতাংশ, যেখানে রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৬.১ শতাংশ। ফলে উদ্বৃত্তের ব্যবধান আরও বড় হয়েছে।

আঞ্চলিকভাবে চীনের রপ্তানি গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২০ শতাংশ কমলেও আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, অ্যাসিয়ান দেশগুলো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে আফ্রিকার রপ্তানি বাড়েছে রেকর্ড ২৫.৮ শতাংশ। একই সঙ্গে ইউয়ানের দর কিছুটা দুর্বল হওয়ায় চীনা পণ্যের আন্তর্জাতিক মূল্য আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে।

অভ্যন্তরীণ চাহিদার ঘাটটিও যেন স্পষ্ট সংকেত দিয়েছে। ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ভোক্তা পণ্যের খুচরা বিক্রির প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে ধীর হয়েছে; নভেম্বরে তা নেমে আসে প্রায় ১.৩ শতাংশে—গত তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। আবাসন খাতে সংকট ও স্থিরসম্পদে বিনিয়োগের সংকোচনও আমদানি বাড়াতে বাধা দিয়েছে। কিছু বিশ্লেষক বলছেন, ১৯৯৮ সালে তথ্য সংরক্ষণ শুরু করার পর প্রথমবার যে বার্ষিক বিনিয়োগে পতন দেখা দিতে পারে, সেটাই ঘটনা প্রেক্ষাপটের অংশ।

এর ফল: ২০২৫ সালের সাতটি মাসেই চীনের মাসিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল—যা ২০২৪ সালে মাত্র একবার ঘটেছিল। এটি দেখায় শক্তিশালী রপ্তানি এবং মন্থর আমদানির মিলিত ফলাফল স্থায়ী হতে পারে।

বৈশ্বিক প্রভাব মিশ্র। একদিকে চীনের সাশ্রয়ী মূল্য ও প্রচুর জোগান বিশ্বব্যাপী সরবরাহ চেইন পুনর্গঠনে সহায়তা করছে এবং বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি চাপ কমাতে ভূমিকা রাখছে। অন্য দিকে, একপক্ষে অতিরিক্ত রপ্তানির ওপর নির্ভরশীলতা চীনের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে ভাঙনপ্রবণ করে তুলতে পারে—যা আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিরোধ বা শুল্কসামঞ্জস্য বাড়ানোর কারণ হতে পারে।

এই উদ্বেগগুলো মাথায় রেখে আন্তর্জাতিক স্তরে সতর্কতা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, চীন যদি একমাত্র রপ্তানিমুখী মডেলে অটল থাকে, তা বিশ্ব বাণিজ্যে উত্তেজনা বাড়াবে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেও নিয়েছেন, যদি চীন ইইউ-র সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্য ফেরাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ইউরোপ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হতে পারে।

চীনের নीतিনির্ধারকরাও এই ঝুঁকি বোঝে বলে ইঙ্গিত মিলছে। প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং গুয়াংডং পরিদর্শনে জোর দিয়ে বলেছেন—চীনকে আমদানির পরিধি বাড়াতে হবে এবং আমদানি-রপ্তানির মধ্যে সুষমতা ফেরাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও বলেছেন, সমন্বিত বাণিজ্য মেলা ও লক্ষ্যভিত্তিক ক্রয়ের মাধ্যমে আমদানি বাড়িয়ে ভারসাম্য তৈরি করা হবে।

কয়েকটি عملی সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে: ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ফটোভোলটাইক পণ্যের ওপর রপ্তানি ভ্যাট রিবেট বাদ দেওয়া হবে; ব্যাটারি পণ্যের রিবেট ধাপে ধাপে কমিয়ে পরে পুরোপুরি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া চীন ও ইইউ-র মধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ি সংক্রান্ত এক সমঝোতায় চীনা নির্মাতারা অ্যান্টি-সাবসিডি শুল্কের বদলে ন্যূনতম মূল্য বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এসব উদ্যোগ বাণিজ্য কম্বরসাম্য ঠিক করার লক্ষ্যে নেওয়া হচ্ছে।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন থেকেই যায়—চীনের বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কি দেশ ও বিশ্বকে আশীর্বাদ দেবেই, নাকি নতুন জটিলতা ও সংঘাতের সূত্রপাত হবে? উত্তর নির্ভর করছে: ১) রপ্তানি থেকে অর্জিত আয় কতটা দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে বিনিয়োগ ও ভোক্যপণ্য হিসেবে ফিরছে, ২) রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কীভাবে আমদানিকে ত্বরান্বিত করতে পারছে, এবং ৩) চীন কতটা দ্রুত বাজার খুলে ও ভারসাম্যপন্থী নীতিতে ফিরে আসে।

বাস্তবে উত্তর হয়তো একপাশে ঠোঁক দিয়ে বলা সহজ নয়—এটি একই সঙ্গে সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ। হু সিজিনের মতো যারা চীনের মুকাবিলায় আশাবাদী, তাদের যুক্তি আছে; আর প্রসাদের মতো যারা বৈশ্বিক নিয়ম-নীতিকে ভঙ্গের আশঙ্কা দেখান, তারাও সতর্ক হওয়ার কারণ দেখান। পাল্লা কীভাবে ভারসাম্য রাখে—তাই পড়বে ভবিষ্যতের বিচারের মেয়াদে। সূত্র: বিজনেস টাইমস।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo