1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ইসি অনলাইনে নয়, ম্যানুয়ালি ইস্যু করবে সাংবাদিক কার্ড নির্বাচন কমিশন: সরকারি কর্মকর্তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রচারণা চালাতে পারবেন না দুদক অনুমোদন: প্রিমিয়ার ব্যাংকের ইকবাল ও সালাম মুর্শেদীসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা নির্বাচনে নেই যারা, তাদেরকেই গণ্ডগোলের কথা বলছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ঢাকা–করাচি নন-স্টপ ফ্লাইট কাল থেকে শুরু ড. মুহাম্মদ ইউনূস না আসায় ৩৩২ নম্বর এআইকে পাঠালেন প্রধান উপদেষ্টা ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা স্থগিতের জন্য রিট দাখিল অ্যামনেস্টির মহাসচিবের খোলা চিঠি প্রধান উপদেষ্টার কাছে ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট শুরু হচ্ছে কাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেবে না: রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনস

ট্রাম্পের শুল্কের চেয়েও বড় ঝুঁকি: চীনের রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্ত

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬

২০২৬ সালের মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে চীনের সাম্প্রতিক বাণিজ্য পরিসংখ্যান বিশ্ব অর্থনীতির নজর কাড়ে। ২০২৫ সালে চলমান শুল্ক যুদ্ধের মধ্যেও চীনের রপ্তানি কমেনি—বরং বাড়েছে। ফলে বছর শেষে দেশটির বার্ষিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রেকর্ড ১.২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা বিশ্ব ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

এই তথ্য প্রকাশের পরই অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগ জাগে। কর্নেল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র ফেলো ঈশ্বর প্রসাদ নিউ ইয়র্ক টাইমসে লেখা নিবন্ধে সতর্ক করেছেন যে, মুক্ত বাণিজ্য রক্ষা করতে চীনের এত বড় উদ্বৃত্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কের চেয়েও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাঁর যুক্তি—চীনের সস্তা পণ্য শুধুমাত্র উন্নত দেশগুলোর উৎপাদনকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, নিম্ন এবং মধ্যআয়ের দেশগুলোর শিল্পগুলোও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছে না। এতে আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতিভিত্তিক বাণিজ্য ব্যবস্থার শৃঙ্খলাও ঝুঁকিতে পড়ে।

অন্যদিকে গ্লোবাল টাইমসের সাবেক প্রধান সম্পাদক হু সিজিন উইবোতে লিখেছেন, এই উদ্বৃত্ত ‘ওয়াশিংটনের অভিজাত শ্রেণিকে আতঙ্কিত করে তুলেছে’। তাঁর ভাষ্য, চীনের অর্থনীতি অত্যন্ত স্থিতিশীল এবং শুধুমাত্র বাণিজ্য-নীতির মাধ্যমেই একে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না; চীনের পণ্য রপ্তানি জোরে নয়, বাজারের চাহিদা ও প্রতিস্পর্ধার মাধ্যমে হচ্ছে।

বিশাল রেকর্ড উদ্বৃত্তের পিছনে কারণগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এক দিকে শক্তিশালী রপ্তানি প্রবাহ, অন্য দিকে আমদানির দুর্বল গতি। ২০২৫ সালে চীনের মোট আমদানির বৃদ্ধি মাত্র ০.৫ শতাংশ—যা রপ্তানির ৬.১ শতাংশ বৃদ্ধির তুলনায় অত্যন্ত কম। ফলে উদ্বৃত্তের ব্যবধান ক্রমশ বাড়ছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদার দুর্বলতা, ভোক্তা বিক্রির ধীরগতিঃ বিশেষ করে নভেম্বর মাসে খুচরা বিক্রির প্রবৃদ্ধি তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ১.৩ শতাংশে নেমে এসেছিল। একই সঙ্গে আবাসন খাতের সংকট ও বিনিয়োগের মন্থরতার কারণে আমদানির ওপর চাপ পড়েছে; ধারণা করা হচ্ছে ১৯৯৮ সালে তথ্য সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর প্রথমবার বার্ষিক বিনিয়োগে পতন দেখা দিতে পারে।

আঞ্চলিক বাজার পরিবর্তনও দেখা যায়—যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি শুল্কের কারণে ২০ শতাংশ কমলেও আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, আষিয়ান ও ইইউ-র বাজারে রপ্তানি বেড়েছে। আফ্রিকায় রপ্তানি রেকর্ড ২৫.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউয়েনের বহুমাসিক মুদ্রাস্ফীতি কমে যাওয়া এবং মুদ্রানীতির ফলে চীনা পণ্যের আন্তর্জাতিক মূল্যে প্রতিযোগিতামূলকতা বাড়ায় এই প্রবৃদ্ধি সুসংহত হয়েছে। ফলত ২০২৫ সালের সাতটি মাসে চীনের মাসিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল—যা পূর্বের বছরের মাত্র একবারের তুলনায় অনেক বেশি।

এই পুরো চিত্রটি দ্ব্যর্থহীনভাবে ইঙ্গিত করে যে—চীনের রপ্তানি-নির্ভরতা গভীর এবং তা দীর্ঘমেয়াদে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতা বৃদ্ধি করতে পারে। যদি বৈশ্বিক চাহিদা খারাপ হয়ে যায়, চীন একটি অনাকাঙ্ক্ষিত চতুর্ভুজে আটকে যেতে পারে: শক্তিশালী রপ্তানি থাকলেও দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং বিনিয়োগ। ফলে বাণিজ্য অংশীদাররাও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেয়ার প্ররোচনা পেতে পারে—শুল্ক, অ্যান্টি-সাবসিডি বা অন্যান্য বিধিনিষেধের আভাস বাড়তে পারে।

আন্তর্জাতিকভাবে সতর্কবার্তাও এসেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেছেন, যদি চীন একঘেয়েমি রপ্তানিমুখী প্রবৃদ্ধি মডেলে অনড় থাকে, তবে তা বিশ্ব বাণিজ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সতর্ক করে বলেছেন, বেইজিং যদি ইইউ’র সঙ্গে বাণিজ্যিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়, তবে ইইউ চীনা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হতে পারে।

চীনের অভ্যন্তরে নীতিনির্ধারকরা বিষয়টিকে লক্ষ করেছেন। গুয়াংডং পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং জানিয়েছেন, আমদানির পরিধি বাড়ানো এবং আমদানি-রপ্তানির মধ্যে সুষমতা রাখাই এখন সরকারী অগ্রাধিকার। বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও বলেছেন, সমন্বিত বাণিজ্য মেলা ও লক্ষ্যভিত্তিক ক্রয়ের মাধ্যমে আমদানির দ্রুত বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।

একই সঙ্গে বেইজিংয়ের কিছু বাস্তব পদক্ষেপও দেখা যাচ্ছে। চলতি মাসে ঘোষণা করা হয়েছে, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ফটোভোলটাইক পণ্যের ওপর রপ্তানি ভ্যাট রিবেট (কর ফেরত) বাতিল করা হবে; ব্যাটারি পণ্যের ক্ষেত্রে রিবেট ধীরে ধীরে কমিয়ে আগামী বছরে পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এছাড়া চীন ও ইইউয়ের মধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ি নিয়ে এক সমঝোতা হয়েছে—চীনা গাড়ি নির্মাতারা এখন অ্যান্টি-সাবসিডি শুল্কের বদলে ন্যূনতম মূল্য বজায় রাখার দায়িত্ব নিয়ে বাজার প্রবেশ করতে পারবে। এসব পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের উদ্বেগ কমানোর চেষ্টাও বলা যায়।

শেষ কথা: চীনের এই বৃহৎ বাণিজ্য উদ্বৃত্ত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একই সঙ্গে আশীর্বাদ এবং উদ্বেগ উভয়ই। চীনের উৎপাদনশক্তি ও সাশ্রয়ী পণ্যের সরবরাহ বিশ্বের মূল্যচাদরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে; কিন্তু অতিরিক্ত রপ্তানি-নির্ভরতা এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদার দুর্বলতা যদি টেকসইভাবে সমাধান না করা যায়, তবে তা ভবিষ্যতে নীতিগত উত্তেজনা ও বাণিজ্যিক প্রতিরোধের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। যে প্রশ্নগুলো নির্ধারণ করবে উত্তরটি—রপ্তানি আয় কি অভ্যন্তরীণ বাজারে ফিরছে, রপ্তানির আয় আমদানিকে ত্বরান্বিত করতে পারছে কি না, এবং বাজারগুলি কতটা আরও উন্মুক্ত হচ্ছে।

সূত্র: বিজনেস টাইমস।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo