1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৫:২১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
নাসির ও তামিমার মামলার রায় ঘোষণার দিন—১০ জুন চীন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায় জুনের মধ্যেই মাঠ থেকে সব সেনা প্রত্যাহার, ব্যারাকেই ফিরবে সদস্যরা নাসির-তামিমা মামলার রায় ঘোষণা ১০ জুন সরকারি বিভাগের ধীরগতি বিনিয়োগে প্রধান প্রতিবন্ধকতা: মির্জা ফখরুল মদনে শিশুধর্ষণ ও ন্যূনতম অন্তঃসত্ত্বা অভিযোগ: শিক্ষকে গৌরিপুর থেকে গ্রেপ্তার গরুর হাটে চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না: প্রতিমন্ত্রীর কড়া বার্তা এপ্রিল মাসে সড়ক, নৌ ও রেল দুর্ঘটনায় ৪৩৪ জনের মৃত্যু সেনাপ্রধানের মতে, দেশের ইতিহাসে এত সুন্দর নির্বাচন আগে হয়নি এনসিপির নুসরাত তাবাসসুম শপথ নিলেন ত্রয়োদশ সংসদে সংসদ সদস্য হিসেবে

ইউরোপীয় ইউনিয়ন স্থগিত করল ভারতের অধিকাংশ পণ্যের জিএসপি সুবিধা

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ভারতের তৈরি পোশাক, বস্ত্র, প্লাস্টিকসহ বেশির ভাগ পণ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা বা জেনারেলাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্সেস (জিএসপি) স্থগিত করেছে। এই সিদ্ধান্ত ১ জানুয়ারি থেকেই কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে ইন্দোনেশিয়া ও কেনিয়ার কিছু পণ্যের জিএসপি সুবিধাও স্থগিত করা হয়েছে।

ইইউর অফিসিয়াল জার্নালে প্রকাশিত এক বিধিমালা অনুযায়ী, এই সুবিধা স্থগিতকরণ ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরে পর্যন্ত প্রভাবী থাকবে। এর আগে, ইউরোপীয় কমিশন (ইসি) এই নিয়ম ২৫ সেপ্টেম্বর জারি করে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ভারতের রপ্তানিকারকদের জন্য এই পরিবর্তন বড় ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসছে। গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (জিটিআরআই) জানায়, জিএসপি স্থগিত হওয়ায় ভারতের থেকে আমদানি করা প্রায় ৮৭ শতাংশ পণ্যে ইইউর শুল্ক আরও বাড়বে। কেবল ১৩ শতাংশ পণ্যে এই সুবিধা থাকবে, যার মধ্যে রয়েছে কৃষি ও চামড়াজাত পণ্য।

জিএসপি মূলত উন্নত দেশগুলোর দ্বারা উন্নয়নশীল আর স্বল্পোন্নত দেশের পণ্যগুলোর ওপর শুল্ক কমানোর বা মওকুফের একটি সুবিধা। এর মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশের পণ্যকে বাজারে প্রবেশের জন্য সুবিধা পাওয়া যায়, যার ফলে রপ্তানি বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতির উন্নয়ন হয়।

উদাহরণস্বরূপ, সাধারণত কোনো তৈরি পোশাকের শুল্ক হার ১২ শতাংশ হলে, জিএসপি থাকলে তা ৯.৬ শতাংশ হতো। কিন্তু এখন জিএসপি স্থগিত হওয়ায় সেই পণ্যটিতে পুরো ১২ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে।

ইইউ ভারত থেকে বিভিন্ন বড় শিল্প খাতের পণ্যে জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে খনিজ, রাসায়নিক, প্লাস্টিক, রাবার, বস্ত্র ও পোশাক, পাথর ও সিরামিক, মূল্যবান ধাতু, লোহা-এস্পাত, মৌলিক ধাতু, ইলেকট্রনিক্স, যন্ত্রপাতি ও পরিবহন সরঞ্জাম।

২০১৩ এবং ২০২৩ সালে ইইউ ভারতের জিএসপি সুবিধা আংশিকভাবে কমিয়েছিল। এবার, এই সুবিধা পুরোপুরি তিন বছরের জন্য বাতিল করা হলো।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও জিএসপি স্থগিত হওয়ার কারণে স্বল্প মেয়াদে রপ্তানিকারকদের জন্য বড় বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে। এর পাশাপাশি, ইইউর কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম (সিবিএএম) কার্যকর হচ্ছে, যা আরেকটি চাপ সৃষ্টি করবে।

গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) ভারতের সঙ্গে ইইউর বাণিজ্য ছিল ১৩৬.৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ভারতের রপ্তানি ৭৫.৮৫ বিলিয়ন এবং আমদানি ৬০.৬৮ বিলিয়ন ডলার। ভারতের মোট রপ্তানি ভাগের প্রায় ১৭ শতাংশ পণ্যই এই বাজারে যায়।

ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনসের (এফআইইও) মহাপরিচালক অজয় সাহাই বলেন, “ইইউ ভারতের ৮৭ শতাংশ রপ্তানিপণ্যে জিএসপি প্রত্যাহার করেছে। ফলে অধিকাংশ পণ্যে এখন পুরো এমএফএন শুল্ক দিতে হবে। এর ফলে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মতো দেশের সঙ্গে ভারতের প্রতিযোগিতার শক্তি কমবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo