1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০৫:১২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটপ্রহারে আহত রাফি মারা গেলেন মালয়েশিয়া সফর শেষ করে চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুজব ঠেকাতে পিআইডির ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রম অব্যাহত: তথ্যমন্ত্রী কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটপ্রহর; সাজিদ চৌধুরী রাফি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ দুদক কমিশনার নিয়োগের জন্য পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটের আঘাতে রাফির মৃত্যু গেজেটে ঘোষণা: এক বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ (২৫ মে–২৫ মে) জিয়াউল আহসানের দেহরক্ষী ইমরুল কায়েসের দাবি: ১৫০–২০০ জনকে হত্যা করতে দেখা ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ: বহিষ্কৃত শিবির নেতা জিসান ২ দিনের রিমান্ডে বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যা: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড

ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তে অনড় বাংলাদেশ: যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা

  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২৬

গত কয়েক সপ্তাহের নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহের পর বাংলাদেশ এখন দুটি সম্ভাব্য পথের মুখোমুখি। আইসিসি তাদেরকে বলেছে, বা ভারতে গিয়ে খেলতে হবে বা আবারও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এই পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশ এখনো ভারতের পরিবর্তে অন্য কোথাও খেলনোর বিকল্প খুঁজে পাওয়ার জন্য প্রস্তুত। তবে তারা আশা ছাড়ছে না; ক্রীড়া ও বোর্ডের কর্মকর্তারা এখনো অন্য কোনও ভেন্যুতে খেলার সুযোগ খুঁজতে আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিশ্বকাপের স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের নিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও বিসিবির কর্মকর্তারা। পরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে, উপদেষ্টা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার সিদ্ধান্ত বদলানোর কোন সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে মোস্তাফিজুর রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এরপর বাংলাদেশের সরকার মনে করছে, তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি এখনো কমে যায়নি। এক মাসের মধ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হবে—এমন কোনো আশ্বাসও আইসিসি দিতে পারেনি। তাই এই পরিস্থিতিতে তারা ভারতের পরিবর্তে অন্য ভেন্যু খুঁজে বের করতে উদ্যোগী থাকবেন।

উপদেষ্টা আরও জানান, তারা আইসিসির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ চালিয়ে যাবেন যাতে বিকল্প ভেন্যু নির্ধারণে সাহায্য করে। তবে, ক্রিকেটারদের সঙ্গে হওয়া বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে সে বিষয়ে কিছু জানাতে চাননি; বললেন, এটিই তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

নিজের মনোভাব ব্যক্ত করে উপদেষ্টা বলেন, আমি নিজেও একজন অতি বড় ক্রিকেট ভক্ত। আমার স্বপ্ন ছিল, বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে। কারণ, আমাদের ক্রিকেটাররা কঠোর পরিশ্রম করে এই পর্যায়ে এসেছেন। কিন্তু নিরাপত্তা ঝুঁকি এখানো অপরিবর্তিত থাকায়, সেটা কোনভাবেই পরিবর্তন হচ্ছে না। আমি মনে করি, ঠিক যেখানে মোস্তাফিজের নিরাপত্তার বিষয়টিতে আপত্তি করা হয়েছে, সেখানে অন্য খেলোয়াড়, সাংবাদিক বা দর্শকদের নিরাপত্তাও তেমন নিশ্চয়তা পাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, আইসিসি এই বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট উদ্যোগ বা নিশ্চিতকরণ দেয়নি। তারা মূল সমস্যা থেকে আলাদা থেকে গ্রাউন্ড স্ট্যান্ডার্ড নিরাপত্তা protocols নিয়ে আলোচনা করেছে। কিন্তু মূল ঘটনাটির উপর তাদের কোনো অবস্থান নেওয়া হয়নি। ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো সন্তুষ্টি বা নিশ্চিতকরণ আসেনি। ফলে, বাংলাদেশ এই সিদ্ধান্তে অটল থাকছে যে, তারা ভারতে খেলবে না।

উপদেষ্টা দাবি করেন, আইসিসি তাদের প্রকৃত সত্য বা পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে কোনো বিশ্বাসযোগ্য ব্যবস্থা বা আশ্বাস দেয়নি। এ কারণেই তারা মনে করে, ভারতের নিরাপত্তা এখনও সম্পূর্ণ চ্যালেঞ্জের মুখে। তিনি বলেন, মোস্তাফিজের ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি ভারত, তাহলে বাংলাদেশের অন্য ক্রিকেটার বা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা কি হবে? এই প্রশ্নটি তাদের মনোযোগ আকর্ষণ করছে।

এছাড়াও, তিনি জানান, আইসিসি মূল ঘটনা বা মোস্তাফিজের ঘটনাকে অপ্রাসঙ্গিক করে তার জাতীয় নিরাপত্তা স্ট্যান্ডার্ড নিয়ে আলোচনা করেছে, যা তারা সমর্থন করে না। মূল ঘটনাটির উপর কোনো অবস্থান বা সিদ্ধান্তে তারাও পৌঁছায়নি। ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও এই ঘটনার ব্যাপারে বুঝাতে বা নিশ্চয়তা দিতে কোনো চেষ্টা হয়নি।

সুতরাং, বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত প্রবলভাবে অটল—ভারতে না গিয়ে অন্য ভেন্যুতে খেলবে না। তারা আশা করছে, আইসিসি তাদের নিরাপত্তা বিষয়ক উদ্বেগ বিবেচনা করবে এবং শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হতে পারেন এমন বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। যেখানে নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা করে ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও অন্য কর্মকর্তারা বলছেন, তারা এখনও শ্রীলঙ্কাতেই বিশ্বকাপ খেলার জন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন। মুস্তাফিজের আইপিএল থেকে বাদ পড়া প্রসঙ্গে, তিনি বলেছেন, এটাকে একান্তই উসকানি হিসেবে দেখানো ভুল। মুস্তাফিজ নিজে সরেননি, ইনজুরিও হয়নি—এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তাদের এনওসি বাতিল করেনি। নিরাপত্তার আশঙ্কায় তাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

তিনি আরও জানিয়েছেন, ১৯৯৬ ও ২০০৩ বিশ্বকাপে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি থাকায় অন্য ভেন্যুতে খেলতে হয়েছে। তাই তারা এখনও আশা করছেন, সম্ভব হলে বিকল্প ভেন্যুতে খেলার সুযোগ পাবেন। তারা আইসিসির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে চলেছেন।

বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে, ক্রিকেটাররা এখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের মতামত বা আলোচনায় এখনো স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। তবে, তারা নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকলেও, ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট এই বিষয়গুলো মূলত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo