1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০১:১০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
গভর্নরের আহ্বান: সরকারি ফি-চার্জ আদায়ে বাংলা কিউআর ব্যবহার করুন বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন সাময়িক বরখাস্ত বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন সাময়িক বরখাস্ত তিস্তা বিপৎসীমার কাছাকাছি: চার জেলায় পানিবন্দি ৬ হাজার পরিবার আগামী পাঁচ দিনে দেশজুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা বিআইডব্লিউটিএ পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটপ্রহারে আহত রাফি মারা গেলেন মালয়েশিয়া সফর শেষ করে চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুজব ঠেকাতে পিআইডির ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রম অব্যাহত: তথ্যমন্ত্রী কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটপ্রহর; সাজিদ চৌধুরী রাফি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ

তারেক রহমানের ঘোষণা: বাংলাদেশ সবার আগে, নয় দিল্লি বা পিন্ডি

  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২৬

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের প্রতি তার unwavering অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি বা অন্য কোনো দেশের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশকে প্রথমে রাখবো আমাদের অগ্রাধিকার।’ এই অভিমত তিনি বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেটের পুণ্যভূমিতে প্রথম নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে ব্যক্ত করেন।

বিশ্লেষণে, তিনি বলেন, দেশ গড়ার মূল চাবিকাঠি হলো দেশের প্রতি সম্পূর্ণ অঙ্গীকার ও দায়িত্ববোধ। ভোটের জন্য আবেদন করে তিনি উল্লেখ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন। এই নির্বাচনে বিএনপি যদি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়ী হয়, তবে দেশের গণতন্ত্রের নতুন যে যুগ শুরু হবে, সেটি স্বৈরাচার মুক্ত ও মানুষের অধিকারের প্রতিশ্রুতি প্রদান করবে। তিনি সতর্ক করে দেন যে, ধানের শীষের বিজয় সাধন খুবই জরুরি।

ব্যাপক জনসমাগমে তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, তারা কি ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে পারবেন? উত্তরে সমর্থকেরা হাত তোলেন unanimously, এবং তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ‘ইনশাআল্লাহ’।

তিনি আবারও স্পষ্ট করে দেন, ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’ এ সময় বিএনপি’র পুরনো স্লোগান ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’ এর ব্যাখ্যাও দেন।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকারে গেলে মা-বোনদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চান। তিনি ব্যাখ্যা করেন, সিলেটের বহু মানুষ বিদেশে যায়, তাদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবেন। কাজের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে সচেষ্ট থাকবেন।

এ সময় তিনি বলেন, যারা পালিয়ে যায়, তারা ভোট ও মুক্তিসহ স্বাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়; তারাই ইলিয়াস আলী, দিনার ও শতাধিক মানুষের হত্যাকারী, গুম-খুনের মামলায় জর্জরিত করে। গত ১৬ বছরে দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার, উন্নয়নের নামে অর্থ লুটের ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই অবস্থা পরিবর্তন করে দেশের উন্নয়ন চান।

অন্যশ্রেণীর ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতি সতর্কতা জ্ঞাপন করে বললেন, দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে তিনি বেশ সুসম্পন্ন থাকবেন। তিনি জনতাকে জানান, আগামীতেও তারা ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে।

জনসভায় উপস্থিত কিছুকজনকে মনে করিয়ে দিতে তিনি একজনকে মঞ্চে ডেকে নিয়ে বলেন, ‘আপনার নাম কি?’ উত্তরে তিনি ‘এটিএম হেলাল, সুনামগঞ্জ’ বলেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন, “তুমি কি কাবা শরীফের মালিক?” উত্তরে হেলাল বলেন, “আল্লাহ।” তারেক রহমান বুঝিয়ে বলেন, “অর্থাৎ পৃথিবীর মালিকও আল্লাহ। তাহলে অন্য কেউ বেহেশত বা দোযখের মালিক কি হতে পারে?” — এই মৌলিক প্রশ্নের উত্তরে জনতার উত্তর দেন, “আল্লাহ।” তখন তিনি মনে করিয়ে দেন, “আল্লাহর মালিকানা ছাড়া অন্য কেউ কিছু দিতে পারে না। সেহেতু, যারা বেহেশত বা স্বর্গের কথা বলে, তারা শিরক করছে। কারণ, তাদের মালিক একমাত্র আল্লাহ।”

বক্তা ব্যক্তি আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালে লক্ষ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে আমাদের মাতৃভূমি স্বাধীন হয়েছে। স্বাধীনতা মহান ব্যক্তিদের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও সাহসিকতায় সম্ভব হয়েছে, আর সেই মানুষদের দ্বারা এই দেশ পরিচালিত হয়েছে। তাই আমাদের একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে, মিথ্যার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। এসো, ফিরে যাওয়াকে টেক ব্যাক বাংলাদেশে রূপান্তর করি।’

তিনি আরও বলেন, দেশের স্বার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় এখনই খাটা প্রয়োজন, কেবল ভোটের অধিকার দিয়ে নয়, প্রত্যেকের সক্ষমতা ও স্বাবলম্বী হওয়ার ব্যবস্থা করতেই হবে। মানুষের জীবন মান উন্নত করতে, নিরাপদে চলাচলের সুবিধা প্রদান করতে হবে, এই মূল লক্ষ্যই হলো—‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’।

তিনি মনে করেন, গত ১৫ বছরে দেশের উন্নয়নের নামে অন্যায়ভাবে সম্পদ লুটপাট হয়েছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি বা অন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভরতা নয়, আমাদের স্বার্থে সবসময় প্রথমে বাংলাদেশ।’

তারেক রহমান বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, দেশের সব মানুষ আমাদের সত্যিকারের শক্তি। তাই, দেশের উন্নয়নের জন্য তারা সবাইকেই পাশে পেতে চাই। শুধুমাত্র ভোটের অধিকার নয়, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীতার জন্যও কাজ করা হবে। তার ভাষায়, ‘শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার সময় দেশের উন্নয়নকাজ চলেছিল, কলকারখানা গড়ে উঠেছিল, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছিল। এই কারণেই আবার বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ করতে চাই।’

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আগামী ১২ তারিখের ভোটে জয় লাভ করে দেশ পরিচালনা করবেন, যেন ন্যায়ের পথে দেশ চালানো যায়। তিনি সবশেষে বলেন, ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।’

বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংবর্ধনা ও কার্যক্রম পরিচালনা করেন জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতারা। বক্তৃতা করেন বিএনপির অন্যান্য প্রার্থী-নেতারা, যারা দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২:২৫ মিনিটে জনসভার মঞ্চে ওঠেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজে। সকলে তাকে হাত তুলে স্বাগত জানান, সমর্থকদের উল্লাসে মঞ্চ প্রকম্পিত হয়। এর আগে সূর্যোদয় থেকে শুরু হয় কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে পুরো আয়োজন।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo