1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ইসি অনলাইনে নয়, ম্যানুয়ালি ইস্যু করবে সাংবাদিক কার্ড নির্বাচন কমিশন: সরকারি কর্মকর্তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রচারণা চালাতে পারবেন না দুদক অনুমোদন: প্রিমিয়ার ব্যাংকের ইকবাল ও সালাম মুর্শেদীসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা নির্বাচনে নেই যারা, তাদেরকেই গণ্ডগোলের কথা বলছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ঢাকা–করাচি নন-স্টপ ফ্লাইট কাল থেকে শুরু ড. মুহাম্মদ ইউনূস না আসায় ৩৩২ নম্বর এআইকে পাঠালেন প্রধান উপদেষ্টা ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা স্থগিতের জন্য রিট দাখিল অ্যামনেস্টির মহাসচিবের খোলা চিঠি প্রধান উপদেষ্টার কাছে ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট শুরু হচ্ছে কাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেবে না: রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনস

ভেনেজুয়েলার পর ট্রাম্পের নজরে ইরান ও কিউবা: পাঁচ দেশের রাজনীতি ও চ্যালেঞ্জ

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য তার পররাষ্ট্রনীতির নতুন উচ্চাকাঙ্ক্ষার গল্প আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এক নাটকীয় রাতের অভিযানে কারাকাসের শক্তিশালী ও সুরক্ষিত প্রেসিডেন্ট ভবন থেকে প্রেসিডেন্ট Nicolás Maduro ও তাঁর স্ত্রীর गिरफ्तारी ঘটিয়ে তিনি ভেনেজুয়েলাকে নিয়ন্ত্রণের হুমকি দিয়েছেন। এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ট্রাম্প ১৮২৩ সালে মার্কিন প্রশাসনের মনরো ডকট্রিনের আভাস তুলে ধরেছেন, যা লাজুকভাবে পূর্বে বিদেশি শক্তিগুলোর ব্যাপারে মার্কিন হস্তক্ষেপের নীতিকে নির্দেশ করে। ট্রাম্প এই নীতিটিকে তিনি নতুন করে নাম দিয়েছেন ‘ডনরো ডকট্রিন’, যা দক্ষিণ আমেরিকার নতুন করে রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকাণ্ডে নজরদারির নির্দেশ দেয়।

গত কয়েক দিনের মধ্যে ওয়াশিংটনের প্রভাবশালী দিকনির্দেশনা অন্যান্য দেশেও ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে। যেমন, ডেনমার্কের গ্রিনল্যান্ডে রয়েছে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি পিটুফিক স্পেস বেস, যা ট্রাম্পের জন্য বিশেষ উল্লেখযোগ্য। এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলছেন, পুরো দ্বীপটি তাঁরা দখল করতে চান, কারণ তা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, এই অঞ্চলটি ‘রুশ ও চীনা জাহাজে ভরে গেছে’ বলে তিনি মনে করেন।

ডেনমার্কের এই আর্কটিক দ্বীপটি বিরল খনিজে সমৃদ্ধ, যা আধুনিক প্রযুক্তির জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে চীন এই খনিজ উৎপাদনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে। গ্রিনল্যান্ডের বহুস্তরীয় ভূখণ্ড উত্তর আটলান্টিকের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থান দখল করে আছে এবং আর্কটিক সার্কেলে প্রবেশের দ্বার খুলছে। তবে ডেনমার्कের প্রধানমন্ত্রী জেন্স ফ্রেডরিক নিলসেন এই প্রস্তাবকে ‘কল্পনা’ বলে অভিহিত করে বলেছেন, আলোচনায় তারা উন্মুক্ত, তবে আন্তর্জাতিক আইনের সম্মান রাখতে হবে। ফ্রেডরিকসেন আরও সতর্ক করে দিয়েছেন, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্য কেউ ন্যাটো দেশকে আক্রমণ করে, তবে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠবে।

অপরদিকে, ভেনেজুয়েলার প্রতিবেশী কলম্বিয়া বিশাল তেল ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। সেখানে ট্রাম্পের নির্দেশে চলমান আরও কঠোর মনোভাব ও আলোচনায় থাকা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন। বেশ কয়েক বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে সোচ্চার এবং কোকেনের কার্টেলগুলোর সঙ্গে লড়াই চালাচ্ছে। মার্কিন প্রশাসন ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই কলম্বিয়াকে সবসময় গুরুত্বপূর্ণ দেহাবরণ করেছে।

ইরান বর্তমানে ব্যাপক সরকার বিরোধী বিক্ষোভের সম্মুখীন, যেখানে ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়েছেন, আরও যেন বিক্ষোভে হতাহতের ঘটনা না ঘটে। তিনি বলেছেন, আমরা খুবই নজরদারি করে রয়েছি, আর যদি তারা অতীতের মতো মানুষ হত্যা চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কঠোরভাবে আঘাত করবে। এই পরিস্থিতি ‘ডনরো ডকট্রিনের’ বাইরে নয়, তবে গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের পরমাণু স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার পরে আরও কঠোর পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। এই হামলা হয় ইসরায়েলে চালানো এক বৃহৎ অভিযানের অংশ, যার লক্ষ্য ছিল ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির ক্ষমতা ধ্বংস।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মার-এ-লাগোতে বসে ইরানের জন্য বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যেখানে ইরানকে ভবিষ্যতের হামলার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অবশেষে, মেক্সিকো সম্পর্কেও ট্রাম্পের মনোভাব সুস্পষ্ট। ২০১৬ সালে তার মূল স্লোগান ছিল-মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ। তার দখলে থাকাকালীন সময়ে তিনি এই বিষয়টিকে অগ্রাধিকার হিসেবে দেখিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, মেক্সিকো থেকে মাদক ও অবৈধ আমদানি ঠেকানোর জন্য খুবই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। এই বিষয়ে তারা খুব শক্তিশালী কার্টেল দ্বারা পরিচালিত, যা মোকাবেলা অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু অন্যদিকে, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাম ব্যাপক বিরোধিতা জানিয়েছেন।

সবশেষে, কিউবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ দিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। ১৯৬০-এর দশকের শুরু থেকে এই দ্বীপ রাষ্ট্রটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে, এবং এখন ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, পরিস্থিতি যদি পতনের মুখে আসে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন পড়বে না। তিনি বলছেন, কিউবা এখন পতনের দোরগোড়ায়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তারা ভেনেজুয়েলার সঙ্গে প্রত্যক্ষ অর্থনৈতিক সম্পর্কের মাধ্যমে চলেছে, যা এখন বিপদজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও ঢের দিন ধরে আশা প্রকাশ করেছেন যে, শাসন পরিবর্তন হয়ে কিউবায় নতুন সরকার প্রতিষ্ঠা এই অঞ্চলের জন্য শুভ হবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo