1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৫০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ইসি অনলাইনে নয়, ম্যানুয়ালি ইস্যু করবে সাংবাদিক কার্ড নির্বাচন কমিশন: সরকারি কর্মকর্তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রচারণা চালাতে পারবেন না দুদক অনুমোদন: প্রিমিয়ার ব্যাংকের ইকবাল ও সালাম মুর্শেদীসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা নির্বাচনে নেই যারা, তাদেরকেই গণ্ডগোলের কথা বলছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ঢাকা–করাচি নন-স্টপ ফ্লাইট কাল থেকে শুরু ড. মুহাম্মদ ইউনূস না আসায় ৩৩২ নম্বর এআইকে পাঠালেন প্রধান উপদেষ্টা ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা স্থগিতের জন্য রিট দাখিল অ্যামনেস্টির মহাসচিবের খোলা চিঠি প্রধান উপদেষ্টার কাছে ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট শুরু হচ্ছে কাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেবে না: রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনস

মির্জা ফখরুলের আহ্বান: গণতন্ত্র রক্ষায় মব ভায়োলেন্স থেকে সরে আসার প্রয়োজন

  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫

দেশে সত্যিকারভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে ‘মব ভায়োলেন্স’ বা গুলির মাধ্যমে সমর্থন সংগ্রহের পথে এগোনো যাবে না—এই স্লোগান উচ্চারণ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো, অন্যের মতামতকে সহ্য করা। তিনি ব্যাখ্যা করেন, যে ব্যক্তি বলে, আমি নিজের কথা বলবো, কিন্তু অন্যের বক্তব্যকে মেনে নিতে পারি না; এসে অস্ত্রের মুখে দমন-পীড়ন চালানো, লাঠিচার্জ বা হামলা-লোটের মধ্য দিয়ে হয়তো কিছু সময়ের জন্য ক্ষমতা ধরে রাখা যায়, কিন্তু এটাই গণতন্ত্র নয়। এটা মনে রাখতে হবে, গণতন্ত্রের মূল চেতনা হলো, মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করা—এবং সেটি অবাধে চালিয়ে যাওয়া। এই কথাগুলো বুধবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে গুলশানের লেকশোতে এক আলোচনা সভায় বলেন তিনি। এটি ‘চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে বিএনপি’ শীর্ষক গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসবের অংশ, যেখানে এর আগে গণঅভিযান নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্রও দেখানো হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, “গণতন্ত্রের প্রধান সুর হলো, আমি অন্যের মতের প্রতি সম্মান সহকারে মেনে নিতে শিখি। আমি যদি আমার স্বাধীনতা কাজে লাগানোর জন্য চেষ্টা করি, তবে সেটি মানসম্পন্ন অবদান। তবে দুর্ভাগ্যবশত আমরা অনেক সময় অন্যের মতামতকে মানতে পারি না, বরং তাকে উপদ্রব করে উড়িয়ে দিতে চাই। আমাদের এই মনোভাব পরিবর্তন করে গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি তৈরিতে এগিয়ে আসতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “দেশে যদি সত্যিকার অর্থে স্থায়ী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাই, তাহলে আমাদের অবশ্যই গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে, যেমন বিচার ব্যবস্থা, মিডিয়া, পার্লামেন্ট—এসবের স্ব autónদ্ববতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, আইনের শাসন ও মানবাধিকার রক্ষা জরুরি।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “অপরাধ ও বিশৃঙ্খলা যেখানে দেখা যায়, সেখানে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পরিবর্তে কিছু মহল যেন পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে চাইছে। এই বিষয়গুলো আমাদের গভীরভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। যাতে বিভৃতি সৃষ্টি না হয় এবং সত্যের পথে থাকা যায়।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “বিএনপি কোনও বিপ্লবিক দল নয়; আমরা একজন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি। গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি এবং এর জন্য জীবন বাজি রেখে লড়াই করি। আমাদের গন্তব্য হলো, সব ধর্ম, বর্ণ, মতের মানুষের একসঙ্গে শান্তিপূর্ণ আর সুপ্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র গড়ে তোলা।”

আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগ নেতাদের কিছু রায়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মির্জা ফখরুল কিছু হতাশার কথা বলেন, যেখানে ফ্যাসিস্ট সরকারের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হচ্ছে, আবার একই সঙ্গে মব ভায়োলেন্স ও গুলির ঘটনা অব্যাহত থাকছে। তিনি বলেন, “এ ধরনের পরিস্থিতিতে একটি বিশেষ মহল হয়তো সরকারি রায়ের গুরুত্বকে ক্ষুণ্ণ করতে চাচ্ছে, যাতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। আমাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, “আমরা সবাই জানি, বিএনপি কোনও বিপ্লবী দল নয়; আমরা লিবারেল ডেমোক্রেট পার্টি। গণতন্ত্রের জন্য কাজ করতে আমরা জোরপূর্বক লড়াই করি এবং আমাদের ভেতরে কোনও বিপ্লবের ধারণা নেই। এই দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করে এসেছে।”

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, “আমরা সবাই চেসে-চাপিয়ে বা বিদ্বেষ দিয়ে দমন-পীড়ন চালানো বন্ধ করতে হবে। সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সকল পর্যায়ে বিশ্বাসের ভিত্তিতে একযোগে কাজ করতে হবে। তবেই আমরা একটি শান্তিপূর্ণ এবং শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়তে পারবো।”

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo